জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

নবীনদের পথচলা শুরু

সবার জীবনে স্বপ্ন থাকে। থাকে স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা। বিশ্ববিদ্যালয় স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রধান সিঁড়ি। স্বভাবতই এ সিঁড়িতে পা দিতেই হূদয়ে আনন্দ উচ্ছ্বাস বয়ে যায়। নতুন করে শুরু হয় পথচলা। আর এ সিঁড়ি যদি হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় তাহলে আর কী চাওয়ার থাকে? লাল-সাদা শাপলার জলভরা হ্রদ, ঢেউ খেলানো রাস্তা, নান্দনিকের ভূবিন্যাস, মেহগনি-রাধাচূড়া-শাল-ঝাউ-সোনালুসহ নাম না জানা শত শত গাছ ও স্বর্পগন্ধা-শতমূলী-উলটচালের মতো অসংখ্য দুর্লভ বনফুলের ইন্দ্রজালে বিদ্যমান এ কাম্পাস। এখানে বসন্তে কোকিল আর শীতে দূরদেশ থেকে উড়ে আসা অতিথি পাখির কুহু কুহু ধ্বনিতে সকালের ঘুম ভাঙে। সাতশ একরের এই ক্যাম্পাস সারাবছর নানা ধরনের সাংস্কৃতিক উত্সব আর পাখিদের কলতানের সাথে যুক্ত হয়েছে নবীন শিক্ষার্থীদের পদচারণা। ২৬ জানুয়ারি সকালে সূর্য ওঠার সাথে সাথে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বপ্নচারীদের ভিড় বাড়তে থাকে। কুয়াশার চাদর ভেদ করে সূর্যি মামা হেসেছিল মিষ্টি হাসি। সেই হাসির ছোঁয়া লেগেছিল হাজারো স্বপ্ন বুকে লালন করে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পদার্পণকারী নবীনদের ঠোঁটে। সবুজ ছায়া ঢাকা এ ক্যাম্পাসের শান্ত স্নিগ্ধ আবহ যেন আরো প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে নবীনদের আগমনে। মুখর হয়ে উঠে সংশপ্তক, শহীদ মিনার, অমর একুশের পাদদেশ। উচ্চ শিক্ষার লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা এসব নবীন ছাত্রছাত্রীদের চোখে মুখে ফুটে উঠছে নতুন করে জীবন গড়ার স্বপ্ন। নবাগত শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিভাগ আলাদা আলাদভাবে বরণ করে নিয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা এসব শিক্ষার্থী একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পেরে গর্ববোধ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকেই ছোট-বড় নানা সমস্যার সম্মুখীন হলেও এসব নবীন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন নিঃসন্দেহে আকাশছোঁয়া। আর তা হলো উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করা। এ ক্যাম্পাসের লাল শাপলা, শীতের অতিথি পাখি, প্রজাপতি মেলা, পাখি মেলা, নদী মেলার গল্প পত্রিকায় পড়তে পড়তে অনেক আগে থেকেই এ ক্যাম্পাসের প্রতি একটা ভালো লাগা তৈরি হয়েছে। সেই থেকেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন দেখা। কথাগুলো এভাবেই বলছিল নবীন শিক্ষার্থী তানজিলা রহমান। সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মামুন জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর দীর্ঘলালিত স্বপ্ন। প্রথমবারের মতো ক্লাসে অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় কি যে ভালো লাগছে, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না।’ আইন বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী সুমাইয়া ইসলাম জানালেন তার স্বপ্নের কথা, ‘আমার জীবনের লক্ষ্য একজন আইনজীবী হওয়া। তাই এখানে আইন বিভাগে ভর্তি হতে পেরে খুব ভালো লাগছে।’ রাজধানী থেকে আসা শিক্ষার্থী মাইশা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা প্রজাতির অতিথি পাখি আর বিভিন্ন ধরনের পিঠা দেখে আমি প্রথমে অবাক হয়েছিলাম, গ্রামে এলাম নাকি বিশ্ববিদ্যালয়ে। সত্যিই অসম্ভব ভালো লাগছে এ ক্যাম্পাসে ভর্তি হয়ে। শহরের যানজটে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছি। এবার কোলাহলমুক্ত মনোরম পরিবেশে নিজেকে গড়ে তুলতে চাই। কথা হলো সপ্তম ছায়া মঞ্চে আড্ডারত নাহিদের সাথে। দৃঢ় কণ্ঠে সে জানালো, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করার স্বপ্ন কার না থাকে। আর সে স্বপ্ন হাতের মুঠোয় এসেছে। হাজার হাজার পরীক্ষার্থীদের সাথে প্রতিযোগিতা করে নিজের একটি স্থান করেছি। এখন সময় এসেছে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার। ভাল ফলাফল করে এ ক্যাম্পাসেরই শিক্ষক হতে চাই। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেকে উচ্চ মর্যাদায় আসীন করার জন্য পড়াশোনার বিকল্প নাই। প্রতিযোগিতায় নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য সবচেয়ে উত্কৃষ্ট উপায় হলো সুনির্দিষ্ট ক্যারিয়ার পরিকল্পনা। আর বর্তমান সাংবাদিকতা পেশা অন্যান্য পেশা থেকে অনেক ক্ষেত্রেই এগিয়ে। তাইতো পড়াশোনার জন্য সাংবাদিকতা বিভাগ বেছে নিয়েছি। কথাগুলো বলছিলেন সাংবাদিকতা ও মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের ছাত্র নাহিদুর রহমান রোজেন। স্বপ্নের ক্যাম্পাসে ভর্তি হয়ে নতুন নতুন স্বপ্ন দেখে চলেছে সবাই। কেউ কেউ বিসিএস ক্যাডার হতে চান। কেউ বা অর্থনীতিবিদ আবার কেউ বিজ্ঞানী। এমন স্বপ্ন সত্যি ওদের চোখেই মানায়। স্বপ্ন পূরণের চিন্তায় সবাই বিভোর। ভর্তি যুদ্ধের ধাপ পেরোনো এই সব স্বপ্নিল তরুণ-তরুণীদের স্বপ্নের উড়ালটা পূর্ণতা পাবে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করার মাধ্যমে। এমনটিই কামনা সবার। তবে নবীন এ শিক্ষার্থীদের মনে রাখতে হবে, মানুষ ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে যে স্বপ্ন দেখে তা বাস্তব স্বপ্ন নয় বরং স্বপ্ন তাই যা মানুষকে ঘুমাতে দেয় না।