অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকির মধ্যেই ছিলো ‘স্মার্ট’ গার্মেন্টস

অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকির মধেই ছিলো রাজধানীর মোহাম্মদপুর বেড়ীবাঁধ সংলগ্ন আবছার খান মার্কেটের দোতলায় স্মার্ট এক্সপোর্ট গার্মেন্টেস। এই গার্মেন্টসের ভিতরে কাজের জন্য যে অংশ ব্যবহার হতো তা ছিলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ অবস্থার মধ্যেও গত শনিবার কারখানার নষ্ট বয়লার চালানো হয়েছিল। কারখানার পরিবেশ দেখে অনেকেই মন্তব্য করেছেন, ঝুঁকিপূর্ণ এমন পরিবেশে কাজ করতে গিয়ে এতদিন যে দুর্ঘটনা ঘটেনি সেটাই সৌভাগ্য। ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কথা স্বীকার করেছে অনুসন্ধানে আসা একাধিক তদন্ত দল। অপরদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মালিক পক্ষের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ করে নিহত গার্মেন্টকর্মী রাজিয়ার পিতা বাদি হয়ে গত শনিবার রাতে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শরিফ, ব্যবস্থপনা পরিচালক জাকির আহমেদ ও কর্মকর্তা সুভাষসহ আরো তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে আসামিরা মোবাইল ফোন বন্ধ করে পলাতক। তাদেরকে গ্রেফতার করতে থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবিও তত্পর রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, কারখানা প্রতিষ্ঠায় নিয়মের কোনো ধারই ধারেনি কর্তৃপক্ষ। অনেক পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবনে পোশাক কারখানার কোনো পরিবেশ নেই। ধ্বংস্তূপ দেখে যে কেউ ধারণা করতে পারবে, এখানে কাজের উপযোগী পরিবেশ ছিলো না। এত অল্প জায়গায় ঘিঞ্জি পরিবেশে তিনশ শ্রমিক কাজ করতো। কারখানাতে আগুন নেভানোর জন্য কার্বন-ডাই-অক্সাইড সিলিন্ডার ছিল না। বালু ভর্তি টিনের একটি লাল বালতি ছাড়া আর কিছুই দেখা যায়নি। শ্রমিকরা জানিয়েছে, আগুন নির্বাপণ করার কোনো ব্যবস্থা ছিল না কারখানার মধ্যে। কারাখানাটির কোনো বৈধ অনুমোদন ছিল না। অনুমোদনহীন অবস্থায় দুই বছর ধরে কাজ চলছিল। কারখানাটি ঢাকার অন্যান্য কারখানা থেকে সাব-কন্ট্রাক্ট নিয়ে পোশাক তৈরি করতো। ঘটনাস্থলে কথা হয় বেঁচে যাওয়া অনেক শ্রমিকের সঙ্গে। সবার অভিযোগ, গাফেলতি মালিকপক্ষের। আগুন লাগার পরপরই কারখানার ভিতরে প্রায় ৫ হাজার পিচ ফোম জ্যাকেটসহ অন্যান্য কাপড়ে আগুন ধরে যায়। কেমিক্যালের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দ্বিতল ভবনের দুই পাশে দুইটি সিঁড়ি থাকলেও অগ্নিকাণ্ডের সময় একটি বন্ধ ছিল। ওঠা-নামার যে পথটি খোলা ছিল সেটি এত অপরিসর যে, একসঙ্গে দুই জন মানুষের চলা দুরূহ। এমন পরিস্থিতিতে আগুন লাগার পর প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টায় আতঙ্কিত শ্রমিকরা হুড়োহুড়ি করে এবং সাতজনের মৃত্যু ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা অনুসন্ধানে গতকাল সকালে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন পরিদর্শন করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের তদন্ত দল। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তদন্ত দলের প্রধান উপ-সচিব হাবিবুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা পাওয়া গেছে, এই কারখানার কোনো অনুমোদন ছিল না। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত দলের প্রধান উপ-পরিচালক (অপারেশন) ভারত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, এই প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো নিশ্চিত ধারণা পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে সিগারেটের আগুন, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট ও আরো কারণ সামনে রেখে তদন্ত চলছে। আগুন নিভানোর নিজস্ব কোনো ব্যবস্থা ছিল না বলেও প্রাথমিক তদন্তে ধারণা পাওয়া গেছে।