বরিশালে বিআইডব্লিউটিএ টেন্ডার
ঠিকাদারদের উপর হামলা, আবার দরপত্র আহবানের দাবি
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২২
অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সাড়ে ৩ কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নিতে তত্পরতা শুরু করেছে যুবলীগের সমালোচিত টেন্ডারবাজ বহিষ্কৃত নেতা। অপর এক ব্যক্তির লাইসেন্সের অনুকূলে তিনি এই দরপত্র জমা দিয়ে প্রভাব বিস্তার করে আগের মতোই আধুনিক নৌ-বন্দর টার্মিনালসহ কীর্তণখোলার তীরবর্তী সকল ঘাট তার দখলে নেয়ার পাঁয়তারা শুরু করেছেন।
বাকেরগঞ্জের এক সময়ের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ও বর্তমান শাসক দলের ব্যানারে টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বহিষ্কৃত এই যুবলীগ নেতা রবিবার বিআইডব্লিউটিএ আহূত আহ্বানকৃত দরপত্রের লটারি চলাকালে ঠিকাদারদের উপর হামলা চালিয়ে পে-অর্ডারসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে সাধারণ ঠিকাদাররা বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতার তাণ্ডবে বিআইডব্লিউটিএ’র দপ্তর থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হন। ঠিকাদাররা এই টেন্ডার বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করার দাবি জানিয়েছেন। বিআইডব্লিউটিএ’র সূত্র জানায়, গত ২৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত টেন্ডারে ২১টি দরপত্র বিক্রি হলেও শেষ পর্যন্ত জমা পড়ে ১১টি। এর মধ্যে পে-অর্ডার জমা না দেয়ায় টেন্ডারবক্স খোলার দিনই ৫টি দরপত্র বাতিল হয়ে যায়। বাকি ৬টির মধ্যে প্রভাবশালী এক ব্যক্তির লাইসেন্স ব্যবহার করে ১০ ভাগ কম দরে দরপত্র জমা দেন যুবলীগ থেকে বহিষ্কৃত টেন্ডারবাজ। কিন্তু টেন্ডারের শর্তাবলীতে আড়াই কোটি টাকার একক এবং ৫ বছরে সাড়ে ১২ কোটি টাকার কাজের অভিজ্ঞতা সনদ, মেশিনারি ও ইঞ্জিনিয়ারিং স্টাফের তালিকাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু ঐ নেতা শুধু ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট এবং আয়কর সনদ ছাড়া কোন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি বলে বিআইডব্লিউটিএ’র দরপত্র কমিটির কর্মকর্তারা জানান। ঠিকাদাররা জানিয়েছেন, নগরীর বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা টেন্ডার কমিটির সদস্যদের উপর চাপ সৃষ্টি করে অবৈধভাবে পূর্বের ন্যায় ঘাট দখলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।