মনিরামপুরে জামায়াত শিবিরের তাণ্ডব, পুলিশসহ আহত ১৫
প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২৩
যশোরের মনিরামপুরে হরতালে জামায়াত-শিবির তাণ্ডব চালিয়েছে। তাদের সাথে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষে ৭ পুলিশ সদস্যসহ ১৫জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে আহত এক পুলিশ কনস্টেবল পরে হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মনিরামপুর উপজেলার গোহাটা মোড় ও গাংড়া মোড়ে সংঘর্ষ চলাকালে জামায়াত-শিবির কর্মীরা ১৫ থেকে ২০টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ৪জনকে আটক করেছে।
সংঘর্ষে আহত এবং পরে হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া কনস্টেবলের নাম জহুরুল ইসলাম (৫২)। তার বাড়ি নড়াইলের কামালপ্রতাপ গ্রামে। তার ২ ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন: এসআই শংকর ও জিয়ারুল, কনস্টেবল নওয়াব আলী ও মোসলেম উদ্দিনসহ আরো ৩ জন। আহত জামায়াত কর্মীরা হলেন: শাহ মুরাদ (৩০), ইয়াসিন আলী (৩০), জালাল উদ্দিন (২৬), মনিরুজ্জামান ও অজ্ঞাত আরো ৩/৪ জন।
যশোরের পুলিশ সুপার জয়দেব ভদ্র বলেছেন, কনস্টেবল জহুরুল সংঘর্ষের পর থানায় পৌঁছে হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। মনিরামপুর থানার এসআই ইমরান সাংবাদিকদের জানান, সংঘর্ষ চলাকালে কর্তব্যরত অবস্থায় কনস্টেবল জহুরুল অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে সকাল ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মনিরামপুরের গোহাটা মোড়ে জামায়াত-শিবির কর্মীরা জড়ো হয়ে মিছিল বের করার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ মিছিল বের করতে বাঁধা দিলে জামায়াত-শিবির কর্মীরা পুলিশের ওপর বেপরোয়া ইট-পাটকেল এবং কাঁচের বোতল নিক্ষেপ করে। এ সময় আশপাশে থাকা ছাত্রলীগ ও যুবলীগকর্মীরা মিছিলকারীদের ধাওয়া করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষ গোহাটা মোড় থেকে গাংড়া মোড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
জামায়াত-শিবিরের নতুন কৌশল
যশোরের মনিরামপুরে পুলিশের ওপর হামলায় জামায়াত-শিবির নতুন কৌশল এবং উপকরণ প্রয়োগ করেছে। সংঘর্ষের পর অসুস্থ অবস্থায় পুলিশ কনস্টেবল জহুরুলের দায়িত্ব পালন করা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। যশোরের পুলিশ সুপার জয়দেব ভদ্র জানান, অতীতে দেখা গেছে ফজরের নামাজের পর জামায়াত-শিবির তাদের তত্পরতা শুরু করে। কিন্তু গতকাল নামাজের আগেই ভোর সাড়ে ৫টায় তারা মিছিল বের করে এবং পুলিশের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারী সবার কাছে ছিল ‘শান্তিনিকেতনী’ ব্যাগ। ব্যাগে ইট-পাটকেল ছাড়াও ছিল প্রচুর পরিমাণ কাঁচের বোতল।’ হামলায় শান্তিনিকেতন স্টাইলের ব্যাগ এবং ‘কাঁচের বোতল’ ব্যবহার এবারই প্রথম বলে পুলিশ সুপার দাবি করেন।