জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করতে জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন :হানিফ

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুব-উল-আলম হানিফ জামায়াতকে স্বাধীনতাবিরোধী উগ্র সাম্প্রদায়িক দল আখ্যায়িত করে বলেছেন, স্বাধীনতা-বিরোধী জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে জনমতের ভিত্তিতে জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন। জনগণ চাইলে, জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে তা বাস্তবে রূপ দেবে সরকার। জামায়াত-শিবিরের অব্যাহত সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক শক্তি, সুশীল সমাজসহ সব শ্রেণী-পেশার সর্বস্তরের জনগণকে ব্যাপকভাবে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। গতকাল মঙ্গলবার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সম্প্রতি দেশে জামায়াত-শিবির যে তান্ডব চালাচ্ছে তার প্রতিবাদে এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। জামায়াত-শিবির সৃষ্ট অস্থিতিশীল অবস্থায় জনগণের নিরাপত্তা দিতে সরকার ব্যর্থ কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, জামায়াত-শিবিরের তান্ডব দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবেলা করেছে। তারা কঠোর হলে প্রাণহানির মত ঘটনা ঘটতে পারতো। তাই তারা ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করবে। ‘বর্তমান সরকার হিজবুত তাহরীর মত ছাত্র শিবিরকে কেন নিষিদ্ধ করছে না’- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে হানিফ বলেন, দেশের প্রধান বিরোধী দল যদি এ ধরনের ফ্যাসিষ্ট সংগঠনকে উস্কানি দেয়, তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালায়, সেক্ষেত্রে এদেরকে নিষিদ্ধ করতে সরকারকে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হবে। সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেই এসব বিল সংসদে পাস করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জামায়াত-শিবিরের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, এই মুহূর্তে আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করতে চাই। পরে জামায়াত-শিবিরসহ সকল জঙ্গি সংগঠনগুলোর অর্থদাতা, ইন্ধনদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জামায়াতের ডাকা আজ বুধবারে বিক্ষোভ সমাবেশের অনুমতি দেয়া ঠিক হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিনা কারণে তারা রাস্তায় নেমে গাড়ি ভাংচুর এবং সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি করছে। এই মুহূর্তে এই ফ্যাসিষ্ট সংগঠনকে রাজপথে নামিয়ে জনগণের সম্পদ ধ্বংসের অনুমতি দেয়া কখনোই উচিত হবে না। সাংবাদিক সম্মেলন থেকে যারা গাড়ি ভাংচুরের শিকার হয়েছেন, সম্পদ হারিয়েছেন তাদের প্রতিও সহমর্মিতা প্রকাশ করা হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, উপ-দফতর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য একে এম এনামুল হক শামিম, সুজিত রায় নন্দি, উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।