অস্তিত্ব সংকটে ভোলার খাল

ভোলা শহরের মধ্যভাগে উত্তর-দক্ষিণে প্রবহমান খালটি অস্তিত্ব হারিয়ে সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। জোয়ার-ভাটা প্রবহমান থাকার ফলে শহরের জল নিষ্কাশনসহ শহরতলীর শুষ্ক মৌসুমের সেচের একমাত্র মাধ্যম ছিল এ খালটি। ভোলা শহরটি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় উন্নীত হওয়ার পর আগের তুলনায় অনেক বেশি বাড়ি ও স্থাপনা গড়ে উঠেছে। পৌরবাসীকে ইতিপূর্বে কখনো জলাবদ্ধতা দেখতে হয়নি। সবই সম্ভব হয়েছে এই খালটির কারণে। কিন্তু খালটি এখন আর নিরাপদ নেই, এটি ভূমি দস্যুদের নজরে পড়েছে, তারা কৌশলে খালটিকে ক্রমান্বয়ে ভরাট করে নিজেদের দখলে নেয়ার পাঁয়তারা করছে। এতে খালের অস্তিত্ব হুমকির মুখে এবং তা স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও নাব্যতা ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এই দখলবাজির ফলে শুধু খালই নয়, খালপাড় ঘেঁষে নির্মিত বাইপাস সড়কটিও তার স্বাভাবিক রূপ হারিয়ে গলির সড়কে পরিণত হতে চলেছে। ফলে বর্তমানে খাল, বাইপাস উভয়ের উপরই নেমে এসেছে সীমাহীন দুর্যোগ, বিশেষ করে খালটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। ভোলা পৌরসভার সাবেক মেয়র আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ ও উত্কণ্ঠা প্রকাশ করেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ইতিপূর্বে ভোলা শহরে বেশ কয়েকটি মারাত্মক অগ্নিনির্বাপণে এই খালটির পানি সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। খালটি প্রবহমান না থাকলে বর্ষা মৌসুমসহ দুর্যোগ দুর্বিপাকে ভোলা শহরেও জলাবদ্ধতা দেখা দিবে এবং সেচ প্রক্রিয়ায় বিপর্যয় নেমে আসবে। তিনি নির্মাণাধীন মার্কেটসহ খালপাড়ের স্থাপনা সরিয়ে নিয়ে খালটির স্বাভাবিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।