কক্সবাজারে শপথ বঞ্চিতদের
ডাকে হরতাল পালন
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৩২
নির্বাচনের ২ বছর পরও কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাচিত মেয়র-কাউন্সিলরদের শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন না হওয়ার প্রতিবাদে গতকাল রবিবার সেখানে ৮ ঘন্টার স্বতঃস্ফূর্ত হরতাল পালিত হয়। হরতাল চলাকালে শহরে জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়ে। হরতাল পালনকালে বিক্ষুব্ধ জনতা রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে এবং টায়ার জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচলে বাধা দেয়। এসময় পুলিশ ও র্যাবের অবস্থান ছিল মারমুখি। ভোর ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ৮ ঘন্টার হরতাল চলাকালে পুলিশের লাঠিপেটায় ২ পিকেটার আহত হয়। এছাড়া পুলিশ ৩ জনকে আটক করে। হরতাল চলাকালে দূরপাল্লার কোন বাস শহরে আসা-যাওয়া করেনি। রিক্সা, ট্যাক্সি, টমটমসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচলও ছিল খুবই কম। অধিকাংশ অফিস-আদালত, দোকানপাট, ব্যাংক-বীমাও ছিল বন্ধ।
জানা যায়, নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী ২০১১ সালের ১৮ জানুয়ারি কক্সবাজারের ৪টি পৌরসভায় ভোট গ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু এর আগে জনৈক কার্তিক দাশ জেলার বিভিন্ন উপজেলার ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গারা অন্তর্ভুক্ত আছে মর্মে অভিযোগ এনে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন। ওই রিটের প্রেক্ষিতে ২০১০ সালের ১৫ ডিসেম্বর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ কক্সবাজার সদর, টেকনাফ, চকরিয়া ও মহেশখালী পৌরসভার নির্বাচন এক মাসের জন্য স্থগিত করেন। তবে হাইকোর্টের ওই আদেশের স্থগিতাদেশ চেয়ে চেম্বার জজের আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করলে আদালত হাইকোর্ট আদেশের কার্যকারিতা ৬ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন। ফলে নির্বাচন কমিশন জেলার ৪টি পৌরসভার নির্বাচনের পুনঃতফসিল ঘোষণা করে। ওই তফসিল মতে ২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করে। কিন্তু এরপর নির্বাচিতদের শপথ নিয়ে শুরু হয় নানা নাটকীয়তা। ১৯ ফেব্রুয়ারি বিভাগীয় কমিশনারের কাছে শপথ নেয়ার জন্য নির্বাচিতদের চট্টগ্রামে ডাকা হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে ওইদিন ৩ বার সময় পরিবর্তনের পরও শপথ গ্রহণ হয়নি। পরে আবারও কয়েকটি তারিখ দেয়া হয়। কিন্তু সেই তারিখেও জনপ্রতিনিধিরা যথাসময়ে চট্টগ্রামে হাজির হলেও শপথ অনুষ্ঠান হয়নি। সর্বশেষ ওই বছরের মে মাসে কক্সবাজার সদর বাদ রেখে বাকী ৩ পৌরসভার নির্বাচিত মেয়র-কাউন্সিলরদের শপথ অনুষ্ঠান হয়।