ভোলার চরাঞ্চলে অতিথি পাখির ভিড় আগের মতো নেই
এম. ফারুকুর রহমান (ভোলা উত্তর প্রতিনিধি)
প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৪০
প্রতি বছরের মতো এবারো ভোলার চরাঞ্চলে অতিথি পাখিরা এসে জড়ো হয়েছে। সুদূর হিমালয় ও সাইবেরিয়াসহ উত্তরের শীতপ্রধান দেশ মঙ্গোলিয়া, নেপাল, জিনজিয়াং থেকে আসা হাজার হাজার অতিথি পাখির কলতানে মুখরিত হয়ে উঠেছে প্রকৃতির সৌন্দর্যের লীলাভূমি বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে জেগে ওঠা দ্বীপজেলা ভোলার বিভিন্ন চরাঞ্চল। তবে অতিথি পাখির আগমনের পরিমাণ আগের তুলনায় অনেকটাই কম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৮০’র দশকে ভোলায় প্রায় ৩৫০ প্রজাতির অতিথি পাখি আসে। কিন্তু বর্তমানে এর সংখ্যা নেমে ১৩২ প্রজাতিতে চলে এসেছে। প্রতিবছরই শীতের শুরুতে হাজার পাখির কলকাকলীতে এ অঞ্চল মুখরিত হয়ে উঠলেও নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে দিন দিন এর সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পাখি পর্যবেক্ষক ইনাম আল হক জানান, গত বছর শীতে এ চরাঞ্চলে সর্বমোট ৩১ হাজার ৯শ’ ৬৫টি বিভিন্ন প্রজাতির পাখি গণনা করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৩২ প্রজাতির পাখির সন্ধান মিলছে। যার মধ্যে ৬৫ প্রজাতির জলচর পাখি ছিল। সৈকতে পাখির সন্ধান পাওয়া গেছে ১২ হাজার ৯১টি। যার মধ্যে চেগা, জিরিয়া, বাটান ছিল উল্লেখযোগ্য। বুনো হাঁসের সন্ধান মিলছে ৯ হাজার ৭শ’ ৫৩টির। এর মধ্যে সিথি হাঁস বেবী, চকা-চকি, রাজহাঁস উল্লেখযোগ্য। ৩১ হাজার ৯শ’ ৬৫টি পাখির মধ্যে পরিযায়ী (অতিথি) পাখির সংখ্যা ছিল ২২ হাজার। বাকি বসবাসকারী ১০ হাজার পাখি স্থায়ী।
ইনাম আল হক বলেন, বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনসহ জৈব সারের ব্যবহার হ্রাস ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার বৃদ্ধি পাখি কমে যাওয়ার বড় কারণ। এছাড়া মোবাইল ফোনের টাওয়ারের রেডিয়েশন, অতিথি পাখির জন্য ক্ষতিকর কিনা তা নির্ধারণে ইতিমধ্যেই পরিবেশ বিজ্ঞানীরা কাজ শুরু করেছেন।
পাখি পর্যবেক্ষক ও পর্বতারোহী এম এ মুহিত জানান, ২০০০ সাল থেকে তিনি প্রতি বছর এ পাখি শুমারি করে আসছেন। ২০০০ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ভোলার যে সকল চরে জনবসতি ছিল না এখন সেখানে মানুষের আনাগোনা বেড়েছে। ফলে পাখিদের প্রজনন ক্ষেত্র নষ্ট হচ্ছে। এছাড়াও এসব চরাঞ্চলে গাছের সবুজ বেষ্টনী একের পর এক উজাড় হচ্ছে। যার ফলে পাখিরা এখন ওইসব চরে তাদের নিরাপদ স্থান বলে মনে করছে না। পাখিদের খাবার উপযোগী মাছের সংখ্যাও দিন দিন কমে যাচ্ছে।
প্রকৃতি ও পাখি বিশেষজ্ঞ ড. এস এম এ রশিদ ১৯৮২ সালে বাংলাদেশে প্রথম পাখি শুমারি শুরু করেন। তিনি বলেন, ৮০’র দশকে ভোলায় মোট ৩৫০ প্রজাতির অতিথি পাখি আসে। তা এখন ১৩২ প্রজাতিতে নেমেছে। পাখিদের আবাসস্থল এখন লোকালয়ে পরিণত হয়েছে। পাখিদের কোলাহলমুক্ত বিচরণ ক্ষেত্রগুলো এখন প্রভাবশালীদের দখলে। তিনি নদীর প্রাণ-বৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনতে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।