ঘরের ট্রফি যেন ঘরেই থাকে :মৌসুমী

বঙ্গমাতা আন্তর্জাতিক ফুটবল যুদ্ধের শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশের নারী ফুটবল যোদ্ধারা। আজ ফুটবল যুদ্ধের মঞ্চে শেষ লড়াই। ফাইনালের লড়াইয়ে মুখোমুখি বাংলাদেশ এবং লাওস। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ফাইনাল শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টায়। ট্রফি জয়ের লড়াইয়ের কথা শোনাতে গিয়ে বাংলাদেশের অধিনায়ক মিশরাত জাহান মৌসুমী জানিয়েছেন তারা ট্রফি অন্য কাউকে ছুঁতে দিতে চান না। ট্রফি জয় তরতে চান। মৌসুমী বললেন,‘ঘরের ট্রফি যেন ঘরেই থাকে।’ তার এই ইঙ্গিত অনেক কিছুর আভাস দেয়। যেভাবেই হোক, যত পরিশ্রমই হোক আজ রাতে ফাইনালের ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে মৌসুমীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। ফাইনাল ম্যাচটাকে ফুটবল একটা যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন মৌসুমী। কারণ প্রতিপক্ষ লাওস কতটা শক্তিশালী তাদের খেলা তাদের শক্তি এবং সামর্থ্য সম্পর্কে ভালো জানা আছে বাংলাদেশের দর্শকের। এই শক্তির বিপক্ষে ফুটবল যুদ্ধের ঘোষাণা দেওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। মৌসুমী বলছিলেন যেকোনো খেলাই একটা যুদ্ধের মতো। সারা ফুটবল দুনিয়ায় ১২০ গজের লড়াইটা  যুদ্ধের চেয়েও কোনো অংশে কম নয়। আমরা ফুটবল মাঠের যুদ্ধ জয় করতে চাই। এসব নানা কথার ফাঁকে উঠে আসল পুরুষ ফুটবল লড়াইয়ের কথা। কাতার বিশ্বকাপ এবং এএফসি কাপ ফুটবলের বাছাইয়ের খেলা রয়েছে জুনে। ৬ এবং ১১ জুন বাংলাদেশ ফুটবল দল দুটি ম্যাচ খেলবে লাওসের বিপক্ষে। আজ যদি ফাইনালে লাওসকে হারিয়ে বাংলাদেশের নারীরা চ্যাম্পিয়ন হয় সেটাকে বাড়তি প্রেরণা হিসেবে নিতে পারবে পুরুষ ফুটবল দল, নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক মৌসুমী এমনটাই মনে করছেন। মৌসুমী বললেন,‘ফাইনালে যদি লাওসকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হতে পারি, তাহলে আমাদের এই সাফল্য নিশ্চয়ই উজ্জীবিত করবে আমাদের বড় ভাইদের।’

স্বপ্নের ফাইনালে বাংলাদেশ। ঘরের ট্রফি যেন ঘরেই রাখতে চান মৌসুমী-তাঁর এই স্বপ্না পুরণ করা কঠিন কি না তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটনদের কাছে কঠিন লড়াই হবে। ছোটন জানিয়ে গেলেন কোনো প্রতিপক্ষই কখনো দুর্বল হয় না। ফাইনালে উঠা লাওস শক্তিশালী দল।’ এই দলে এমন কিছু ফুটবলার রয়েছেন যাদের আক্রমণের সে াতে প্রতিপক্ষ খুব সহজেই কুপোকাত হয়। বিশেষ করে  লাওসের ফরোয়ার্ড কেওতা পে যেন মেসি নেইমারের মতোই। তেড়ে ফুড়ে বেরিয়ে যাওয়ার অসাধারণ দক্ষতা। ডজ দিয়ে প্রতিপক্ষের গোলমুখে ঢোকার ছবিটা যেন বুলেটের মতোই। ছিপছিপে গড়নের এই (জার্সি নম্বর ৮)  কেওতা পে  ৮ গোল করেছেন, আছে হ্যাটট্রিক। ৩ ম্যাচে লাওসের ১৮ গোল। লাওস এবং বাংলাদেশ কোনো ম্যাচ হারেনি। তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষের ঘরে আক্রমণ ৭৫ বার করে ৭ গোল পেয়েছে। দুশ্চিন্তার কারণে ফিনিশিং। কোচ ছোটন মনে করছেন ডিফেন্ডারদের আসল পরীক্ষা হবে ফাইনালে।’ লাওসের গোলমেশিন পে এবং আফাতসালাকে আটকাতে রক্ষণভাগে ফাঁদ পাতবেন কোচ। 

লাওসের কোচ ভংমিসাই বললেন,‘দু’দলেরই শিরোপা জেতার সম্ভাবনা ফিফটি-ফিফটি।’ অধিনায়ক আফাতসালা চানথাভংজাই বললেন,‘ আমরা শতভাগ আত্মবিশ্বাসী।

খেলা হয় সন্ধ্যায় আর ভর দুপুরে দাবদাহের মধ্যে কড়া অনুশীলনে সানজিদা, মৌসুমী, তহুরা, শিউলী, মাসুরা, মনিকা, মারিয়া, নারগিস, আঁখিরা অতিমাত্রায় ক্লান্ত হলেও শিরোপা থেকে মাত্র এক ম্যাচ দূরে। মৌসুমীরা কি পারবেন ট্রফি উপহার দিতে।