চট্টগ্রামে ভোগ্যপণ্যের
বাজার বেসামাল
মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:১৪
চট্টগ্রামে ভোগ্যপণ্যের বাজার বেসামাল। গত ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে আমদানি করা মশুর ডাল, রসুন, আদা কেজিতে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা বেড়েছে। আর পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ টাকা। এসব পণ্য পাইকারি বাজারে যা বেড়েছে তার দ্বিগুণ বেড়েছে খুচরা বাজারে। আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও সাতক্ষীরা সীমান্তে স্থলবন্দর বন্ধ থাকায় পেঁয়াজ আসছে না। সরবরাহ কমে যাওয়ায় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। মৌসুমের এই সময়ে প্রতিবছর এসব পণ্যের মূল্য সাধারণত কম থাকে। দেশেও এসব পণ্য উত্পাদিত হয়। দেশে উত্পাদিত রসুন কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় এবং আদা ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হলেও ক্রেতাদের কাছে এসব পণ্যের চাহিদা কম। কিন্তু গত কয়েকদিন যাবত্ পাইকারি ও খুচরা বাজারে অস্বাভাবিকভাবে ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। দেখা গেছে, বাজারে পণ্য সরবরাহে কোন কমতি নাই। দোকান ও গুদামভর্তি পণ্য। দেশের প্রধান পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানান, আমদানিকৃত ভোগ্যপণ্য মশুর ডাল, রসুন, আদা ও পেঁয়াজের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার পাইকারি বাজারে রসুন বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৯৫ থেকে ১০০ টাকা, আদা ৯৫ থেকে ৯৭ টাকা, আর মশুর ডাল ১২৫ টাকা। পাইকারি বাজারে যা বেড়েছে তার চেয়ে দ্বিগুণ বেড়েছে খুচরা বাজারে। নগরীর খুচরা বাজারে রসুন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১২০ টাকা, আদা ১২০ টাকা, মশুর ডাল ১৩৮ থেকে ১৪০ টাকা, পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা।
খাতুনগঞ্জে মেসার্স আজমীর ভাণ্ডারের মালিক এটিএম শামছুদ্দোহা ইত্তেফাককে বলেন, ‘চীন থেকে রসুন ও আদা আমদানি হয়ে থাকে। চীনে এসব পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি কমে গেছে। চাহিদা অনুযায়ী পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না। সাতক্ষীরা সীমান্তে স্থলবন্দর গত ১০ থেকে ১২ দিন ধরে বন্ধ থাকায় ভারত থেকে পেঁয়াজ আসছে না। এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে দেশের পাইকারি ও খুচরা বাজারে।’ জনতা ট্রেডার্সের মালিক হাজী মো. মুছা বলেন, ‘পাইকারি বাজারে চীন থেকে আমদানি করা আদা কেজিতে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা এবং রসুনও সমপরিমাণ বেড়েছে। দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বিক্রেতারাও পণ্য কম ক্রয় করছে।’
আমদানিকারকরা জানান, রসুন, পেঁয়াজ, আদা এসব পণ্য বেশিদিন মজুদ রাখা যায় না। চীন থেকে আমদানি করা রসুন ও আদা দেশীয় বাজারে চাহিদা বেশি। চীনে এসব পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে গত এক মাস যাবত্ আমদানি কমে গেছে। এছাড়া এই সময়ে দেশেও প্রচুর রসুন ও পেঁয়াজ উত্পাদন হয়। আর পার্বত্য এলাকায় প্রচুর আদা উত্পাদন হয়। দেশে উত্পাদিত রসুন ও আদার গুণগত নিম্নমানের হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে চাহিদা কম। কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, দেশের মধ্যে ফরিদপুর ও উত্তরাঞ্চলে প্রচুর রসুনের চাষ হয়ে থাকে। তবে সমুদ্রের লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় উপকূলীয় এলাকাগুলোতে রসুন উত্পাদন এখন আগের মতো হচ্ছে না।
আমদানিকারক আবুল বশর চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন: ‘মশুর ডালের উত্পাদন এবার কম হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে গত ছয় মাস যাবত্ দফায় দফায় মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতি টনে অন্তত ৫০০ ডলার দাম বেড়েছে। ফলে আমদানির ৮০ শতাংশ কমে গেছে।’