পাড়া মহল্লায় যেখানে জামায়াত-শিবির সেখানেই গণধোলাই

জামায়াতের গতকাল বৃহস্পতিবারের হরতালকে রাষ্ট্রদ্রোহী অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করে আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছেন, সংবিধানসম্মতভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাত্তরের ঘাতকদের বিচার হচ্ছে। এই ট্রাইব্যুনাল বন্ধের দাবি রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল। মূলত একাত্তরের মতো দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে জামায়াত-শিবির। এই অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। পাড়ায়, মহল্লায় যেখানেই জামায়াত-শিবির পাওয়া যাবে, সেখানেই তাদের গণধোলাই দেয়ারও ঘোষণা দেয়া হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে হরতালবিরোধী প্রতিবাদ সমাবেশে আওয়ামী লীগ নেতারা এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে হরতালবিরোধী মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেছে। সমাবেশে বন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাদের যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই প্রতিরোধ করতে হবে। আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, সংবিধানসম্মতভাবে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাতিলের দাবির কোন যৌক্তিকতা নেই। এই ট্রাইব্যুনাল বন্ধের দাবি রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল। বুধবার জামায়াতকে সমাবেশ করতে না দেয়া প্রসঙ্গে কামরুল ইসলাম বলেন, সংবিধানসম্মতভাবে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে জামায়াত কোন কর্মসূচি দিলে তা সমর্থন করা যায় না। প্রশাসন এ ধরনের কোন কর্মসূচি অনুমোদন দিতে পারে না। যেখানেই জামায়াত-শিবির সেখানেই গণধোলাই দেয়া হবে এমন ঘোষণা দিয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, জামায়াত শিবিরের নৈরাজ্যে মানুষ অতিষ্ঠ। তাদের রাজনীতি চিরতরে বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় গণতন্ত্র ব্যাহত হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করা হবে। দেশে একজন যুদ্ধাপরাধী থাকা পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল সচল থাকবে। সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য একেএম এনামুল হক শামীম, সুজিত রায় নন্দী, আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী আব্দুস সোবহান গোলাপ, মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজ, আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক লিয়াকত শিকদার, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম, মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিলন, প্রচার সম্পাদক আব্দুল হক সবুজ প্রমুখ। সকাল ৯টায় শুরু হওয়া এসব অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের পাশাপাশি আওয়ামী ওলামা লীগ, বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব পরিষদ, বঙ্গবন্ধু মঞ্চ, বঙ্গবন্ধু মুক্তিযোদ্ধা লীগসহ অসংখ্য সংগঠন অংশ নেন।