উত্তরের দিনমজুররা ছুটছেন দক্ষিণে!

সৈয়দপুরসহ বিভিন্ন জেলার কৃষি শ্রমিকরা কাজের সন্ধানে ছুটছেন দক্ষিণের জেলাগুলোতে। ফলে রেলওয়ে ও বাসে উপচেপড়া ভিড়। এলাকায় কাজ নেই, কিস্তির টাকা পরিশোধের জ্বালা। এ কারণে তারা বাড়িতে বসে না থেকে ছুটছেন কাজের সন্ধানে।

সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন। স্টেশনের প্লাটফরম এবং প্লাটফরমের বাইরে ৭/৮ জন কিংবা ১০/১২ জন করে দলবদ্ধ হয়ে বসে আছেন। তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে আছে  একটি করে ব্যাগ। সেইসঙ্গে কারো হাতে আছে কাস্তে, কারো হাতে আছে বাঙ্কুয়া। তারা সকলেই দিনমজুর (কামলা)। তারা মূলত চিলাহাটি থেকে খুলনাগামী আন্তঃনগর রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনের অপেক্ষা করছে। আর চেয়ে চেয়ে দেখছে কখন উত্তর সীমান্ত থেকে তাদের কাঙ্ক্ষিত রূপসা ট্রেনটি সৈয়দপুরে রেলওয়ে স্টেশনে ঢুকবে। ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা এসব দিনমজুরদের বাড়ি নীলফামারী, দিনাজপুর, রংপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে। তারা উত্তরের জেলা থেকে কাজে সন্ধানে দক্ষিণের জেলা নওগাঁ, নাটোর, রাজশাহী, জয়পুরহাট জেলায় ছুটছেন। কারণ ওইসব এলাকায় এখন পুরোদমে চলছে ইরি-বোরো ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ। আর উত্তরের জেলাগুলোতে আরো ১৫ দিনেক পড়ে শুরু হবে ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ। এখন এখানে তেমন কোনো কাজকর্ম একটা নেই। তাই এ অঞ্চলের দিনমজুররা  কাজের সন্ধানে এবং বাড়তি  কিছু আয়ের আশায় ছুটছেন  দক্ষিণের জেলাগুলোতে। 

গত মঙ্গলবার সকালে সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনে সরেজমিনে কথা হয় কাজের খোঁজে বাড়ি থেকে বের হওয়া বেশ কয়েকজন দিনমজুরের সঙ্গে এ প্রতিনিধির। এমন একজন দিনমজুর হচ্ছেন— মো. ইলিয়াস (৩৫)। তার বাড়ি নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউপি নিতাই কাচারিপাড়ায়। তিনি বলেন, হামরা দিনমজুর (কামলা) মানুষ। দিনমজুরি করি যে আয় রোজগার হয় তা দিয়ে চলে হামার সংসার। এখন হামার এলাকাত কোনো কর্ম নেই। আর প্রত্যেকদিন তো সংসার খরচা লাগে। বাড়িত বসি থাকলে সংসার খরচা কোটে পাব। তার বেদেন হামরা (আমরা) ১১ জন মিলি দল করি কাজের জন্যে বাড়ি থেকে বের হয়ছি। যাম সান্তাহার, নওগাঁ, নাটোর এলাকায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত প্রায় ৮/১০ দিন যাবত্ এই সব দিনমজুররা কাজে সন্ধানে ট্রেনে দক্ষিণের জেলাগুলোতে ছুটছেন।  তারা প্রতিবছর ইরি -বোরো মৌসুমে কয়েক হাজার দিনমজুর দক্ষিণের জেলায় যান ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে। আর অন্য যানবাহনের চেয়ে ট্রেনে খরচ কম পড়ায় তারা মূলত ট্রেনেই যাতায়াত করে থাকেন। এ সময় ট্রেনগুলোতে দিনমজুরদের চাপে প্রচণ্ড ভিড় হয়। অতিরিক্ত ভিড়ে অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদেও যান। অনেকেই আবার ট্রেনের টিকিট করে প্রচণ্ড ভিড়ে বগিতে উঠতে ব্যর্থ হয়। তাতে আর তাদের কিছুই করার থাকে না। অপেক্ষায় থাকে পরের ট্রেনের।

সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার মো. আলমগীর হোসেন জানান, গত সপ্তাহখানেক ধরে দিনমজুরদের চাপে ট্রেনগুলোতে ভীষণ ভিড়। অনেকে ট্রেনের টিকিট কাটার পরও বগিতে উঠতে পারে না। তখন আমাদের কাছে টিকিটের টাকা ফেরত চেয়ে  বসে। এ সময় আমরা কিছুই করতে পারি না তাদের জন্য। তবে দিনমজুররা সকলেই ট্রেনের টিকিট কেটেই ট্রেনে চড়েন বলে জানান তিনি।