কুষ্টিয়ায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শীর্ষ সন্ত্রাসী এনামুল নিহত

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পল্লীতে পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের বন্দুকযুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী দলের শীর্ষ ক্যাডার এনামূল হক ওরফে এনামূল (৩৫) নিহত হয়েছে। সে চরমপন্থি সংগঠন পূর্ব বাংলা (এমএল) জনযুদ্ধের শীর্ষ ক্যাডার ছিল। শনিবার দিবাগত গভীর রাতে পুলিশের সঙ্গে চরমপন্থিদের বন্দুকযুদ্ধের সময় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৪টি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও তাজা বোমা উদ্ধার করেছে। সহকারী পুলিশ সুপার সিএ হালিম জানান, রাত সোয়া ২টার দিকে জেলার মিরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের সিদিরামপুর প্রাইমারী স্কুলের পিছনে চরমপন্থি এনামুলের নেতৃত্বে একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী অপরাধ সংঘটনের জন্য অবস্থান করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সন্ত্রাসীদের অবস্থান জানতে পেরে কুষ্টিয়ার ডিবি পুলিশ ও মিরপুর থানা পুলিশের টিম যৌথভাবে অভিযান পরিচালনার জন্য ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এসময় সন্ত্রাসীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে থাকে। সন্ত্রাসীদের গুলির জবাবে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে পুলিশ ৩২ রাউন্ড এবং সন্ত্রাসীরা প্রায় ২০/২৫ রাউন্ড গুলি চালায়। গোলাগুলির এক পর্যায়ে চরমপন্থি এনামূল গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় এবং তার সহযোগীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৩টি কাটা রাইফেল, ১টি এলজি, ৪টি তাজা বোমা ও ৮ রাউন্ড বন্দুকের গুলি উদ্ধার করে। এনামুলের বিরুদ্ধে ৪টি হত্যাসহ অন্যান্য অপরাধে মোট ৯টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানায়। পুলিশের তালিকাভূক্ত শীর্ষ এই সন্ত্রাসী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন আত্মগোপন অবস্থায় ছিল। পলাতক থাকলেও সে গোপনে বাহিনীর কার্যক্রম ও নানা অপরাধকর্ম নিয়ন্ত্রণ করতো। এদিকে শীর্ষ ওই চরমপন্থি সন্ত্রাসী এনামুলের নিহত হওয়ার খবরটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকার মানুষ স্ব্বস্তি প্রকাশ করে। এনামূল মিরপুর উপজেলার মুসাইনগর এলাকার মৃত রাফেজ মন্ডলের ছেলে। গতকাল রবিবার কুষ্টিয়া ২৫০ বেড হাসপাতালে নিহতের লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় মিরপুর থানায় মামলা হয়েছে।