ছেলেবেলার ছবিটা

পিয়াল ছেলেবেলায় বাবার লাইব্রেরিতে অনেকক্ষণ বসে থাকতে ভালোবাসত। কত রকমের বই যে ছিল সেখানে। বাবা ছিলেন অমনিভর রিডার, যাকে বাংলায় বলা হয় সর্বভুক পাঠক। সেখানে অনেক বড় বড় শেলফের পাশে একটা ছোট শেলফভর্তি ওর পড়বার মতো বই ছিল। কিন্তু পিয়াল ভালবাসতো বাবার বইগুলো খুলে তার ভেতরে কী আছে, তা জানতে। বড়দের বইতে ছবি থাকে না। কিন্তু একটা ইংরাজি বইতে ছবি ছিল। সব গল্পের জন্য একটা ভালো ক্ল্যাসিক ছবি। পিয়াল ছবিগুলো ওল্টাত। একটা ছবি ছিল একটা রেল স্টেশনের। সেখানে একটা লম্বা লাঠির মাথায় বাতি। আর সেই বাতির তলায় দাঁড়িয়ে আছে একটা মানুষ, যার মাথায় ক্যাপ। গায়ে কোট। সারা স্টেশনে ধোঁয়া ধোঁয়া কুয়াশা। যেন লোকটার পা ডুবে গেছে কুয়াশায়। মুখটা দেখা যেত না কখনো। পিয়াল ছবিটা অনেকসময় ধরে দেখত। মনে মনে ভাবত, লোকটার মুখ কেমন দেখতে? ছবিটা এমন করে আঁকা কেন? ছবিটা খুলে অনেকসময় তাকিয়ে থাকত পিয়াল। তখন ওর বুকের ভেতরে একটা ব্যথা হতো। যখন সব হারিয়ে যায় বোধকরি এমন ব্যথা অনুভব করতে পারে সেই সবকিছু হারানোর কোনো একজন। যেন ব্যথাটা খাঁচায় আটকে থাকা পাখি। বাবা এলেই বইটা বন্ধ করত ও। বাবা বলতেন—জ্যাক লন্ডনের গল্প শুনবার মতো বয়স হয়নি তোমার। পড়বার মতোও নয়। ওর নানা অসাধারণ গল্প আছে। আর একটু বড় হলে পড়বে। তুমি পড়ে বুঝতে পারছ? সবটা নয়। তবে আমি গল্পের ছবি দেখছি। এরপর প্রশ্ন করেছিল—জ্যাক লন্ডন কি লন্ডনে থাকেন? না। উনি আমেরিকার। জ্যাক লন্ডনের বইয়ের একটা ছবি। যেন নেশার মতো ছবিটার দিকে তাকিয়ে থাকত পিয়াল। অনেক সময় ধরে। মা তখন একটা স্যানিটোরিয়ামে। তাঁর মাথাটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। একসময় বাবা বাধ্য হন তাঁকে স্যানিটোরিয়ামে পাঠাতে। এরপর বাবা আর পিয়াল। আর বাবার একঘর বই। পিয়াল মোটামুটি একাই বড় হয়েছে। সেই নিয়ে তার দুঃখ ছিল না তেমন। কারণ বাবা তাকে বইয়ের জগতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন, যে জগতটা তাকে খুব টানত। তার বিশেষ বন্ধু হয়ে উঠেছিল। আর রহস্য নিয়ে ভাবতও। মা কেন পাগল হয়েছিলেন। বাবা কেন একা। বাবা কখনো তার সদুত্তর দেননি। বাবা যখন বইয়ের জগত নিয়ে ব্যস্ত, মা সিলিংফ্যানে ফাঁস লাগিয়ে মারা গেলেন। এসাইলাম তাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারেনি। পিয়াল তখন লন্ডনে এসেছে ব্যারিস্টারি পড়তে। বাবা পাঠিয়েছিলেন তাকে। বাবার একটা চিঠি পেল—আমি আবার বিয়ে করছি। বই অনেক প্রয়োজন মেটাতে, পারে কিন্তু সবটা নয়। তাই বিয়ে করলাম। তোমার মা এই পৃথিবীতে নেই। তুমি কী আমার এই ঘটনায় কষ্ট পাবে? আমার কথাও একটু ভাবতে হবে তোমাকে। তারপর আরও কিছু কথা। আশ্চর্য সেই রাতেই পিয়াল সেই ছবিটাকে দেখেছিল। তার সেই বিশেষ ভাবনার ছবি। তখন সেই বাতির নিচে যাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিল, তিনি একজন নারী। সেই বাতির তলা দিয়ে একটা পথ কোন এক অতল সুড়ঙ্গের দিকে চলে গেছে। কিন্তু সেই নারীমূর্তির কোনো অবয়ব বা শরীর সে দেখতে পায়নি। যদি সেই নারী মুখ ফেরাত, পিয়াল কি তাকে চিনতে পারত? হয়তো না। ঘুমে ও জাগরণে একটা ছবি। ঘুম ভেঙে পিয়াল ভয়ে ঘেমে উঠল। তখন এপ্রিল চলছে লন্ডনে। শীত শীত ভাব আছে। ছবিটা তখন আবার মনের ভেতর শাখাপ্রশাখা নিয়ে নতুন এক গাছের মতো জেগে উঠল। পিয়াল উঠে পরপর কয়েক গ্ল¬াস পানি খেল। যে ছোট একটা ব্যালকনি আছে এই অ্যাপার্টমেন্টে, সেখানে এসে দাঁড়াল একবার। তারা ছিল আকাশে। যদিও মেঘে ঢাকা তারা তবু ওর মনে হলো, একটা তারার জগত ওর সামনে। আর সেই জগতে একটা পথ কোথায় যেন চলে গেছে। কোন মিল্কিওয়েতে, কে বলবে? মনের ছবি আর তারার ছবি ভাবতে ভাবতে সে আবার ঘুমাতে গেল। তখন একটা ছোট স্টেশন, একটা বাতির টিমটিমে আলো, কালোমতো কোট পরা, কপাল ঢাকা হ্যাট মাথায় লোককে সে দেখতে পেল, যার ঘাড়ের কিছুটা অংশ দেখা যায় কিন্তু মুখ নয়। সেরাতে স্বপ্নের ভেতরও তার মুখ দেখতে পেল না পিয়াল। সেই অক্টোবরে বাবার মতোই ওরও মনে হয়েছিল, জীবনে একজন নারী থাকা মন্দ নয়। যখন বারবারাকে দেখল সে, প্রয়োজনটা মনের ভেতর একেবারে জীবন্ত হয়ে উঠল। চেশারের ক্যাটসকিলে থাকে বারবারা। সে একটা ডিনারে এসেছিল আইন সস্বন্ধে বক্তৃতা করতে। বয়স ওর থেকে কিছু বেশি হতে পারে, কিন্তু খুব বেশি নয়। আপনি চেশারে থাকেন? ঠিক তা-ই; চেশার। চেশার বেড়ালের কথা সকলে জানে। লোকে বলে চেশার ক্যাট। আমি কিন্তু তা নই। বলতে পার চেশার গ্রেহাউন্ড। আপনাকে এমন নামে মানায় না। তাই নাকি? একজন ব্যারিস্টার বলেন, তিনি চেশার বেড়াল নন, তিনি অবশ্যই তা বলতে পারেন। এর পরের কথাবার্তাগুলো এমন— তুমি তাহলে একদিন আসছ আমার বাড়িতে। আমি যাব? কেন নয়। বারবারা ওয়াইন পান করেছে। বড় বড় নীল চোখে মনে হলো একটু ঘুম ঘুম ভাব। পিয়াল, আমি তোমাকে পছন্দ করি—গ্রে হাউন্ড নয় বেড়ালের গলাতে বলে বারবারা। পিয়াল বলে—আমিও। তুমি বড় নাইভ, পিয়াল। মেয়ে নিয়ে খুব বেশি অভিজ্ঞতা নেই তোমার। তা বলতে পারো, যদিও ইউ শব্দটাই ব্যবহার করছে, মনে মনে ভাবছে সে এবার তুমি বলছে। মিস ব¬াকবার্ন নয়। কবে আসছ আমার কাছে, ক্যাটসকিলে—ডাইরেক্ট প্রশ্ন। এই উইকএন্ডে—ডাইরেক্ট উত্তর। বারবারা যাবে বলে কালো কোট পরে। বাঁ হাত তুলে যখন দস্তানা পরতে থাকে, একটু চমকে যায় পিয়াল। বাঁ হাতের তর্জনীতে লাল টকটকে একটা পাথর। ছেলেবেলার ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারে এমন একটা পাথর বসানো অংটি দেখেছিল না? শুনেছে ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারের আংটিটা মায়ের প্রিয় একটা অংটি। যেন রাস্তার লাল বাতির মতো উজ্জ্বল সেই পাথরের রং। পরে অংটিটাকে ও আর খুঁজে পায়নি। বারবারা কোথা থেকে পেল সেই লাল পাথরের অংটিটা? ও তন্ময় হয়ে বারবারার আংটি দেখছিল। ওর দিকে তাকিয়ে বারবারা একটু হেসে বলেছে—ও, ভাবছ হাতমোজা কেন? পথের ধুলোবালি থেকে বাঁচতে। স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। পিয়াল বলেনি, ও হাতমোজা নয় আংটিটা দেখছে। একটা কালো পশমি উলের মেয়েলি হ্যাটের নিচে বারবারার চুলগুলো থোকা থোকা হয়ে আছে। কালো আঙুর, না হলে সাপ কুণ্ডলী পাকিয়ে ঘুমিয়ে আছে হ্যাটের তলায়। গ্রিক মিথোলজির গরগনের আর কোনো বোনের মতো। পিয়াল ওর যাবার পথের দিকে তাকিয়ে থাকে। বারবারা রাস্তা থেকে তর্জনী তুলে একটা কালো ট্যাক্সি ডাকে। তারপর ট্যাক্সিটা নিয়ে ব্রিজের তলা দিয়ে চলে যায়। যখন সে হাত নাড়ে, পিয়াল জানে ওখানে একটা লাল পাথরের আংটি আছে। তখন যদিও লাল পাথরটা চোখে পড়ে না, পিয়াল জানে লাল পাথরটা বারবারার তর্জনীতে রাস্তার সিগন্যালের মতো জ্বলছে। মায়ের সেই আংটিটা লাল সংকেতের মতো বারাবারার আঙুলে। কয়েক দিন পরে একটা রাতের গাড়িতে উঠে বসেছে বারবারার কাছে যাবে বলে। গাড়িটায় তেমন লোকজন নেই। ও ঘুমাবে না বলে ঠিক করেছে। ভোর চারটার দিকে ট্রেনটা পৌঁছে যাবে ক্যাটসকিলে। ও একটা বই পড়ছে। ওর কামরায় আর কেউ নেই। পাশের কামরায় দু-একজন থাকতে পারে। ট্রেনটা একটা-দুটো ছোট স্টেশন পার হয়ে চলেছে। থর্নহিল, মরনিংবেরি, লিলি অফ দ্য ভ্যালি, উইপিং উইলো—এমনি নানান নামের স্টেশন। প্রতি স্টেশনে থামে বলে অনেকেই এই ট্রেনটা পছন্দ করে না। পিয়াল অবশ্য টিকিট না পেয়ে এই ট্রেনে উঠেছে। একটা স্টেশনে গাড়ি থামলে একটা লম্বামতো লোক উঠে বসে। তার গায়ে কালো কোট। হ্যাটটায় কপালের অর্ধেক ঢাকা। যে বাতিটা জ্বালিয়ে সে বই পড়ছে, সেটা ছাড়া আর কোনে াবাতি নেই ট্রেনের কামরায়। ও আপারবার্থে শুয়েছে। ঠিক ওরই নিচে লোকটা বসেছে। তা-ই তো মনে হলো ওর। সে বুঝতে পারল লোকটা পাইপ টানছে। আজকাল ট্রেনে পাইপ টানা নিষেধ। কিন্তু লোকটা সে নিয়ে ভাবছে না। ওপর থেকে ধোঁয়া দেখতে পেল ও। লোকটার পা একটু দেখা যায়। ধোঁয়া ওর পায়ের চারপাশে জমতে শুরু করেছে। মনে হলো লোকটার পা দুটো ধোঁয়ার ভেতরে। না হলে কুয়াশার ভেতরে। পিয়াল তাকিয়ে আছে। লোকটার মাথায় হ্যাট, কালো কোট আর ধোঁয়ার ভেতরে পা। একটা টিমটিমে বাতি লোকটার মাথার ওপরে। সেই বাতিটা ওর বই পড়বার বাতি। গাড়িটা ছুটছে। আর ছয়টা স্টেশন পরেই ক্যাটসকিল। ওর গাড়ির দুলুনিতে একটু ঘুম পেয়েছে। বোধকরি একটু ঘুমিয়ে পড়েছিল। হঠাত্ একটা প্রবল শব্দে আর ঝাঁকুনিতে ওর ঘুম ভেঙে গেল। ও বুঝতে পারল, গাড়িটা একটা অ্যাকসিডেন্ট করেছে। ও গাড়ি ও স্টেশনের ভেতরের জায়গাটাতে কেমন করে জানি ছিটকে পড়েছে। সেখানেই আটকে আছে। অনেকক্ষণ পর সেই ভয়াবহ অবস্থা থেকে উঠে আসতে পারল স্টেশনের বারান্দার মতো জায়গাটায়। স্টেশনটা ছোট। একটা টিমটিমে বাতি জ্বলছে। ঠিক গ্যাসের বাতির মতো। একটা পোলের মাথায়। আর বাতির পরই একটা ছোট রাস্তা। যেন ওকে নিয়ে যাবে কোনো এক সুড়ঙ্গের কাছে। আরে, সেই লোকটা না? কালো কোট পরা লোকটা, মাথায় হ্যাট। মুখটা ফেরানো। এই তো সেই জ্যাকলন্ডনের গল্পের ছবি। নাকি এই লোকটা ট্রেনের সেই লোকটা। ও ছুটে এসে কথা বলতে চাইল লোকটার সঙ্গে। বলতে চাইল—কেমন আছেন আপনি? আপনার লাগেনি? লোকটা আগে আগে চলতে শুরু করল। ও তার পিছে পিছে। সুড়ঙ্গের মতো রাস্তা পার হয়ে গেল লোকটা। ওরা তখনও চলছে। কিন্তু কোনোমতেই লোকটাকে ছুঁতে বা তার কাছে যেতে পারছে না। কথা বলার প্রশ্নই নেই। চারিদিকে তখনো সকাল হয়নি। ও কেন চলেছে লোকটার পিছে পিছে, ও জানে না। লোকটা চলতে চলতে গেট খুলে একটা বাড়িতে ঢুকে গেল। পিয়াল নিজে তখন দরজার এপারে। ওর হাত-পা কেটে গেছে। ও এই বাড়িতে ঢুকে সেগুলোর একটু ব্যবস্থা করবে বলে দরজায় ধাক্কা দেয়। অনেকবার দরজা ধাক্কা দেবার পর দরজার এক অংশ খুলে যায়। ও দেখতে পায়, সেখান একটা সিঁড়ি নেমে গেছে বেসমেন্টের দিকে। ও খোলা দরজার এপারে চলে এসেছে। কে ওকে দরজা খুলে দিল, ও জানে না। ও বেসমেন্টে যায় না। পিয়াল একটা ঘরের দরজা খোলা পায়। সেখানে ঢুকে পড়ে। একটা ঘর গরম করবার চুলো জ্বলছে। সারা ঘরে একটু গরম আবহাওয়া, উত্তাপ। ও একটা চেয়ারে এসে বসে। আগুনের সামনে। বুঝতে পারে হাত-পা কেটে একাকার। সে চারপাশে তাকায়। কেউ নেই। একটু সুস্থির হয়ে চারপাশে যখন ভালোমতো তাকায়, দেখতে পায় কে যেন একটা বই পড়তে পড়তে রেখে গেছে। ও বইটা তোলে। আরে, এই তো সেই বই। ওর বাবার লাইব্রেরির সেই বিশেষ বইটা। ও দেখতে পেল সেই বুকমার্ক। ময়ূরের পাখার একটা বুকমার্ক ছিল ওর। বুকমার্কের জায়গাটায় সেই ছবিটা। ওর বুকে তখন প্রবল ব্যথা। দম নিতে কষ্ট। খাঁচার পাখির মতো। পিয়াল অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে ছবির দিকে। তখনই দরজা খুলে সেই লোকটা ঢুকেছে ঘুরে। তার মুখে কেমন এক ধরনের ব্যান্ডেজ। লোকটা এসে আরেকটা চেয়ারে বসেছে। সে চুপ করে বসে আছে। ওরা কেউ কথা বলছে না। আপনার মুখ ঢাকা কেন? উত্তর নেই। আপনি কথা বলছেন না কেন? উত্তর নেই। আপনারও লেগেছিল? যে ভাবে হেঁটে এলেন বুঝতে, পারিনি। উত্তর নেই। আপনার মুখটা একটু দেখতে পারি? এই মুখটাকে ছেলেবেলা থেকেই তো সে দেখতে চেয়েছে। লোকটার মুখটায় এ বাড়ির সব অন্ধকার। আপনার মুখটা দেখব। লোকটা কথা বলছে না। কোন কারণে পিয়াল চিত্কার করে ওঠে, কে জানে। পিয়াল চিত্কার করে লোকটার মুখের সব পর্দা বা ব্যান্ডেজ সরিয়ে দিতে চায়। হাসপাতালের বেডে নিজের মুখের ব্যান্ডেজ দু-হাতে টানাটানি করছে পিয়াল। দু-হাতে খামচে ধরেছে নিজের মুখের ব্যান্ডেজের কাপড়। পাগলের মতো ছিঁড়তে চায় সেগুলো। ওর মুখ এভাবে ঢাকা কেন? ওর চোখ অন্ধকার কেন? তারপর? চিরদিনের মতো জ্ঞান হারায় পিয়াল। তখন ও ঘরে আর কেউ নেই। নার্স অন্য কাজে পাশের ঘরে। একটা বাতি জ্বলছিল মাথার কাছে। আর একটা ছবি ছিল দেয়ালে। ঠিক ওর বিছানা বরাবর। ছবিটা এরকম—একটা এসাইলামের মতো ঘরে একজন নারী জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে একটা পাতা পাতা গাছের দিকে। সেই গাছে ছিল একটামাত্র ফুল, দড়ির ফাঁসের মতো ফুলটা গোল হয়ে ঝুলে ছিল ছবিটাতে। ছবিটা বোধকরি এরিখ সেগালের আঁকা। কিন্তু সেগাল তো সূঁচের ডটে পয়েন্টালিজমের ছবি আঁকে না। গাড়িটা পড়ে গিয়েছিল একটা খদে। দুর্গম সুড়ঙ্গের মতো খদটার কাছে কারা যেন রেল লাইনের স্লিপার খুলে রেখে দিয়েছিল। পিয়াল আর ছবিটা এখন একই জগতের অধিবাসী। আলফ্রেড নয়েজের ‘মিডনাইট এক্সপ্রেস’ অবলম্বনে