আওয়ামী লীগ চায় যথাসময়ে নির্বাচন, প্রস্তুত নয় বিএনপি
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২৫
যথাসময়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে— এমন লক্ষ্যকে সামনে রেখে মাঠ গুছিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আগামী এপ্রিল অথবা মে মাসে সিটি নির্বাচন হবে এমন ধারণা থেকেই আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা নির্বাচনী মাঠ গরমে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে।
কিন্তু তাতে ঘুম ভাঙ্গছে না প্রধান বিরোধী দল বিএনপির। নির্বাচন ও প্রার্থিতা নিয়ে নিজেদের মধ্যে সংশয় থাকায় তারা সিটি নির্বাচন নিয়ে খুব একটা ভাবছে না।
মেয়র প্রার্থী ছাড়াও সম্ভাব্য আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থীরা পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করবেন— এমন নতুন মুখের প্রার্থীরা শুভেচ্ছা পোস্টার ও শীতবস্ত্র বিতরণের মধ্য দিয়ে চালাচ্ছেন প্রচার-প্রচারণা, চেষ্টা করছেন ভোটারদের মন কাড়ার। বিএনপি দলীয় কাউন্সিলররা এ প্রতিযোগিতায় থাকলেও তাদের মধ্যে নতুন মুখের আবির্ভাব কম।
আওয়ামী লীগের মূল সারির নেতারা বর্তমান সিটি মেয়র শওকত হোসেন হিরনকে নিয়েই আগামী ভোটের লড়াইয়ে নামার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে। সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করছে। কিন্তু এর বাইরে যুবলীগ নেতা মাহমুদুল হক খান মামুন মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী লড়াই করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনিও বিভিন্ন ওয়ার্ডে সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। আর বর্তমান মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত হোসেন হিরন কাউন্সিল করে গত দুই মাসে ৩০ ওয়ার্ডের প্রায় প্রতিটিতেই নতুন কমিটি গঠন করেছেন। নতুন ওয়ার্ড কমিটির পাশাপাশি কে কোন্ ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচন করবেন তার সিদ্ধান্তও তিনি জানিয়ে দিচ্ছেন।
সর্বশক্তি নিয়ে আওয়ামী লীগ যখন সিটি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত তখন বিএনপিতে নেই কোন নির্বাচনী আমেজ। সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র মজিবর রহমান সরোয়ার বর্তমানে সদর আসনের এমপি। কারাবন্দী থাকায় তিনি গত সিটি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। সরোয়ার যখন মেয়র নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন তিনি তখন ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ। সেই থেকেই বিএনপির একক নিয়ন্ত্রণ কর্তা মজিবর রহমান সরোয়ারের দিকেই তাকিয়ে আছেন মূল সারির নেতা-কর্মীরা। কিন্তু এখন নির্বাচনে অংশ নিতে হলে মজিবর রহমান সরোয়ারকে জাতীয় সংসদের সদস্য পদ ছাড়তে হবে। দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত ছাড়া সরোয়ার এমন সিদ্ধান্ত নেবেন না বলেই মনে করছেন দলীয় নেতা-কর্মীরা। সেক্ষেত্রে প্রার্থী হিসেবে সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র ও সাবেক পৌর চেয়ারম্যান জেলা বিএনপির সভাপতি আহসান হাবিব কামালের প্রার্থিতা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করলেও শাসক দলের পক্ষ থেকে তাকে দেখা হচ্ছে দুর্বল প্রার্থী হিসাবে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, কোন্দলে বিপর্যস্ত বিএনপির একাংশের নেতা আহসান হাবিব কামাল দলের মধ্যেই কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে। বিগত নির্বাচনে তিনি মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিএনপির ভোট কাজে লাগাতে পারেননি।
২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে শওকত হোসেন হিরনের কাছে স্বতন্ত্র প্রার্থী সরফুদ্দিন সান্টু মাত্র ৫৫৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হলেও আহসান হাবিব কামাল মূল ভোট যুুদ্ধের ধারে-কাছেও আসতে পারেননি।
এদিকে সঠিক সময় নির্বাচন হলে বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী বলে মন্তব্য করেছেন বর্তমান মেয়র শওকত হোসেন হিরন। তিনি জানান, জাতীয় নির্বাচনের পরে সিটি নির্বাচন হলে সেক্ষেত্রে ভোটারদের মত পরিবর্তন হতে পারে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় তিনি নিজে পুনরায় মেয়র নির্বাচিত হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। দলের বিদ্রোহী প্রার্থী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, সাবেক চিফ হুইপ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম প্রকাশ্যেই আমাকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে জেলা ও মহানগর সম্মেলন চলাকালে ঘোষণা দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত দলে কোনো বিদ্রোহী প্রার্থীর নাম আমি শুনিনি। তাই মন্তব্য করতে পারছি না।’
যুবলীগ নেতা মাহমুদুল হক খান মামুন ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমি নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা আগেই দিয়েছি। দলের জন্য এত কাজ করার পর একটি নির্বাচন করার অনুমতি পাবো না- তা হয় না।’
এ ব্যাপারে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবর রহমান সরোয়ার এমপি ইত্তেফাককে বলেন, প্রার্থী হওয়া তো পরের কথা, সরকার নিজেই নির্বাচনে আগ্রহী নয়। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনসহ কয়েকটি নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার পাশাপাশি নির্বাচনকে পাশ কাটিয়ে তারা ক্ষমতা গ্রহণ করতে চাইছে। এ অবস্থায় বিএনপি কোনো সিটি কর্পোরেশন বা উপ-নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তবে বিরোধী দলের দাবি মেনে নিয়ে সরকার যে কোনো সময় নির্বাচন দিলে তিনি প্রার্থী হিসেবে প্রস্তুত রয়েছেন। নির্বাচনী কাজে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা থাকলেও বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা কেনো নেই—এমন প্রশ্নের জবাবে সরোয়ার বলেন, ‘আমরা এখন নির্বাচন নিয়ে ভাবছি না।’
একই কথা জানান, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম খান রাজন। তিনি বলেন, ‘প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার না কি আহসান হাবিব কামাল হবেন- এ বিষয়ে তফসিল ঘোষণার পর দল সিদ্ধান্ত নেবে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে নেতা-কর্মীরা নির্বাচনী মাঠে নামার যুক্তি খুঁজে পাচ্ছে না বলেই আমরা নির্বাচন থেকে সরে এসে দাবি আদায়ের আন্দোলনে রয়েছি।’