জিএসপি সুবিধার জন্য লবিস্ট নিয়োগের পরামর্শ

সফররত যুক্তরাষ্ট্রের চার কংগ্রেসম্যান যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি তৈরি গার্মেন্টসের জিএসপি সুবিধা অব্যাহত রাখতে লবিস্ট নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছে। গতকাল রবিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির সঙ্গে আলোচনায় কংগ্রেস-ম্যানগণ এ পরামর্শ দেন। যুক্তরাষ্ট্রের চার প্রভাবশালী রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান দুইদিনের সফরে শনিবার বিকাল ঢাকা আসেন ও রবিবার রাতে ফিরে যান। জ্যাক কিংস্টনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সদস্য অপর তিন কংগ্রেসম্যান হলেন- এড হুইট ফিল্ড, স্কট টিপটন ও এডাম স্কিফ। কংগ্রেস প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গতকাল সকালে সাক্ষাত্ করেন। বিকালে তেজগাঁও শিল্প এলাকায় একটি রপ্তানিমুখি গার্মেন্টস কারখানা পরিদর্শন করেন। কংগ্রেস প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনার বিষয় প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক প্রেস ব্রিফিং এ জানান, কংগ্রেস সদস্যরা লবিস্ট নিয়োগের পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি তৈরি পোশাক শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পাওয়ার পক্ষে মত দেন। অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা বা জিএসপি অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। কংগ্রেসম্যানগণ মত দেন, বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা হচ্ছে। এর বাইরে আইনপ্রণেতাদের মধ্যে যোগাযোগ থাকা দরকার। এর ফলে আইনপ্রণেতারা ভূমিকা রাখতে পারবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন সময়ে লবিস্ট নিয়োগ করেছে। প্রয়োজনে বাংলাদেশও বৃহত্তর স্বার্থে লবিস্ট নিয়োগ করবে। কংগ্রেস প্রতিনিধি দল জিএসপি সুবিধা বহালের পক্ষে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার কথা বলেছেন। আমরা আশাবাদী। তারা বাংলাদেশ সম্পর্কে আরো জানতে আগ্রহী। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতিতে তারা সন্তুষ্ট। তারা ওয়াশিংটন ফিরে গিয়ে রিপোর্ট দেবেন। বাংলাদেশের গার্মেন্টসের নিরাপত্তা, কাজের পরিবেশ ও শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়নের ব্যাপারে অবহিত করেছি। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ও প্রাণহানি অনেক কমেছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। তবে কংগ্রেসম্যানদের সফরের সময় মোহাম্মদপুরের একটি গার্মেন্টসে আগুন ধরার ঘটনা কাকতালীয় না কোন সম্পর্ক আছে তা খুঁজে বের করতে হবে। গার্মেন্টস কারখানা পরিদর্শনে সন্তোষ প্রকাশ চার কংগ্রেসম্যান গতকাল বিকালে তেজগাঁও-এ একটি গার্মেন্টস কারখানা পরিদর্শন করেন।এবিষয়ে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফেকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা তেজগাঁও-এর সিপাল গার্মেন্টস পরিদর্শন করেছেন। বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সরকারের সংসদ সদস্য টিপু মুনশির মালিকানাধীন এ গার্মেন্টসটি মাঝারি মানের। এর চেয়ে অনেক বেশি কমপ্লায়েন্স এবং অনেক নিম্নমানের উভয় ধরনেরই গার্মেন্টস দেশে রয়েছে বলে প্রতিনিধি দলকে জানানো হয়েছে। এ গার্মেন্টস দেখে তারা সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। গার্মেন্টসের বাইরেও ইউএসএইডসহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে তারা বিজিএমইএ নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। গার্মেন্টস শ্রমিকদের স্বাস্থ্যগত ও পেশাগত উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ যেভাবে কাজ করছে তা সঠিক পথেই চলছে মন্তব্য করে তারা বলেছেন,বাংলাদেশকে জিএসপি’র মতো আরো সুবিধা দেয়া উচিত বলে প্রতিনিধিদের অনেকে জানিয়েছেন। অন্যদিকে গত শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের যে গার্মেন্টসে আগুন লেগে ৭ জনের প্রাণহানি হয়েছে সেটি বিজিএমইএ’র সদস্য নয়। এ বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, যেখানেই আগুন লাগুক সেটা বড় বিষয় নয়। আর আগুন লেগে কেউ মারা যাক সেটা কারো কাম্য হতে পারে না। গার্মেন্টসে আগুন নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে বিজিএমইএ প্রথম সহ-সভাপতি নাসিরউদ্দিন চৌধুরী বলেন,বিজিএমইএ সদস্য ছাড়াও অন্যান্য গার্মেন্টসে আগুন বিষয়ে সচেতনতামূলক আয়োজন ও আগুন কিভাবে প্রতিকার করা যায় সে বিষয়ে চিন্তা করছে বিজিএমইএ। তবে জনবল সংকটের কারণে কতটা করা যাবে সে বিষয়ে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আগুন যেখানেই লাগুক তা আন্তর্জাতিক মহলে খারাপ বার্তা পৌঁছায়, যা পোশাক শিল্পের জন্য খারাপ।