সান্ত্বনার জয় দিয়ে শেষ করলো ইংল্যান্ড
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৪৯
জয় দিয়ে ভারত সফর শেষ করলো সফরকারী ইংল্যান্ড। ইয়ান বেলের অনবদ্য সেঞ্চুরিতে ধর্মশালায় শেষ ও পঞ্চম ম্যাচে স্বাগতিক ভারতকে ৭ উইকেটে হারায় ইংলিশরা। তবে পাঁচ ম্যাচের সিরিজটি ৩-২ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে ওয়ানডে বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ভারত। ফলে ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে যৌথভাবেই শীর্ষে থাকল ভারত ও ইংল্যান্ড।
সকালে উইকেটের ময়েশ্চার কাজে লাগাতে টস জিতেই প্রথমে ভারতকে ব্যাটিং-এ আমন্ত্রণ জানায় ইংল্যান্ড। সফরকারী অধিনায়ক অ্যালিষ্টার কুকের সিদ্ধান্তটা যে শতভাগ সঠিক ছিল তা ভারতীয় ইনিংসের প্রথম সাত ওভারের দিকে চোখ বুলালেই তা স্পষ্ট হয়ে উঠে। ২৪ রানের মধ্যে উপরের সারির সেরা তিন ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে খাদের কিনারায় পড়ে ভারত। আগের ম্যাচের হাফ-সেঞ্চুরিয়ান রোহিত শর্মা ৪, বিরাট কোহলি ও যুবরাজ সিং শূন্য হাতে ফিরেন প্যাভিলিয়নে।
ইংলিশ পেসার টিম ব্রেসনান ও স্টিভেন ফিনের তোপে বেকাদায় পড়ে যাওয়া ভারতকে এরপর টেনে তোলার চেষ্টা করেন গৌতম গম্ভীর ও সুরেশ রায়না; কিন্তু জুটিতে বাধ সাধেন স্পিনার জেমস ট্রেডওয়েল। গম্ভীরকে ২৪ রানে ফিরিয়ে দিয়ে ভারতকে আরো চাপে ফেলে দেন ট্রেডওয়েল। সেই চাপটা আরো বড় আকার ধারণ করে দলীয় ৭৯ রানে অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির বিদায়ে। মাত্র ১৫ রান করে ফিনের দ্বিতীয় শিকার হন তিনি। ফলে ৫ উইকেটে ৭৯ রানে পরিণত হয় ভারত। অল্প রানে গুটিয়ে যাবার শঙ্কা যখন প্রবলভাবে উঁকি-ঝুঁকি মারছে ভারতের সামনে, ঠিক তখনই দাপটের সাথে ব্যাট চালাতে থাকেন ইনফর্ম সুরেশ রায়না। সাথে সঙ্গী হিসেবে যোগ দেন অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজা।
ইংলিশ বোলারদের দেখেশুনে খেলে স্কোর বোর্ডে রান জড়ো করতে থাকেন রায়না-জাদেজা জুটি। বেশ ভালোই জমে ওঠা জুটিটা অবশেষে ভাঙ্গে জাদেজার ভুলের কারণে। ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে ট্রেডওয়েলের শিকার হলে সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে। ১টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬৫ বলে ৩৯ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন জাদেজা। জাদেজা ফিরে যাবার কিছুক্ষণ পর বিদায় নেন রায়নাও। তিনবার জীবন পাওয়া রায়না ওয়ানডে ক্যারিয়ারের হাফ-সেঞ্চুরি তুলে ৮৩ রানে আউট হন। তার ৯৮ বলের ইনিংসে ৮টি বাউন্ডারি ও ২টি ওভার বাউন্ডারির মার ছিল। আর এ ম্যাচে চার হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন রায়না। ১৭৭ রানের মধ্যে স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের বিদায়ে দুই শতাধিক রানের নিচে আটকে যাবার শঙ্কায় পড়ে ভারত; কিন্তু শেষ দিকে লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের কল্যাণে লড়াকু স্কোর পায় টিম ইন্ডিয়া। পেস বোলার ভুবেনশ্বর কুমারের ৩১ ও রবীচন্দ্রন অশ্বিনের ১৯ রানে ২২৬ রানে অল-আউট হয় ভারত। ইংল্যান্ডের পক্ষে ৪৫ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন টিম ব্রেসনান।
জয়ের জন্য ২২৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ভারতের পথে হাঁটেনি ইংল্যান্ড। দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান অ্যালিস্টার কুক ও ইয়ান বেলের সৌজন্যে শুরুতে ৫৩ রান পায় সফরকারীরা। বেশ সতর্কতার সাথে খেলতে থাকা কুককে বোল্ড করে ভারতকে প্রথম সাফল্য এনে দেন পেসার ইশান্ত শর্মা। ৪০ বলে ২২ রান করেন কুক। প্রথম সাফল্য পাবার কিছুক্ষণের মধ্যে দ্বিতীয় সাফল্যের দেখা পায় ভারত। অন্যপ্রান্ত দিয়ে কেভিন পিটারসেনকে ফিরিয়ে দিয়ে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন শামি আহমেদ। মাত্র ৬ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরেন পিটারসেন। এরপর তৃতীয় উইকেটে জুটি বেঁধে ইংল্যান্ডের জয়ের ভীত তৈরি করতে মনোযোগী হন ইয়ান বেল ও জো রুট। বেশ দাপটের সাথেই রান তুলতে থাকেন তারা। জুটিতে ৭৯ রান আসার পর তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ব্যক্তিগত ৩১ রানে আউট হন রুট।
তবে অন্যপ্রান্তে ব্যাট হাতে অবিচল ছিলেন বেল। ফলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে তৃতীয় সেঞ্চুরির দেখা পায় তিনি। আর ভারতের বিপক্ষে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো তিন অংকে পা রাখলেন বেল। এছাড়া চতুর্থ উইকেটে ইয়োইন মরগানের সাথে অবিচ্ছিন্ন ৮৪ রানের জুটি গড়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন বেল। তখনো ম্যাচের ১৬ বল বাকি ছিল। বেল ১১৩ ও মরগান ৪০ রানে অপরাজিত ছিলেন। ভারতের পক্ষে ১টি করে উইকেট নেন শামি, ইশান্ত ও জাদেজা। ম্যাচ সেরার পুরস্কার পান ইয়ান বেল। সিরিজ সেরার পুরস্কার জিতেন সুরেশ রায়না। -বাসস
স্কোর কার্ড
ভারত ইনিংস
গৌতম গম্ভীর ক বেল ব ট্রেডওয়েল ২৪
রোহিত শর্মা ক ট্রেডওয়েল ব ব্রেসনান ৪
বিরাট কোহলি ক ট্রেডওয়েল ব ব্রেসনান ০
যুবরাজ সিং ক মরগান ব ফিন ০
সুরেশ রায়না ক বেল ব ওয়াকস ৮৩
মহেন্দ্র সিং ধোনি এলবিডব্লিউ ব ফিন ১৫
রবীন্দ্র জাদেজা ক বেল ব ট্রেডওয়েল ৩৯
রবিচন্দ্রন অশ্বিন ক ফিন ব প্যাটেল ১৯
ভুবেনশ্বর কুমার ক ফিন ব ব্রেসনান ৩১
শামি আহমেদ ক এন্ড ব ব্রেসনান ১
ইশান্ত শর্মা অপরাজিত ০
অতিরিক্ত (লে-৪, ও-৬) ১০
মোট (অল-আউট, ৪৯.৪ ওভার) ২২৬
উইকেট পতন: ১/১৩ (রোহিত), ২/১৩ (কোহলি), ৩/২৪ (যুবরাজ), ৪/৪৯ (গম্ভীর), ৫/৭৯ (ধোনি), ৬/১৫৭ (জাদেজা), ৭/১৭৭ (রায়না), ৮/২১১ (অশ্বিন), ৯/২২৫ (ভুবেনশ্বর), ১০/২২৬ (শামি)।
বোলিং : স্টিভেন ফিন ১০-২-২৭-২ (ও-১), টিম ব্রেসনান ৯.৪-১-৪৫-৪ (ও-৩), ক্রিস ওয়াকস ৯-১-৪৫-১ (ও-১), জেমস ট্রেডওয়েল ১০-১-২৫-২ (ও-১), জো রুট ৫-০-৩৪-০, সামিত প্যাটেল ৬-০-৪৬-১।
ইংল্যান্ড ইনিংস
অ্যালিস্টার কুক ব ইশান্ত শর্মা ২২
ইয়ান বেল অপরাজিত ১১৩
কেভিন পিটারসেন ক জাদেজা ব শামি ৬
জো রুট ব জাদেজা ৩১
ইয়োইন মরগান অপরাজিত ৪০
অতিরিক্ত (লে-৮, ও-৭) ১৫
মোট (৩ উইকেট, ৪৭.২ ওভার) ২২৭
উইকেট পতন: ১/৫৩ (কুক), ২/৬৪ (পিটারসেন), ৩/১৪৩ (রুট)।
বোলিং: ভুবেনশ্বর কুমার ৯-১-৪৫-০ (ও-২), শামি আহম্মেদ ৯-১-৪৬-১ (ও-২), ইশান্ত শর্মা ১০-৩-৩৭-১, রবিচন্দ্রন অশ্বিন ১০-০-৫০-০ (ও-২), যুবরাজ সিং ২-০-১৫-০, রবীন্দ্র জাদেজা ৭.২-০-২৬-১ (ও-১)।
ফল: ইংল্যান্ড ৭ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: ইয়ান বেল (ইংল্যান্ড)। ম্যান অব দ্য সিরিজ: সুরেশ রায়না (ভারত)। সিরিজ: ভারত ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ জয়ী।