রক ব্যান্ড

ঈগলের গল্প

হোটেল ক্যালিফোর্নিয়া গানটির সাথে আমাদের অনেকেরই পরিচয় আছে। বিখ্যাত এ গানটির জন্ম ঈগল ব্যান্ডের মাধ্যমে। জনপ্রিয় এই ব্যান্ডটির উত্থান-পতনের গল্পটি নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম ১৯৭১ সাল, তখনকার বিখ্যাত গায়িকা লিন্ডা তখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে। বিভিন্ন জায়গায় চলছে তার ট্যুর, গ্ল্যান ফ্রেই তার গিটারিস্ট। কিন্তু একটা বিশেষ ট্যুরের আগে দলের নিয়মিত ড্রামার ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে দল ত্যাগ করেন। সেই শূন্যস্থান পূরণের জন্য ড্রামস বাদক নির্বাচনের দায়িত্ব বর্তায় গ্ল্যানের কাঁধে। একবার গ্ল্যান একটি বারে গিয়েছিলেন, অন্যদিকে ডন হ্যানলি সেই বারে তার ব্যান্ড, ‘শিলন’-এর সাথে বারে গান করছিলেন। গ্ল্যান তার পারফর্মেন্সে মুগ্ধ হন এবং সপ্তাহে ২০০ ডলারের বিনিময়ে লিন্ডার সাথে ড্রামস বাজানোর অফার করেন। ডন সেই দিন সেই মোক্ষম সুযোগ হাতছাড়া করেননি। যদিও গ্ল্যানের মূল পরিকল্পনা ছিল ডনকে নিয়ে নিজের ব্যান্ড প্রতিষ্ঠা করা। এর পর ১৯৭১ সালে তারা ইগলস ব্যান্ড প্রতিষ্ঠা করেন। সেইসময় ঈগলসের লাইনআপে ছিল :ডন হ্যানলি, গ্ল্যান ফ্রাই, বার্নিলেডন, র্যান্ডি মিস্নার। সেই লাইনআপে তারা ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত কন্টিনিউ করেন। ১৯৭২ সালে সর্বপ্রথম সেলফ টাইটেল্ড অ্যালবাম ঈগলস বের হয়। ১৯৭৩ সালে তাদের ‘ডেস্পারাডো’ অ্যালবামটি মুক্তি পায়। অ্যালবামের ‘ডেস্পারাডো’ গানটি অনেক অনেক জনপ্রিয়তা পায় এবং পরবর্তীতে ‘ডেস্পারাডো’ (ওয়েস্টার্ন), ‘ডেস্পারাডো’ (অ্যাকশন) দুইটি সিনেমার ওএসটি হিসেবে মনোনীত হয়। ১৯৭৪ ও ’৭৫ সালে যথাক্রমে ‘অন দ্য বডার’ এবং ‘ওয়ান অব দিস নাইট’ ১৯৭৬ সালের ডিসেম্বরে বের হয় হোটেল ক্যালিফোর্নিয়া। টাইটেল ট্র্যাকটি জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে আসে এবং অ্যালবামের ‘নিউ কিডস ইন টাউন’ গানটি বিলবোর্ড চার্টের ১ নম্বর স্থান দখল করে নেয়। অ্যালবামটির জনপ্রিয়তার সাথে সাথে ব্যান্ডটিও সারা বিশ্বে প্রচুর কদর পেতে থাকে। এর আগে তাদের লাইনআপে জো ওয়ালশ এসে যোগ দেন। ব্যান্ডের সদস্যদের নিয়ে কিছু কথা ডন হ্যানলি :১৯৪৭ সালের ২২ জুলাই টেক্সাসে তার জন্ম। স্টিফেন এফ অস্টিন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পড়ালেখা শেষ করার পরে ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসে চাকরি নেন। গান-বাজনায় তার অদম্য ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বাবার হার্টের অসুখের কারণে বাবাকে নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকতে হতো তাকে। এর মাঝেই ১৯৬৪ সালে বন্ধু ক্লিয়ারেন্স হেইন্স এবং ফ্রিডি নিসকে সাথে নিয়ে এফএফএ টেলেন্ট কন্টেস্টে অংশ নেন এবং দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন। বাবার মৃত্যুর পরে ১৯৭০ সালে তিনি লস অ্যাঞ্জেলেস চলে আসেন এবং ক্যানি রজার্সের প্রযোজনায় শিলন ব্যান্ডের সেলফটাইটেল্ড অ্যালবামটি বের করেন। এই সময়ই অ্যাটম রেকর্ড স্টুডিওতে গ্ল্যান ফ্রেইর সাথে পরিচয় হয় তার। এই পরিচয় পর্বটা ছিল তার জীবনের একটা ভালো টার্নিং পয়েন্ট, কারণ এর পরপরেই তিনি ঈগলসের সদস্য হয়ে যান। যদিও এর আগে তারা দুইজন একসাথে লিন্ডা রনস্ট্যান্ডের সাথে অতিথি শিল্পী হিসেবে অংশ নেন। ভোকাল, ড্রামস এবং গিটার—এ তিন বিষয়েই তার দক্ষতা ছিল অসামান্য। এর পাশাপাশি তিনি গানও লিখতেন। গ্ল্যান ফ্রেই :১৯৪৮ সালের নভেম্বরে মিশিগানে জন্ম তার। বাবা ছিলেন মটর মেকানিক আর মা গৃহিণী। ছোটবেলায় তিনিও ছিলেন শান্ত প্রকৃতির। কিন্তু সেই সময়টায় স্কুলের ছেলেপুলেগুলো ছিল বখাটে, প্রায়ই তার সাথে ওদের বনিবনা হতো না। অনেক চরাই-উতরাইয়ের মাঝেই সংগীতের প্রতি তার চরম আসক্তি তাকে সংগীত জগতে নিয়ে আসে। ১৯৬০ সালে তিনি তার প্রথম রক ব্যান্ড খুলেন, নাম দেন মারশুম। কিশোর বয়সেই তিনি ধূমপান এবং মদ্যপানে আসক্ত হয়ে পড়েন। ১৯৬৯ সালে তিনি জীবিকার তাগিদে লস অ্যাঞ্জেলেসে পারি জমান। সেখানে লিন্ডার সাথে পরিচয় হয় এবং একসময় লিন্ডার সাথেই নিয়মিতভাবে গিটার বাজাতে থাকেন। এর পরে ডনের সাথে পরিচয় এবং পরে ঈগলস ব্যান্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েন। তার উল্লেখযোগ্য সলো অ্যালবামগুলো হলো—‘নো ফান অ্যালাউড’, ‘দ্য অলনাইটার’, ‘সোল সার্চিং’ এবং ‘স্ট্রেঞ্জ ওয়েদার’।