অর্থবছরের প্রথমার্ধে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি

চলতি ২০১২-১৩ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) রাজস্ব আদায় সন্তোষজনক মাত্রায় উন্নীত করা যায়নি। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আদায় কম হয়েছে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। রাজস্বের অন্যতম খাত মূল্য সংযোজন কর ও আমদানি পর্যায়ে শুল্ক আদায় কমে যাওয়াই রাজস্ব আয় কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় উন্নীত করতে না পারার মূল কারণ। এর ফলে চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ার আশংকা তৈরি হয়েছে। গত তিন বছর টানা রাজস্ব আদায়ে ব্যাপক সাফল্য লাভের পর হঠাত্ রাজস্ব আদায়ে টান পড়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছে আদায়কারী প্রতিষ্ঠান জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অর্থনীতিবিদরাও আশংকা করছেন, চলতি বছর রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আর এনবিআর চেয়ারম্যন গোলাম হোসেন মনে করছেন, বছরের শেষ নাগাদ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সমর্থ হবেন তারা। এ লক্ষ্যে বেশকিছু পদক্ষেপও নেয়া হয়েছে বলে গতকাল ইত্তেফাককে জানান তিনি। গতকাল রাজস্ব বোর্ড প্রথম ছয় মাসের রাজস্ব আদায়ের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে আমদানি পর্যায়ে শুল্ক, ভ্যাট, আয়কর ও অন্যান্য কর মিলিয়ে ৪৭ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল এনবিআর। বিপরীতে আদায় হয়েছে ৪৪ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। এনবিআরের হিসাবে লক্ষ্যমাত্রা থেকে আদায় পিছিয়ে রয়েছে ২ হাজার ৭৪৭ কোটি টাকা। গত ২০১১-১২ অর্থবছরে ৯২ হাজার ২৭০ কোটি টাকা রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছিল প্রায় ৯৪ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে গত বছরের আদায়ের উপর প্রায় ২০ শতাংশ বাড়িয়ে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয় ১ লাখ ১২ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা। অর্থবছরের প্রথমার্ধে রাজস্ব আদায়ে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে ভ্যাট। গত ছয় মাসে এই খাতে ১৮ হাজার ৩১২ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও প্রকৃত আদায় হয়েছে ১৬ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। আদায় কম হয়েছে ২ হাজার ৬৬ কোটি টাকা। একইভাবে আমদানি পর্যায়ে শুল্কখাতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম আদায় হয়েছে ৯১২ কোটি টাকা। আর আয়কর ও অন্যান্য কর লক্ষ্যমাত্রা প্রায় পূরণ করতে পেরেছে।