কলাপাড়ার গোলগাছ বিলুপ্তির পথে

কলাপাড়াসহ উপকূলীয় অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী গোল গাছ এখন জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ, খাল-জলাশয় ভরাট, পানিতে লবণাক্ততার তীব্রতা ও চাষাবাদের অভাবে ক্রমান্বয়ে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের খাল-বিল ও নদীর তীরে এক সময় প্রচুর নয়নাভিরাম দৃশ্য জুড়ে গোল গাছ দেখতে পাওয়া যেত। কালের বিবর্তনে এখন আর সেই গোল গাছ আগের মতো দেখা যায় না। গাছের নাম গোল হলেও আকৃতি অনেকটা নারিকেল পাতার মতো। এর উচ্চতা প্রায় ১৫ থেকে ২০ ফুটের বেশি। সাধারণত স্বল্প লবণাক্ত পলিযুক্ত মাটিতে ভাল জন্মায়। এই জনপদের সর্বত্র রাখাইন উপজাতি এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারে ঘরের ছাউনি হিসাবে গোলপাতা ব্যবহার করা হতো। এছাড়া গোল গাছের রস দিয়ে সুস্বাদু গুড় উত্পাদন হয়। উপজাতি সমপ্রদায়ের লোকজন গোল গাছের রস দিয়ে চোলাই মদ তৈরি করে থাকে। গাছের নিম্নাংশ দিয়ে নিউজপ্রিন্ট, হার্ডবোর্ড ও আয়োডিনযুক্ত লবণ উত্পাদন করা সম্ভব। গোল গাছ চাষাবাদ অত্যন্ত লাভজনক, সহজসাধ্য এবং ব্যয়ও কম। গোল গাছ ভাইরাসজনিত রোগ থেকে নিরাপদ। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োজন হয় না। কোন পরিচর্যা করতে হয় না। মোটা অংকের অর্থ বিনিয়োগের প্রয়োজনও হয় না। শুধুমাত্র বীজ (গাবনা) সংরক্ষণ করে তা নিচু জমিতে পুঁতে রাখলেই চারা গজায়। এর এক একটি গাবনায় ১শ থেকে দেড়শ’টি পর্যন্ত বীজ থাকে। এ বীজ থেকেই গাছ জন্মায়। এতে ব্যয়ের চেয়ে আয় অনেক গুণ বেশি। নদী বা মাটি ক্ষয় রোধেও বিশেষ ভূমিকা রাখে। মাটি কামড়ে বা আঁকড়ে রাখে। নদী ভাঙ্গনরোধে বিশেষ অবদান রাখছে। উপকূলীয় এলাকায় যে সকল গোল গাছের বাগান রয়েছে তা প্রকৃতির অশেষ দান। এদিকে বনবিভাগের এক শ্রেণীর অসাধু বনকর্মীদের সহযোগিতায় গাছ পাচারকারী ও বনাঞ্চল উজাড়কারীরা অবাধে কেটে নিয়ে যাচ্ছে এসব বাগান। ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বন বিভাগ নতুন করে গোল গাছ আবাদের কোন উদ্যোগ আজও নেয়নি। কলাপাড়া উপজেলার নিশানবাড়িয়া এলাকায় ফরেস্ট অফিসের আওতায় ১৯৯৩ সালে শুধুমাত্র পরীক্ষামূলক গোল গাছের চাষ করলেও তা কেটে বিলীন করে দিয়েছে বনদস্যুরা। উপকূলীয় এলাকার হাজার হাজার একর জমি অব্যবহূত অথবা অনাবাদী না রেখে প্রয়োজনীয় গুড়ের চাহিদা মেটানো এবং প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় গোল গাছ বিরাট সহায়ক হতে পারে বলে বিজ্ঞ মহল ধারণা করেন।