ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের যৌথ টেন্ডারবাজি!
নুরুল আলম সাঈদ, নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:১৫
রাজনীতির মাঠে পরস্পর বিরোধী সংগঠন হলেও টেন্ডারবাজির ক্ষেত্রে বিরল ঐক্য দেখালো ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল! আর এই ঘটনা ঘটেছে বান্দরবান পার্বত্য জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায়। ওই দুই ছাত্র সংগঠনের উপজেলা নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে টেন্ডার-সন্ত্রাসের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পাঁচটি ঠিকাদারি কাজ মিলেমিশে ভাগাভাগি করে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর যথাযথভাবে সিডিউল বিক্রি না করেই লোক দেখানো লটারির মাধ্যমে তাদের ওই কাজ পাইয়ে দিতে সহায়তা করেছেন সংস্থাটির স্থানীয় এক প্রকৌশলী। এর মাধ্যমে সরকার লক্ষাধিক টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্র জানায়, গত ১৭ ডিসেম্বর উপজেলার ছাগল খাইয়া, লম্বাবিল, করলিয়ামুরা, আশারতলী ও তুলাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মেরামত এবং ভাল্লুখখাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রকৌশলী দরপত্র আহবানের সিদ্ধান্ত নেন। ৫% নিম্ন দরে লটারির মাধ্যমে ঠিকারদার বাছাইপূর্বক কাজগুলো বাস্তবায়নের জন্য গত ২৩ ডিসেম্বর দৈনিক সমকাল পত্রিকায় দরপত্র বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। দরপত্রের সিডিউল বিক্রির শেষ দিন গত ১৭ জানুয়ারি উপজেলা প্রকৌশলী স্থানীয় ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল নেতাকর্মী এবং এক প্রভাবশালী ঠিকাদারের মধ্যে কাজগুলো গোপনে ভাগাভাগি করে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে এই ঘটনা আড়াল করতে উপজেলা প্রকৌশলী গত ২৪ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে লোক দেখানো লটারির আয়োজন করেন। কিন্তু এই কাজের জন্য মাত্র তিন থেকে চারটি সিডিউল বিক্রি হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদার বলেন, ওই কাজের সিডিউল কিনতে নাইক্ষ্যংছড়ি এলজিইডি অফিসে গেলে এলজিইডির অফিস সহকারী জানান, ‘ইঞ্জিনিয়ার স্যার এই দরপত্রের সিডিউল বিক্রি না করার জন্য বলেছেন।’ তিনি উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গেলে উপজেলা প্রকৌশলী জামির হোসেন বলেন, ‘তোমরা তো সব কাজ কর, এই কাজগুলো ছোট ভাইদের দিয়ে দাও।’ নাইক্ষ্যংছড়ি এলজিইডির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই কাজ সমঝোতা করে ভাগাভাগি করে নেয়ায় প্রকৃত ঠিকাদারগণ বঞ্চিত হয়েছেন। সরকারও প্রায় ১ থেকে দেড় লাখ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী জামির হোসেন বলেন, ‘এলাকায় থাকলে মিলেমিশে থাকতে হয়। আমি তো ঝামেলায় জড়াতে পারি না। এরা সমঝোতা করলে আমার করার কিছু নেই।’
উপজেলার জামায়াত কর্মী বদিউল আলম বদু, শিবির কর্মী রফিকুল আলম প্রমুখের কাছে লাভের বিনিময়ে কাজগুলো বিক্রি করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে স্থানীয় ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।