অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদারে আবারো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তাগিদ
মার্চের মধ্যে ব্যাংকের সুদ ব্যবধান না কমালে ব্যবস্থা
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:২০
অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করতে ব্যাংকগুলোকে আবারো নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধানদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উপরই ব্যাংকের সুশাসন অনেকাংশে নির্ভরশীল হলেও আপনারা এদিকে যথাযথ মনোযোগ দিচ্ছেন না। অন্যদিকে স্প্রেড, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনের পরিপালনে ব্যাংকগুলোর দীর্ঘসূত্রতা, অসুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ঋণ অধিগ্রহণ, ঋণ গ্রহীতাদের ক্রেডিট রিস্ক গ্রেডিং (সিআরজি) নির্ধারণ না করে ঋণ প্রদানের প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে গভর্নর এসব কথা বলেন। এতে বিভিন্ন ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের শুরুতে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন গভর্নর। তিনি বলেন, এসব অগ্রগতির মধ্যেও কিছু বিষয় অর্থনীতির জন্য চ্যালেঞ্জ। ওই সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ও সুদৃঢ় বুনিয়াদ অব্যাহত রাখতে হলে শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিজ নিজ ব্যাংকে কর্পোরেট সুশাসন, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরীক্ষা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মানে উত্কর্ষ বজায় রাখায় সক্রিয় ও অবিচ্ছিন্ন মনোযোগ রাখার বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে গভর্নর বলেছেন, কোন কোন ব্যাংকে ঋণ মঞ্জুরির আগে তহবিল ব্যবস্থাপনা বিভাগের মতামত নিচ্ছেন না বা নিলেও তা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হয় না। আবার কোন কোন ব্যাংক তার তহবিলের সার্বিক অবস্থা বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি স্ব স্ব পরিচালনা পর্ষদকেও অবহিত করছে না। অন্যদিকে কিছু ব্যাংক তাদের আর্থিক লেনদেনের হিসাবভুক্তির ক্ষেত্রেও অনিয়ম করছে; যা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। যেমন, মাসিক, ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে শাখা থেকে মুনাফা স্থানান্তর না করা সত্ত্বেও শুধুমাত্র রিপোর্টিং-এর জন্য হিসাব বিবরণীতে তা প্রদর্শন করছে, কোন ভাউচার পাস না করেই প্রভিশন দেখানো হচ্ছে; যা খুবই উদ্বেগজনক। এসব অনিয়ম ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক সুস্থতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করে এবং ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় মাত্রাতিরিক্ত ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। একারণে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ব্যাংকের এমডি ও সিওদের অনুরোধ জানান তিনি।
স্প্রেড বিষয়ে গভর্নর বলেন, বারবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও ব্যাংকিং খাতের আমানত ও ঋণের সুদ হার ব্যবধান (স্প্রেড) এখনো ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ রয়েছে। গত কয়েক মাসের স্প্রেড পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিদেশি ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকের স্পেড ৭ শতাংশের উপরে এবং বেশকিছু ব্যাংকের স্প্রেড ৫ শতাংশের ওপরে রয়েছে। আগামী মার্চ ২০১৩ ত্রৈমাসিকের মধ্যে স্প্রেড ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে না আনলে লেন্ডিং রেটের ধারা এবং অন্যান্য চার্জের বিষয়ে আরো গভীরতর বিশ্লেষণ সাপেক্ষে আমরা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে উপযুক্ত রেগুলেটরি সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করবো না। সূত্র মতে, এর আগের সভায় অনিয়ম রোধে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব তদারক বাড়াতে বলা হয়েছিলো। এবারে সে বিষয়ে তাদের অগ্রগতি কি সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। এছাড়া মুদ্রানীতির বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।