আগামীকাল শুরু হচ্ছে জাতীয় কবিতা উত্সব

‘যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবি আজ কবিতার’ এই শ্লোগানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী চত্বরে আগামীকাল শুক্রবার শুরু হচ্ছে ২ দিনব্যাপী কবিতার এই উত্সব। ২৭ বছর ধরে নিয়মিতভাবে জাতীয় কবিতা পরিষদ ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে এ উত্সবের আয়োজন করে আসছে। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে জাতীয় কবিতা উত্সব উপলক্ষে গতকাল বুধবার আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। উত্সবের বিস্তারিত তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন—উত্সব পরিষদের আহবায়ক কবি মুহাম্মদ সামাদ, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী, কবি কাজী রোজী ও পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আসলাম সানী। এ সময় পশ্চিমবঙ্গের কবি অমৃত মাইতি আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, এবারের উত্সবে কবিতার মাধ্যমেই যুদ্ধাপরাধ ও সকল অপকর্মের প্রতিবাদ জানানো হবে। একাত্তরের গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধীদের ঘৃণ্য ও গভীর ষড়যন্ত্র সম্পর্কে দেশবাসীকে সচেতন করতে কবিতা পরিষদও এই উত্সবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক আগামীকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় জাতীয় কবিতা উত্সবের উদ্বোধন করবেন। এবারের উত্সব জাতীয় কবিতা পরিষদের অন্যতম প্রাণপুরুষ কবি ও ছড়াকার ফয়েজ আহমদ ও বাংলাদেশের একান্ত সুহূদ বরেণ্য কবি কথাসাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে উত্সর্গ করা হয়েছে । ২ দিনের এই উত্সবে থাকছে বিভিন্ন ভাষার কবিদের মিলনমেলা, একুশের গান, উত্সব সঙ্গীত, স্বরচিত কবিতা পাঠ, আবৃত্তি, কবিতার গান, সেমিনার ও প্রদর্শনী। উত্সবকে সামনে রেখে আমন্ত্রিত বিদেশী কবিদের অনেকেই ইতিমধ্যে ঢাকায় উপস্থিত হয়েছেন। উত্সবের প্রথম দিনের সমাপনী আবৃত্তি পর্বে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গীতাঞ্জলী’ কাব্যগ্রন্থ থেকে আবৃত্তি পরিবেশন করা হবে। কবিগুরুর নোবেলপ্রাপ্তির শতবর্ষকে সম্মান জানিয়ে এই আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও কবিতার গানের ক্ষেত্রেও ‘গীতাঞ্জলী’কে প্রাধান্য দেয়া হবে ।