কুবিতে বঙ্গবন্ধু পরিষদ গঠন নিয়ে শিক্ষকরা দ্বিধাবিভক্ত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) বঙ্গবন্ধু পরিষদের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে শিক্ষকদের গ্রুপিং প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। এক গ্রুপ কমিটি গঠন করলেও সিনিয়র শিক্ষকদের অপর একটি গ্রুপ কমিটি বর্জন করেছে। তাদের অভিযোগ ভোটার তালিকায় ত্রুটি থাকায় এবং ১৬ জন শিক্ষককে তালিকায় ভোটার না করে একটি পক্ষ বঙ্গবন্ধু পরিষদের কমিটি গঠন করে। তাই এ বিতর্কিত কমিটি মানি না। অবিলম্বে এ কমিটি বাতিল ঘোষণা করে পুনরায় পরিষদের সকল শিক্ষকদেরকে নিয়ে কমিটি গঠনের দাবিও জানানো হয়। মঙ্গলবার এক লিখিত বিবৃতিতে তারা এ অভিযোগ করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের ২ জুলাই রাজনীতিমুক্ত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু পরিষদ গঠনের মাধ্যমে শিক্ষক রাজনীতি শুরু হয়। শুরু থেকেই এ পরিষদের বিরোধিতা করে আসছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত অপর একটি গ্রুপ। তাদের অভিযোগ বিএনপি-জামায়াত সমর্থিতদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু পরিষদ। পরবর্তীতে এ সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া বেশিরভাগ শিক্ষকই নিজেদের সরকার সমর্থক প্রমাণ করতে যোগ দেয় বঙ্গবন্ধু পরিষদে। গত ডিসেম্বরে পরিষদের কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে ভোটার তালিকাও প্রকাশ করা হয়। এতে পরিষদের অন্তর্ভুক্ত ১৬ জন শিক্ষকের নাম তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়। বলা হয়, চাঁদা পরিশোধ না করায় তাদেরকে তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। জানা যায়, এ ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকা দিয়েই সোমবার নতুন কমিটি গঠন করা হয়। এতে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জিএম মনিরুজ্জামান সভাপতি ও নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আইনুল হক সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এদিকে, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া শিক্ষকরা এক লিখিত বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, ‘ভোটার তালিকা পুনঃপ্রকাশের দাবিতে গত ২১ তারিখে ৪২ জন শিক্ষকের স্বাক্ষরিত একটি আবেদন নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়। এতে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত জটিলতায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার আব্দুল মালেক পদত্যাগ করলেও অপর দুই সহকারী কমিশনার নির্বাচনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন- যা অত্যন্ত দুঃখজনক, অনৈতিক ও গঠনতন্ত্রের পরিপন্থি।’