সোনার বাংলা গড়ে তোলা অসম্ভব নয়, অনেক চ্যালেঞ্জ আছে :মজীনা

বাংলাদেশ যে সকল চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন তার প্রত্যেকটিই মোকাবেলা করা সম্ভব বলে মত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা। তিনি বলেন, বর্তমানে পর্যাপ্ত বন্দর, রাস্তা, রেলপথ তৈরি, পর্যাপ্ত জালানি ও বিদ্যুত্ সরবরাহ, দুর্নীতি রোধ, আইনের শাসন শক্তিশালী করা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা টেকসই করে তোলার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সোনার বাংলা গড়ে তোলা অসম্ভব নয়। গতকাল বৃহস্পতিবার আমেরিকান ইন্টার-ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ১৩তম সমার্তন অনুষ্ঠানে সমাবর্তন ভাষণে তিনি একথা বলেন। রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. কারমেন জেড ল্যামাগনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইশতিয়াক আবেদীন, প্রতিষ্ঠাতা ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. হাসানুল এ হাসান, মিসেস নাদিরা আনোয়ার, ডা. আব্দুস সামাদ আলীম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। ড্যান মজীনা বলেন, আমি এতগুলো দেশের কথা জানি যাদের একেবারে অসম্ভব সমস্যা রয়েছে। এমন সমস্যা যেগুলো সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে বাংলাদেশ এমন নয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আশীর্বাদপুষ্ট যে, এর প্রত্যেকটি মোকাবেলা করা সম্ভব । তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ আগামীর এশিয়ান টাইগার, রয়েল বেঙ্গল টাইগার হতে প্রস্তুত। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশের আগামী এশিয়ান টাইগার, রয়েল বেঙ্গল টাইগার হয়ে ওঠার স্বপ্ন জাদুর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে না। কাউকে এটা বাস্তবায়ন করতে হবে। আর সেটা হচ্ছে তোমরা। রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, এই স্টেডিয়াম থেকে চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই তোমরা আর ছাত্রবেশে থাকবে না। তোমাদের সামনে অনেক সুযোগ চলে আসবে। দেশকে মহান জাতি হিসেবে গড়ে তোলায় তোমরা সহযোগিতা করবে। নেতৃত্বের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, সামনে অবস্থান করাই নেতৃত্ব নয়। অন্যরা যখন ভুল তখন সঠিক হওয়াও নেতৃত্ব নয়। নেতৃত্ব নিজেকে দিয়ে শুরু করতে হয়। নিজেকে জানার জন্য ও নিজের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য নিজকে দিয়েই নেতৃত্ব শুরু করো। অন্যের সম্মান প্রদর্শন করতে নিজেকে নেতৃত্ব প্রদান করো। নিজের পরিবার. জনগোষ্ঠী ও জাতিকে গড়ে তুলতে ও শক্তিশালী করতে নেতৃত্ব প্রদান করো। নিজেরে এভাবে নেতৃত্ব প্রদান করলে অন্যরা তোমার প্রদর্শিত পথে চলবে। অন্যরা তোমার পেছনে আসবে। নেতৃত্বের ক্ষমতা আসলেও অভাবনীয়। আমেরিকান নাগরিক অধিকারের নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের প্রসঙ্গ টেনে এই রাষ্ট্রদূত বলেন, আমেরিকান ইতিহাসের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী নেতাদের অন্যতম তিনি। তা সত্ত্বেও তিনি কোন বিখ্যাত পরিবারের সদস্য ছিলেন না। তিনি কোন ধনী ব্যক্তি ছিলেন না। তার কোন রাজনৈতিক অবস্থান ছিল না। বাংলাদেশের কৃষি বিপ্লব অব্যাহত থাকায় এক দশকের মধ্যেই এদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, অনেকদিন আগে একদা একজন বিখ্যাত ব্যক্তি বাংলাদেশকে একটি তলাবিহীন ঝুড়ি বলেছিলেন। কি অদ্ভুত। বাস্তবে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক ঝুড়ি যা ধান এবং ভূমি ও সমুদ্রের সম্পদের প্রাচুর্যে উপচে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. কারমেন জেড ল্যামাগনা ডিগ্রিপ্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীদের মেধার আলোকে একাত্মতা বোধ সৃষ্টির মাধ্যমে ও শিক্ষার মাধ্যমে অর্জিন জ্ঞান কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জীবনের ভুলভ্রান্তি স্মরণ রেখে আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে উন্নতির দিকে অগ্রসর হওয়া সহজ। পৃথিবীর যে প্রান্তেই ভাগ্য তোমাদের নিয়ে যায় তোমরা সব সময় আমাদের হয়েই থাকবে। তিনি বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। আশা করা যায় চলতি বছরের শেষের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস আংশিক স্থানান্তর সম্ভব হবে। সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে আমেরিকান ইউনিভার্সিটি এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় ভালো তখনই হয় যখন এর পরিবেশ ও অবকাঠামো শিক্ষার মান ঠিক থাকে। শিক্ষামন্ত্রী আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভূয়সী প্রশংসা করেন। আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ১৩তম এই সমাবর্তনে ২ হাজার ৫৬৩ জন শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। জিএসপি নিয়ে বিতর্কে না জড়াতে বিজিএমইএকে মজীনার অনুরোধ এদিকে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধার (জিএসপি) আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধা বাতিলের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভের (ইউএসটিআর) সাথে বিতর্কে না জড়াতে বিজিএমইএকে অনুরোধ জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনা এবং শ্রমিক অধিকারে বিজিএমইএ নতুন কি কি পদক্ষেপ নিয়েছে বা নিতে যাচ্ছে বিজিএমইএ তার বক্তব্যে সে বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিক। বিশেষত সাম্প্রতিক সময় তাজরীন গার্মেন্টসে দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিজিএমইএ শ্রমিকদের নিরাপত্তায় কি পদক্ষেপ নিয়েছে সে বিষয়টি মার্কিন সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করুক। গতকাল বৃহস্পতিবার ড্যান মজীনা পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর কার্যালয়ে নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকে বিজিএমইএকে তিনি এ অনুরোধ করেন। বিজিএমইএর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ বিজিএমইএর সাম্প্রতিক অগ্রগতি নিয়ে আলাদাভাবে তাদের বক্তব্য শুনতে চায়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ যাতে কোন ছল-চাতুরির আশ্রয় না নেয় সে বিষয়টি নিশ্চিত হতে চায় মার্কিন কর্তৃপক্ষ। তাজরীনের ঘটনায় তদন্ত বা চলমান টাস্কফোর্সের কাজ যাতে স্বচ্ছতার সাথে হয় সে বিষয়টিও নিশ্চিত হতে চায় তারা। বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ছাড়াও সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, পরিচালক আরশাদা জামাল দিপু ও শাহাদাত হোসেন চৌধুরী অরুণ উপস্থিত ছিলেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে শ্রমিকদের নিরাপত্তায় বিজিএমইএর নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয়। আমিনুল হত্যাকাণ্ড, শ্রমিক নেত্রী কল্পনা আক্তার ও বাবুল আক্তারের বিষয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে কোন বক্তব্য দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে সরকারই বক্তব্য দেবে।