নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণ ও একটি পরামর্শ
প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:০০
নতুন করে আবার এ বছর প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে। ইতিমধ্যে এক শিশু মারা যাবার খবর পাওয়া গেছে এবং শিশুর পিতা গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পরিবারের অন্যরা আক্রান্ত হবার আশঙ্কায় আছেন। পত্রিকান্তরে প্রকাশ ময়মনসিংহের ভালুকা এলাকা থেকে ঢাকার বাসায় খেজুর রস এনে পান করেছিলেন আক্রান্ত পরিবার।
নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মারা যায় শতকরা প্রায় ৮০ জন। সরাসরি এই ভাইরাসকে মেরে ফেলার কোন ওষুধ নাই। তাই কেবল লক্ষণভিত্তিক সাপোর্টিভ চিকিত্সা দেয়া হয়। গবেষণায় জানা গেছে, বাদুড় এই ভাইরাসের রক্ষক ও বাহক। গাছের ফল ও গাছের রসে বাদুড় মুখ দিলে বাদুড়ের লালার মাধ্যমে এই ভাইরাস ঐ ফল ও রসে ছড়িয়ে পড়ে যা খেলে এই ভাইরাসে মানুষ আক্রান্ত হয়। বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় এই রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ মারা গেছে। এবছরও নিপাহ ভাইরাসের আক্রমণের ঘটনা প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসের জীবনচক্র বাদুড়ের দেহে রয়েছে, নিঃশেষ হয়ে যায়নি। হয়তো বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জে আরো অনেক বাদুড়ের দেহে এই ভাইরাস ক্রিয়াশীল রয়েছে। মানুষের দেহে সংক্রমিত হলেই বোঝা যাবে যে এই ভাইরাস আক্রান্ত এলাকায় বিদ্যমান আছে। এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের জীবনচক্র পুরোপুরি নিঃশেষ করা দুরূহ ও সময়সাধ্য। তবে আমি স্বাস্থ্য বিভাগের রোগ প্রতিরোধ শাখাকে এই ভাইরাস ধ্বংসে একটি বিনীত পরামর্শ দিতে চাই। আর সেটা হচ্ছে বাদুড়ের চেয়ে মানুষের প্রাণের মূল্য অনেক বেশি। তাই যেখানে এই রোগের রোগী পাওয়া যাবে ঘটনাস্থল অনুসন্ধান করে সেই স্পটের চারদিকের ৪-৫ মাইল এলাকার সব বাদুড় মেরে ফেলতে হবে। এজন্যে পুরস্কার ঘোষণা করা যেতে পারে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার অধীনে এই অপারেশন ঘটনার পর থেকে একমাস বা দুইমাস বলবত্ থাকবে। এ ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
ডা. টি.আই.এম. নূরুন্নবী,
৪ ডিআইটি মার্কেট, নারায়ণগঞ্জ