বি.বাড়িয়ায় তিতাস কমিউটারে যাত্রীবেশী ডাকাতের তাণ্ডব
চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে চার জনকে হত্যা
প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২৬
চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে চার যাত্রীকে হত্যা করেছে ডাকাতরা। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় ঢাকাগামী তিতাস কমিউটার ট্রেনে যাত্রীবেশী ডাকাতরা ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। এতে বাধা দিলে চলন্ত ট্রেন থেকেই ৫ যাত্রীকে ধাক্কা দিয়ে বাইরে ফেলে দেয়া হয়। এদের মধ্যে শিশু ও নারীসহ ৪ যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় অপরজনকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে।
নিহতরা হলেন:জেলার বিজয়নগর উপজেলার মেরাসানী গ্রামের মন মিয়ার পুত্র খায়ের মিয়া (৪০), একই গ্রামের মন মিয়ার পুত্র সুদ মিয়া (৪৮) ও মুসলিমা মিয়ার স্ত্রী শাহানা বেগম (৪৫) এবং অজ্ঞাত এক শিশু (১২)। আহত যাত্রীর নাম রুবেল মিয়া (৪৫)। স্থানীয় পুলিশ ও জিআরপি থানার কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ কর্মকর্তারা ‘এটি ডাকাতির ঘটনা’ বলে মন্তব্য করেছেন।
ট্রেনটির পরিচালক কামাল হোসেন এবং চালক আবুল কালাম জানান, ডাকাতির ঘটনাটি আমরা তাত্ক্ষণিক জানতে পারিনি। ট্রেনটি ঢাকায় পৌঁছার পর আমরা বিষয়টি জানতে পারি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রেলওয়ের ডিআইজি সোহরাব হোসেন জানান, কমিউটার ট্রেনটির এক বগি থেকে অন্য বগিতে যাওয়ার জন্য ভেতর দিয়ে কোন পথ নেই। ফলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা ওই ডাকাতি সম্পর্কে কিছুই জানতে পারেনি।
ঢাকা রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মজিদের বরাত দিয়ে ব্রাক্ষণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, এই ডাকাতি ও খুনের ঘটনায় ট্রেনটিতে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ৩ পুলিশ সদস্যকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করতে চট্টগ্রাম রেলওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গিয়াস উদ্দিনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি গতকালই ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ট্রেনটি আখাউড়া রেল জংশন অতিক্রম করে স্থানীয় পাঘাচং রেলস্টেশনে আসে। সেখান থেকে ৭/৮জন যাত্রীবেশী ডাকাত ট্রেনে ওঠে। তারা ট্রেনের ইঞ্জিন লাগোয়া বগিতে ঢুকে লুটপাট ও হামলা চালায়। সেখানে ৫ যাত্রী ছিলেন। তারা বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে ডাকাতরা ক্ষিপ্ত হয়ে রেলপথের সুহাতা নামক স্থানে একজনকে, ভাদুঘর ডালি বাড়ি এলাকায় ২ জনকে এবং ভাদুঘর করুলিয়া ব্রিজের কাছে ২ জনকে ফেলে দেয়। এতে চার যাত্রীর মৃত্যু হয়। স্থানীয় গ্রামবাসী আহত রুবেলকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতলে ভর্তি করে। তাকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে রাখা হয়েছে।
আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, এ ঘটনায় খুনসহ ডাকাতির মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। জেলা সদর হাসপাতালে নিহতদের ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে। ঢাকা রেলওয়ে থানা সূত্র জানায়, ট্রেনের নিরাপত্তার দায়িত্বে ৩ পুলিশ সদস্য ছিলেন। তারা ডাকাতির বিষয়টি আঁচ করতে পারেননি। বিভাগীয় ব্যবস্থা হিসেবে তাদের ৩ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এদিকে ট্রেন থেকে যাত্রী ফেলে দেয়ার ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর গোটা জেলায় ট্রেনযাত্রীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। নিহতদের ব্যাপারে বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মনিরুল ইসলাম জানান, নিহত সুদ মিয়া ও শাহানা বেগম বিদেশে যাওয়ার জন্য কাগজপত্র নিয়ে ঢাকা যাচ্ছিলেন। তবে অন্য দুই জনের ব্যাপারে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।
তিন মাসে ৩৯ ট্রেনযাত্রী খুন !
টঙ্গী সংবাদদাতা জানান, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ ডাকাত-ছিনতাইকারীদের নিরাপদ জোনে পরিণত হয়েছে। এই পথে প্রতিনিয়তই মালপত্র লুট করে অসহায় যাত্রীদের হত্যা করা হচ্ছে। গত ৩ মাসে এই পথে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে ৩৯ জনকে হত্যা করা হয়। এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর রাতে এই রেলপথে ত্রিশালের বালিপাড়া ও ধলা এলাকায় ট্রেন থেকে ফেলে দিয়ে দুইজনকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এই রেলপথে প্রতিমাসে অসংখ্য মানুষ নিহত হলেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কোন মামলারই মূল আসামিকে আটক বা সনাক্ত করতে পারেনি।