নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে সমাবেশ
প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৫৯
নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে আরোও দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য জাতীয় সংসদের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেছেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরোও তত্পর ভূমিকা পালন করতে হবে। অভিযুক্ত সব ব্যক্তিকে বিচারের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধী যেন আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে পার না পায়, সে লক্ষ্যে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সর্বস্তরে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের ক্ষেত্রে সরকারকে আরোও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নাগরিক সমাজ ও প্রথম আলো ট্রাস্ট আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা এ দাবি জানান। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে পুরুষদের অংশগ্রহণ জরুরি বলে জানান নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দরা একটি স্মারকলিপি জাতীয় সংসদের স্পিকার বরাবর পেশ করেন। সমাবেশে স্মারকলিপি পড়ে শোনান ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ড. ফজলে হাসান আবেদ। সমাবেশ শেষে একটি শোভাযাত্রা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে গিয়ে শেষ হয়। সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ.আ.ম.স আরেফিন সিদ্দিক নারীকে মানুষ হিসেবে সম্মান জানানোর আহ্বান জানান।
ড. ফজলে হাসান বলেন, সম্প্রতি দেশে নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। একদিকে যৌন হয়রানি, পাচার, ধর্ষণ, হত্যা ও এসিড নিক্ষেপের মতো জঘন্য ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটে চলছে, অন্যদিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপরাধীর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপরাধীরা ধরা পড়ছে না বা তাদের বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ ও সাক্ষ্যও উপস্থাপিত হচ্ছে না। ফলে সুষ্ঠু বিচারের অভাবে অপরাধ প্রবণতা বেড়েই চলছে। এমনকি ধর্ষণ চেষ্টার অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত আসামি জেল থেকে বের হয়ে আবারও একই শিশুকে নির্যাতন ও হত্যা করছে।
তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা সমাজে বিশৃঙ্খলা ও ভীতির সৃষ্টি করছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেফতার, বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারলে এ সমস্যা আরোও ভয়াবহ রূপ নেবে বলে সবার আশঙ্কা। রাস্তাঘাটে নারীর অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে না পারার কারণে রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের সার্বিক উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
মানবাধিকার কর্মী ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, নারীর প্রতি যে সহিংসতা হচ্ছে এটা নারীর একা কষ্ট পাওয়ার বিষয় নয়, এটা সবার উত্কণ্ঠার বিষয় এবং এর সমাধানও করতে হবে নারী-পুরুষ উভয়ে মিলে। তিনি নারীদের মানুষ হিসেবে ভাবার আহ্বান জানিয়ে আরো বলেন, আমরা যদি আমাদের ভেতরের মানুষটাকে জাগিয়ে তুলতে পারি তাহলে মানুষের প্রতি সহিংসতা বন্ধ করা যাবে।
সমাবেশে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ.আ.ম.স আরেফিন সিদ্দিক, অধ্যাপক এম এম আকাশ, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির ড. আব্দুল মান্নান চৌধুরী, অ্যাসোসিয়েশন অব টিভি চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো)-এর শাইখ সিরাজ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম, নারীনেত্রী মালেকা বেগম, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মনিরা রহমান, কর্মজীবী নারীর নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া রফিক, অ্যাকশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবীর, সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, স্টেপস টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকার, ব্লাস্টের রেজাউল করীম, প্রথম আলো বন্ধুসভার সম্পাদক, নারীপক্ষ, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, গণসাক্ষরতা অভিযানসহ আরো বিভিন্ন সংগঠন।