মিষ্টি প্রেম কাহিনী
প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০১৩, ১৯:৪৯
স্টার প্লাস চ্যানেলের ফ্যামিলি ড্রামা সিরিয়াল ‘পেয়ার কা দর্দ হ্যায় মিঠা মিঠা পেয়ারা পেয়ারা’ বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেছে ইতোমধ্যে। গত সাত মাসে ঘরে ঘরে সিরিয়ালটির দর্শকসংখ্যা বেড়েছে। যারা পারিবারিক গল্প পছন্দ করেন তাদের কাছে এই জনপ্রিয় হিন্দি সিরিয়ালের ঘটনাপ্রবাহ খুব সহজেই গ্রহণীয় হয়ে উঠেছে। সবাই চমত্কার উপভোগ করছেন সিরিয়ালটি। যার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র দর্শকদের কাছে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ছোট পর্দার দর্শকনন্দিত হিন্দি সিরিয়াল ‘পেয়ার কা দর্দ হ্যায় মিঠা মিঠা পেয়ারা পেয়ারা’র নানা বিষয় নিয়ে লিখেছেন রেজাউল করিম খোকন
হিন্দি ডেইলি সোপগুলোতে পারিবারিক গল্পকেই সব সময়েই প্রাধান্য দেওয়া হয়। তবে সেই গল্পে যদি দর্শকদের চমকিত ও আলোড়িত করার মতো উপাদান না থাকে তাহলে জনপ্রিয়তার দৌড়ে তেমন এগিয়ে যেতে পারে না। আজকাল প্রায়ই পুরোনো একঘেয়ে পারিবারিক গল্পের চর্বিত চর্বন পরিবেশের কারণে অনেক হিন্দি সিরিয়াল ধরাশায়ী হচ্ছে। জনপ্রিয়তা অর্জনের বদলে দর্শকদের জন্য বিরক্তির কারণ হয়ে উঠছে তেমন অসংখ্য টিভি সিরিয়াল। স্টার প্লাস চ্যানেলে ‘পেয়ার কা দর্দ হ্যায়’ সিরিয়ালটি গত জুন থেকে দেখানো শুরুর পর এর মধ্যে সাত মাস সময় পেরিয়েছে। মুম্বাই শহরের এক ধনাঢ্য অভিজাত প্রভাবশালী পরিবারের ছেলে আদিত্য এবং পার্বত্য শহর কুলুর মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে পানকৌড়ির মধ্যেকার সম্পর্কের গল্প নিয়ে আবর্তিত হচ্ছে সিরিয়ালটি। দুই পরিবারের সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং আবেগপূর্ণ নানা নাটকীয় ঘটনা দর্শকদের আলোড়িত করছে। সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে পরস্পর বিপরীত মনোভাবের এক জোড়া তরুণ-তরুণী ঘটনাচক্রে একে অন্যের ঘনিষ্ঠ সাহচর্যে আসার পর নিজেদেরকে নতুনভাবে আবিষ্কার করে। মানবিক ম্যূলবোধ, হূদয়ের একান্ত চাওয়া-পাওয়াগুলো নিয়ে তারা ভাবতে শুরু করে। পরস্পরবিরোধী মনোভাবের হলেও একসময় পানকৌড়ি আদিত্যের হূদয়ে প্রচণ্ড দোলা দেয়। নাটকীয়ভাবে তাদের দু’জনের বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের পর আদিত্যের পরিবারে পানকৌড়িকে নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয় অভিভাবক মহলে। আদিত্যের মা অবন্তিকা পানকৌড়িকে পুত্রবধূ হিসেবে মেনে নিতে সরাসরি আপত্তি জানান। কিন্তু নিজের সারল্য, সততা, পরিবারের প্রতি ত্যাগী মনোভাব ইত্যাদির মাধ্যমে পানকৌড়ি তার শাশুড়ির মন জয় করে নেয়। কিন্তু আদিত্যের মামা-মামীর কুটিল ষড়যন্ত্রের কারণে আদিত্য ও পানকৌড়িদের পরিবারের মধ্যে জটিলতা বাড়তে থাকে। এ ক্ষেত্রে চরম নাটকীয়তা সৃষ্টি করে আদিত্যের খালা প্রীতির সঙ্গে পানকৌড়ির চাচার অতীত প্রণয় এবং প্রেগন্যান্ট হওয়ার বিষয়টি। দর্শকদের আবিষ্ট করে রাখার মতো অনেক নাটকীয় উপাদান রয়েছে ‘পেয়ার কা দর্দ হ্যায়’ সিরিয়ালে। একজন নিষ্পাপ তরুণী পানকৌড়িকে সব দর্শক ভীষণ পছন্দ করেছেন। প্রচলিত মূল্যবোধের অনুসারী পানকৌড়ি চায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে পারস্পরিক বোঝাপড়া আর সহনশীলতা বজায় রেখে জীবনযাপন করতে। তার মুখে শত দুঃখ-কষ্টের মধ্যে হাসি লেগে থাকে। এমন একটি চমত্কারভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন নতুন মুখের অভিনেত্রী দিশা পারমার। প্রথম অভিনীত সিরিয়ালেই বাজিমাত করেছেন তিনি। এই সিরিয়ালে আদিত্য চরিত্রে এরমধ্যেই সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন নকুল মেহতা। মডেলিং থেকে আসা নকুল অভিনেতা হিসেবে কম যান না এটা তিনি প্রমাণ করেছেন অভিনীত চরিত্রটিকে সিরিয়ালে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার মাধ্যমে। এ ছাড়া ‘পেয়ার কা দর্দ হ্যায় মিঠা মিঠা পেয়ারা পেয়ারা’ সিরিয়ালে অন্যান্য চরিত্রে ভালো অভিনয়ের স্বাক্ষর রেখেছেন মুকেশ খান্না, মানসী সালভে, নীতিশ পান্ডে, আশন্নেশা সাওয়ান্ত, লীনা প্রভু প্রমুখ। একসময়ের বলিউডে ব্লকবাস্টার পারিবারিক সিনেমা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রাজশ্রী প্রোডাকশন ‘পেয়ার কা দর্দ হ্যায়’ সিরিয়ালটি প্রযোজনা করেছে। এবারও তারা পারিবারিক গল্পনির্ভর সিরিয়ালের মাধ্যম বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে। স্টার প্লাস চ্যানেলে সপ্তাহে প্রতি সোম থেকে শুক্রবার রাত সাড়ে দশটায় ‘পেয়ার কা দর্দ হ্যায় মিঠা মিঠা পেয়ারা পেয়ারা’ সিরিয়ালটি দেখানো হয়।