ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায়
লবণ চাষিরা হতাশ
মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:১৬
ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চাষিরা লবণ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। সরকার ঘোষিত লবণ নীতিমালা দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে। চাষিদের কাছ থেকে নামমাত্র মূল্যে লবণ কিনে তা প্যাকেটজাত করে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। ৩ টাকায় প্রতি কেজি কেনা লবণ প্যাকেটজাত করে বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়। নীতিমালা অনুযায়ী বিসিক চাষিদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে কোন লবণ কেনছে না। লবণে আয়োডিন মেশানোর নতুন প্রযুক্তি অধিকাংশ লবণ মিল মালিকের কাছে নেই। মধ্যস্বত্বভোগী ও মিল মালিকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে দেশের লবণ শিল্প।
বিসিক কর্মকর্তারা জানান, অর্থ বরাদ্দ না থাকায় লবণ নীতিমালা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। এতে মধ্যস্বত্ব্বভোগী ও মিল মালিকরা লাভবান হচ্ছে। লবণচাষিরা জানান, উত্পাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য চাষিরা পান না। সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) চাষিদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যের লবণ কিনে বাজারজাত করার নিয়ম রয়েছে। তবে এই নিয়ম বিসিক পালন করছে না বলে লবণ চাষিদের অভিযোগ। বিসিকের (কক্সবাজার) ডিজিএম সনজিত বড়ুয়া চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, ন্যায্যমূল্যে প্রান্তিক চাষিদের কাছ থেকে লবণ কেনার কথা থাকলেও অর্থ বরাদ্দ না থাকায় সম্ভব হচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা যায়, লবণের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চাষিরা আগ্রহ হারাচ্ছেন। বছর বছর লবণ উত্পাদন কমে যাচ্ছে। এই সুযোগে বিদেশ থেকে লবণ আমদানি করে চড়া দামে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সহ-সভাপতি নূরুল আবছার হেলালী ইত্তেফাককে বলেন, লবণ নীতিমালা বাস্তবায়িত না হওয়ায় দেশের প্রায় ৪৭ হাজার লবণ চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তারা লবণের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। বিসিকও কয়েক বছর যাবত্ চাষিদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে কোন লবণ কিনছে না।
লবণ মিল মালিক সমিতি সূত্র জানায়, দেশে বছরে লবণের চাহিদা প্রায় ১৬ লাখ মেট্রিক টন। আর দেশে উত্পাদিত হচ্ছে প্রায় ৯ লাখ মেট্রিক টন। গত বছর ভারত ও মিয়ানমার থেকে লবণ আমদানি হয়েছে। সূত্র আরো জানায়, মাঠ পর্যায়ে উত্পাদিত লবণ স্থানীয় পর্যায়ে মজুদ রাখার কোন ব্যবস্থা নেই। স্থানীয় পর্যায়ে গুদাম নির্মাণের কথা থাকলেও তার কোন উদ্যোগ নেই। ফলে মাঠ থেকে চাষীদের সরাসরি লবণ বিক্রি করে দিতে হচ্ছে। এতে দালালচক্র ও মিল মালিকরা লাভবান হচ্ছে ।
লবণ মিল মালিক সমিতি জানায়, দেশে প্রায় ৩৫০টি লবণ মিল রয়েছে। এর মধ্যে ৩০০টি মিলে আয়োডিনযুক্ত করার প্রক্রিয়া রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই নিম্নমানের প্রক্রিয়ায় আয়োডিনযুক্ত করা হয়। নতুন প্রযুক্তি শুধুমাত্র ৮ থেকে ১০টি কোম্পানির কাছে রয়েছে। ফলে উন্নত প্রযুক্তির মেশিন না থাকায় লবণের গুণগত মান সঠিকভাবে হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। বিএসটিআই’র সহকারী পরিচালক কেএম হানিফ ইত্তেফাককে বলেন, কারখানা ও বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে মান যাচাই করা হয়। পটিয়া ও চাক্তাই এলাকায় বিভিন্ন মিলে অভিযান চালিয়ে নিম্নমানের প্যাকেটজাত লবণ পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করা হয়েছে।