বিদ্যমান স্টেশনের ৫০ কিলোমিটারের
মধ্যে নতুন শুল্ক স্টেশন নয়
প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০১৩, ১৯:৫৭
দেশে বর্তমানে বিদ্যমান শুল্ক স্টেশনের ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন করে কোন শুল্ক স্টেশন করা যাবে না। আর নতুন করে কোন স্থল শুল্ক স্টেশন করতে হলে আগে পর্যাপ্ত অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া জিরো পয়েন্ট থেকে উভয় অংশে (বাংলাদেশ ও ভারত) শুল্ক স্টেশন থাকতে হবে বলে মনে করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
প্রস্তাবিত স্থল শুল্ক স্টেশন নীতিমালার উপর গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই মতামত দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে শুল্ক স্টেশন গড়ে উঠছে যার বেশিরভাগই দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ। ফলে অনেক টাকা খরচ করেও এসব স্টেশনের অনেকগুলোকে শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কার্যকর করা যাচ্ছে না। এরই পরিপ্রেক্ষিতে স্থল শুল্ক স্টেশন নীতিমালা করতে যাচ্ছে সরকার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর একটি খসড়া রূপরেখাও তৈরি করেছে। এ জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিটি বর্তমানে এ বিষয়ে কাজ করছে। এই নীতিমালার উপর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে মতামতের জন্য পাঠানো হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মতামত এনবিআরে পাঠানো হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এই মতামতে আরো বলা হয়, ভৌগোলিক বা অন্য কোন কারণে কোন শুল্ক স্টেশনের কার্যকারিতা হ্রাস পেলে প্রাথমিকভাবে ওই শুল্ক স্টেশনকে অকার্যকর ঘোষণা করতে হবে। এর ১ বছর পর এটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা যেতে পারে।
সীমান্ত পথে প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমারের সাথে রেল, নৌ ও সড়কপথে বাণিজ্য বৃদ্ধি ও দ্রুততর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে স্থল বন্দর প্রতিষ্ঠান করা হয়। তবে এসব শুল্ক স্টেশনের বেশিরভাগই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে রাজনৈতিক ও প্রভাবশালীদের চাপে। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে ১৮১টি শুল্ক স্টেশন থাকলেও কার্যকর রয়েছে মাত্র ৩৪টি স্টেশন। কার্যকর এসব স্টেশনের মধ্যে ১৮টি হচ্ছে স্থল শুল্ক স্টেশন। এর বাইরে বাকি ১৪৭টি স্টেশনই অকার্যকর। এমনও স্টেশন রয়েছে যেগুলোতে দুই একবার আমদানি রপ্তানি হওয়ার পর বছরের পর বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এসব স্টেশনে নেই কোন ভৌত অবকাঠামো, ভালো যোগাযোগের ব্যবস্থা এমনকি অপর প্রান্তে (ভারত অংশে) কোন শুল্ক স্টেশন।
এনবিআরের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, বেশিরভাগ শুল্ক স্টেশনে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ রয়েছে। কিন্তু এতদিন যাবত্ কোন নীতিমালা না থাকায় এনবিআর কোন আবদার ফেলতে পারেনি বা এসব অকার্যকর শুল্ক স্টেশন বন্ধও করতে পারেনি। এজন্য অকার্যকর স্টেশনের সংখ্যা কমিয়ে আনা ও শুল্ক স্টেশনে গতি বাড়াতে এই নীতিমালা করতে যাচ্ছে এনবিআর। ইতিমধ্যে এই নীতিমালার খসড়া তৈরি হয়েছে।