গল্প নয় সত্যি

দুই ঘণ্টার বেশি নয়!

নানাধর্মী বিনোদনের অভাব আর প্রযুক্তি নির্ভরতার কারণে বর্তমান সময়ের মানুষের একটি বড় সময়ই কাটে টিভি কিংবা কম্পিউটারের সামনে বসে। আর টিভি, কম্পিউটারের মতো বিভিন্ন মাধ্যমের সামনে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার এই প্রবণতার কারণে নানা ধরনের ঝুঁকির মুখেও পড়তে হচ্ছে এসব মাধ্যমের ব্যবহারকারীদের। তবে ঠিক কতটা সময় ধরে টিভি, কম্পিউটারের সামনে বসে থাকাটা বিপজ্জনক এতকাল সেটা জানা না থাকলেও এবার সে সম্পর্কে একটি ধারণা দিয়েছেন গবেষকরা। তারা বলেছেন, সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য না হলেও বিশেষভাবে শিশুদের জন্য দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে একটানা টিভি বা কম্পিউটারের সামনে বসে থাকা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং এর ফলে ক্যান্সার, হূদরোগ বা ডায়বেটিসের মতো রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনাও বাড়তে পারে। এ ছাড়া টিভি, কম্পিউটারের পাশাপাশি যারা বিভিন্ন ধরনের গেমিং ডিভাইস যেমন প্লে-স্টেশন বা এক্সবক্সে আসক্ত তাদেরকেও এ ধরনের ডিভাইসের সাথে সংযুক্ত উজ্জ্বল স্ক্রিনের সামনে একটানা দু’ঘণ্টার বেশি না বসার পরামর্শ দিয়েছেন ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার রিসার্চ ফান্ডের কর্তাব্যক্তিরা। গবেষকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে ইউরোপের শিশু-কিশোররা গড়ে ছয় ঘণ্টা সময় টেলিভিশন বা কম্পিউটার দেখে কাটায়। এমনকি প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও এভাবে সময় কাটানো শিশুর সংখ্যা কম নয়। আর শিশুদের এ ধরনের টিভি বা কম্পিউটার নির্ভরতাই তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ভবিষ্যতে মারাত্মক সমস্যা হয়ে দেখা দিতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে ইতোপূর্বে পরিচালিত অন্যান্য গবেষণার বরাত দিয়ে তারা জানান, ইংল্যান্ডের শিশুদের প্রতি তিনজনের একজনই প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে থাকা অবস্থায় স্থূলতার শিকার হয়। আর এর পেছনেও অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করে কায়িক পরিশ্রম কমিয়ে টিভি বা কম্পিউটারের সামনে বসে থাকার বিষয়টি। আর তাই এ ধরনের সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য আবারও ঘরের বাইরের বিভিন্ন খেলাধূলার প্রতি শিশুদের মনোযোগী করে তোলার উপর জোর দিয়েছেন গবেষকরা। তারা জানিয়েছেন, অভিভাবকরা যদি তাদের সন্তানকে সাঁতার কাটা কিংবা ফুটবল, ক্রিকেট, বাস্কেটবল খেলার মতো বিভিন্ন খেলায় উত্সাহ দেন এবং এ ধরনের খেলার জন্য সুযোগ করে দেন তাহলে সেটি পক্ষান্তরে শিশুর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশে সহায়ক হয়ে উঠবে।