সুন্দরবনে পর্যটক কমে গেছে
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৫২
সুন্দরবনের পর্যটন ব্যবসা ক্ষতির মুখে পড়েছে। গত সপ্তাহে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মত্স্য ব্যবসায়ী মেজর (অব.) জিয়াউদ্দিন বনদস্যুদের গুলিতে আহত হওয়ার পর পর্যটন শিল্পেও এর প্রভাব পড়েছে। ট্যুর অপারেটররা জানিয়েছেন, অনেক পর্যটক বুকিং বাতিল করছেন, নতুনরা অনীহা দেখাচ্ছেন। তবে কোস্টগার্ডের দাবি, গত তিন মাসের মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন সবচেয়ে ভাল। সুন্দরবনে পর্যটনের এখন ভর মৌসুম, যার শুরু নভেম্বরে চলে মার্চ পর্যন্ত। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি এ তিন মাস হাজার হাজার পর্যটকের আগমনে মুখরিত থাকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এ বনভূমি। গত অর্থবছরে সুন্দরবনে চার হাজার বিদেশি পর্যটকসহ সোয়া দুই লাখ ভ্রমণকারীর আগমন ঘটে। সুন্দরবন ভ্রমণকারীদের জন্য যেমন সম্মোহনী তেমনি এডভেঞ্চার আর থ্রিলে ভরা। তাই সুন্দরবন ভ্রমণে আসতে গিয়ে অনেকে এর নিরাপত্তা নিয়ে ভাবেন। গত ১৮ জানুয়ারি দুবলার চরে যাওয়ার পথে মেজর জিয়া ও তার দেহরক্ষীদের সাথে বনদস্যুদের বন্দুকযুদ্ধ এবং তার আহত হওয়ার ঘটনা পর্যটকদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
ট্যুর অপারেটর রূপান্তর ইকোট্যুরিজমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল আযম ডেভিড এ প্রসঙ্গে ইত্তেফাককে জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধের সাব সেক্টর কমান্ডার ও দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের চেয়ারম্যান মেজর জিয়াউদ্দিন নিজেও একজন পর্যটন ব্যবসায়ী। সুন্দরবনের জেলে, বাওয়ালী, মৌয়ালসহ সকল বনজীবী এমনকি পর্যটন ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও মেজর জিয়া অত্যন্ত সক্রিয় ব্যক্তিত্ব। তাই ডাকাতরা তার উপর ক্ষুব্ধ হলেও কখনোই হামলা কিংবা গুলিবর্ষণ করার দুঃসাহস দেখায়নি। কিন্তু মেজর জিয়া গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সুন্দরবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কিছুটা হুমকির মুখে বলে মনে করা হচ্ছে। এ অবস্থায় সুন্দরবন পর্যটন ব্যবসায় নিয়োজিত দেশের ২৯/৩০টি ট্যুর অপারেটর সমস্যায় পড়েছে। আগ্রহী পর্যটকরা খোঁজ-খবর নিচ্ছেন সেখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে। ইতিমধ্যে একটি গ্রুপ তাদের প্রোগ্রাম শিফ্টও করেছেন। হলিডেস্ ট্যুরের প্রধান নির্বাহী বোরহান উদ্দিন জানান, ২৫ জনের একটি দল বুকিং করেছিলেন। ইতিমধ্যে এ প্যাকেজ বাতিল করেছে ভ্রমণকারীদের শংকাবোধের কারণে।
ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিত্সাধীন মেজর (অব.) জিয়া এ প্রতিনিধিকে বলেন, ঘটনার দিন বনদস্যুরা না জেনেই তার উপর গুলিবর্ষণ করেছিল। কিন্তু সুন্দরবনে ডাকাতদের উপদ্রব আশঙ্কাজনক। বর্তমানে সেখানে রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী সুন্দরবনের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নজরে রেখেছেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে। গত মঙ্গলবার বনদস্যু সর্দার জাকির র্যাবের সাথে ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে। এ অবস্থায় পর্যটকদের সেখানে যেতে কোন বাধা নেই। কোস্টগার্ডের পশ্চিম জোনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গত তিন মাসের মধ্যে সুন্দরবনের আইন-শৃঙ্খলা বর্তমানে সবচেয়ে ভাল অবস্থায় রয়েছে। মেজর জিয়ার উপর হামলার পর কোস্টগার্ডের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।