এবার রাজনৈতিক স্টল থাকছে না বইমেলায়
প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:৩১
সদিচ্ছা থাকলে যে কোন উদ্যোগই যে সফল করা সম্ভব সেটাই প্রমাণ করল বাংলা একাডেমী কর্তৃপক্ষ। আগামীকাল শুক্রবার শুরু হতে যাওয়া মেলায় প্রকাশকদের বাইরে এবার তারা কোন স্টল বরাদ্দ দেননি। অমর একুশে গ্রন্থমেলার নীতিমালা মেনে এবার মেলা পরিচালিত হতে যাচ্ছে। তাই প্রতিবছর উটকো প্রকাশক, সংগঠনের নামে ছাত্র নেতাদের স্টল বরাদ্দ নিয়ে বই বিক্রির যে হিড়িক পড়ে এবার তা থাকছে না। অবশ্য এ উদ্যোগে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গত বছর দেয়া একটি ঘোষণা একাডেমী কর্তৃপক্ষকে শক্ত অবস্থান নিতে সাহায্য করেছে।
গতবার আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেয়া হয়েছিল যে, দলের লিখিত অনুমতি ছাড়া দলীয় পরিচয়ে কোন স্টল বরাদ্দ যেন মেলায় না দেয়া হয়। সেই ঘোষণা অনুযায়ী এবার দলীয় পরিচয়ে কোন স্টল, সংগঠন ও এনজিওগুলোকে স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়নি। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনগুলোরও স্টল বরাদ্দ দেয়ার একটা চাপ থাকে। এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনগুলো সেটা করেনি। এমনকি কিছু সমস্যা সৃষ্টি হলে ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সেসব নিয়ন্ত্রণ করেছে।
এবারের মেলা শুধু একাডেমী প্রাঙ্গণের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে। একাডেমীর সামনের রাস্তায় কোন বই বা অন্য কোন সামগ্রীর স্টল বসানো হবে না। মেলাকে উত্সর্গ করা হয়েছে প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের নামে। এসবের পাশাপাশি এবারের বইমেলার নীতিমালায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে গতবারের আলোচিত ডোরেমন, বারবি, পোকেমন ও মি. বিনের মতো পাইরেটেড বই।
এ প্রসঙ্গে বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, ‘আমরা গত বছরের মেলা চলার সময় থেকেই ২০১৩ সালের বইমেলা শুধু প্রকাশকদের নিয়ে করার চিন্তা-ভাবনা করি। সে লক্ষ্যে সারা বছর জনসংযোগ করে এবারের সেই সিদ্ধান্তে অটল রয়েছি। যেহেতু আমরা স্টল বরাদ্দের তালিকা তৈরি করে ফেলেছি, সেহেতু বড় ধরনের আর পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা নেই।’ তিনি বলেন, ‘অনেকেই মেলাকে একাডেমীর বাইরে করার কথাও বলেছিলেন। এ বিষয়ে একাডেমীর পক্ষ থেকে লেখক, প্রকাশক, সংস্কৃতিকর্মীদের সাথে আলোচনা করা হয়। তারই ভিত্তিতে আমরা শুধুমাত্র একাডেমী প্রাঙ্গণেই মেলা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।’
এদিকে, বইমেলাকে ঘিরে বাংলা একাডেমী চত্বরে সাজসাজ রব শুরু হয়ে গেছে। বাংলা একাডেমীর প্রাঙ্গণের এপার থেকে ওপার সর্বত্র এখন বাঁশের স্টলের সারি। তার সামনেই কাঠ, পারটেক্সসহ নানা ধরনের সামগ্রী দিয়ে চলছে কাঠামো গঠনের প্রস্তুতি। চত্বর জুড়ে এখন উত্সবের আমেজ। শুধু প্রকাশক বা স্টল সজ্জার কাজে নিয়োজিতদের মধ্যে নয়, একাডেমীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও লেগেছে উত্সবের ছোঁয়া। একদিন বাদেই স্টলগুলো ভরে উঠবে নতুন বইয়ে। লাখো মানুষের পদচারণায় মুখরিত হবে অমর একুশে গ্রন্থমেলা প্রাঙ্গণ। গত বৃহস্পতিবার লটারি শেষে স্টলের স্থান বুঝে পাওয়ায় প্রকাশনা সংস্থাগুলো এখন ব্যস্ত সময় পার করছে স্টল সজ্জায়।
বইমেলায় অংশ নেয়ার জন্য শনিবার পর্যন্ত ২৫০টি প্রকাশনা সংস্থাকে ৪৩০টি ইউনিট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১১১টি প্রতিষ্ঠানকে এক ইউনিট, ৮১টি প্রতিষ্ঠানকে দুই ইউনিট এবং তিন ইউনিট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৪৫টি প্রতিষ্ঠানকে। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরকে চার ইউনিট, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরকে দুই ইউনিটসহ ২৩টি সরকারি প্রতিষ্ঠানকে স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও ৮টি সেবা প্রতিষ্ঠানকে ১৯টি ইউনিট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া বরাবরের মতো একাডেমীর বহেরাতলায় থাকছে লিটল ম্যাগ চত্বর। এতে ৪২টি লিটল ম্যাগ নিজেদের প্রকাশনা নিয়ে অংশ নেবে।