ভারতীয় ফাস্ট বোলিংয়ের নতুন বিজ্ঞাপন
প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:২৯
একজন ফাস্ট বোলার হিসেবে কখনোই গতির বিষয়ে আপোষ করতে চান না ভারতীয় ক্রিকেট দলের উঠতি তারকা সামি আহমেদ। ফাস্ট বোলিংয়ের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গতি। তাই এমনকি লাইন-লেন্থের বিষয়ে কখনো কখনো আপোষ করতে হলেও একজন পেসারের মূল বিষয় গতির ব্যাপারে সারা জীবন আপোষহীন থাকবেন তিনি।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে সামি বলেন, ‘আমার জন্য আমার বোলিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ দু’টি বিষয় হচ্ছে পেস এবং সুইং। আমি জানি লাইন এবং লেন্থ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যেহেতু আমার মূল শক্তি পেস তাই আমি কখনো এ বিষয়ে আপোষ করব না। কারণ আমার এ পর্যায়ে আসার প্রাথমিক কারণ ছিল এই গতি।’
নিজের অভিষেক ওয়ানডে ম্যাচেই পরপর চার ওভার মেডেন দেয়াটা ভারতীয় ক্রিকেটে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে—এ বিষয়ে জিজ্ঞাসার উত্তরে সামি বলেন, ‘আমার অধিনায়ক আমার জন্য যেভাবে ফিল্ডিং সাজিয়েছিল, আমি কেবলমাত্র সে অনুযায়ী বোলিং করার চেষ্টা করেছি। পরিকল্পনা করে আপনি এমনটা করতে পারবেন না। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে এটা ঘটেছে এবং আমি অত্যন্ত খুশী। আমার সক্ষমতার ব্যাপারে সব সময়ই আমার আত্মবিশ্বাস ছিল এবং স্বেচ্ছায়ই কঠোর পরিশ্রম করতাম।’
এ পর্যন্ত যা করেছেন, সে জন্য অধিনায়ক ধোনিকেই বেশি কৃতিত্ব দিচ্ছেন তিনি, ‘ধোনি ভাই আমাকে কেবলমাত্র নার্ভাস না হতে ও ম্যাচ পরিকল্পনায় ঠিক থাকতে।’
এখন পর্যন্ত শুধু ওয়ানডে খেলা সামির বড় স্বপ্নের জায়গা অবশ্য টেস্ট ক্রিকেট, ‘টেস্ট ক্রিকেটে আপনাকে ধৈর্য্যশীল হতে হবে- রনজি ট্রফিতে খেলে আমি সেটা শিখেছি। একদিনের ক্রিকেটে আপনি স্লোয়ার, বাউন্সারের মত অনেক কিছুই চেষ্টা করতে পারেন। কিন্তু লংগার ভার্সনে ধৈর্য্যটাই আসল। এ পর্যায়ে আপনার প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যান অনেক গুণগত মানসম্পন্ন এবং আপনাকে খুবই ধৈর্য্যশীল হতে হবে। ব্যাটসম্যানের ভুল করার জন্য আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে।’
পাঁচ ওয়ানডের জন্য দীর্ঘ এক মাস ভারতীয় দলের সঙ্গে থেকে তিনি একটা বিষয় অনুধাবন করতে সক্ষম হয়েছেন- দীর্ঘ সময়ের জন্য জাতীয় দলের হয়ে খেলার যোগ্যতা তার আছে, ‘কেবলমাত্র ধোনি, গৌতম গম্ভীর, বিরাট কোহলি, যুবরাজ সিংদের মত খেলোয়াড়দের খেলা দেখেই আপনি অনেক কিছু শিখতে পারবেন। এটা এমন নয় যে তারা আপনাকে কোচিং দেবেন। তাদের ছোট কিছু কথা যা আপনার ভাল করার জন্য দরকারি।’
ভারতীয় ‘এ’ দলের হয়ে নিউজিল্যান্ড সফরে সাইড স্ট্রেইন ইনজুরির কারণে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স লীগ টি-২০ এবং রনজি ট্রফিতে চার ম্যাচ খেলতে পারেননি আগামী মার্চে ২৩ বছরে পা রাখা এ ফাস্ট বোলার, ‘চ্যাম্পিয়ন্স লীগ মিস করাটা ছিল খুবই হতাশার। এছাড়া ওই ইনজুরির পর সুস্থ হতে কতদিন লাগে, কতদিন আমাকে খেলার বাইরে থাকতে হয়- সে বিষয়েও আমি খুব শংকিত ছিলাম। কিন্তু পুনর্বাসন খুবই ভাল হয়েছে এবং শক্তিশালী অবস্থায়ই আমি ফিরে এসেছি।’—বাসস