পাকিস্তান শিবিরে ইনজুরির ছায়া
প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:২৭
ফর্মে থাকা ওপেনার তৌফিক উমরকে ছাড়াই পাকিস্তান আজ শুক্রবার জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডার্সে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হচ্ছে। টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে বাঁ-হাতি এ ওপেনার পায়ের মাংসপেশিতে ইনজুরির জন্য খেলতে পারছেন না।
বর্তমানে ৩১ বছর বয়সী উমর ৪৩ টেস্টে করেছেন ২৯৪৩ রান। তাকে সফর থেকেই সরিয়ে নেয়া হয়েছে ইনজুরির কারণে। উমর ও তার সতীর্থ মোহাম্মদ হাফিজ টানা ১৮ টেস্ট ম্যাচে ওপেনিংয়ে ব্যাট করতে নেমেছেন। পাকিস্তানের জন্য এটা রেকর্ড।
নাসির জামশেদকে দেখা যেতে পারে হাফিজের সাথে ওপেনিংয়ে। জামশেদের টেস্ট অভিষেক হতে যাচ্ছে তাহলে। দক্ষিণ আফ্রিকা আমন্ত্রণমূলক একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে জামশেদ হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। গত সোমবার ইস্ট লন্ডনে পাকিস্তান একাদশের বিপক্ষে ম্যাচটি ড্রয়ে শেষ হয়েছিল।
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তিন টেস্টের সিরিজ পাকিস্তানের। পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যদিও প্রোটিয়াদের বোলিং লাইন আপ বর্তমানে ভয়ঙ্কর। দক্ষিণ আফ্রিকায় সফরকারীরা চাইবে ভয়ঙ্কর পেস আক্রমণ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে। কারণ উইকেট পেস ও বাউন্সি। চলতি মাসের শুরুর দিকে একতরফাভাবে তারা সফরকারী নিউজিল্যান্ডকে দুটি টেস্টেই পরাজিত করে।
প্রোটিয়া পেসার ডেল স্টেইন ও ভেরনন ফিল্যান্ডার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থানীয় বোলার। আরেক পেসার মরনে মরকেল র্যাঙ্কিংয়ের আটে রয়েছেন।
পাকিস্তানের অফ স্পিনার সাঈদ আজমল র্যাঙ্কিংয়ে রয়েছেন তিনে। র্যাঙ্কিংয়ে সেরা দশে একমাত্র পাকিস্তানি বোলার তিনি। পাকিস্তানের মিডলঅর্ডার ব্যর্থ ছিল আমন্ত্রণমূলক একাদশের বিপক্ষে। একমাত্র অধিনায়ক মিসবাহ উল হক হাফ সেঞ্চুরি করেছেন।
পাকিস্তান যদি ভাল সংগ্রহ করতে পারে তবে তারা আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে পারে। কারণ তাদের বোলিং লাইনআপ দক্ষিণ আফ্রিকার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে।
বোলিংয়ের মূল ভরসা অবশ্যই আজমল। দীর্ঘ স্পেলে স্পিন বোলিং করতে সক্ষম আজমল। এছাড়া দলে রয়েছে অভিজ্ঞ ফাস্ট-বোলার উমর গুল ও জুনায়েদ খান। পেস আক্রমণে এছাড়াও রয়েছেন একদম অপরিচিত ৭ ফুট এক ইঞ্চি লম্বা মোহাম্মদ ইরফান।
সর্বশেষ ২০১০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে হাই স্কোরিং দু’টি ম্যাচে পরস্পরের বিরুদ্ধে মুখোমুখি হওয়া দল দু’টি ড্র করেছিল।
তারপর থেকে ১৬ টেস্ট খেলে ৯টিতে জয়ী হয়েছে পাকিস্তান। আর ২০১১ সালের মে মাসে গায়নাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে এবং ২০১২ সালের জুন মাসে গলেতে শ্রীলংকার বিরুদ্ধেসহ মোট দু’টিতে পরাজিত হয়েছে পাকিস্তানিরা। অবশ্য দক্ষিণ আফ্রিকায় জয়ের পাল্লাটা আরো ভারী। অত্যন্ত শক্তিশালী দল হিসেবেই র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানে আছে প্রোটিয়াসরা। ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে অ্যাওয়েসহ পাঁচটি সিরিজ জিতেছে গ্রায়েম স্মিথের দলটি।
অধিনায়ক হিসেবে শততম ম্যাচে মাঠে নামছেন দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রায়েম স্মিথ।