পাবনায় ফলন ভালো টমেটোর
রুমী খোন্দকার,পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:৩২
পাবনায় এবার টমেটো চাষিরা ভাল ফলন পেয়েছেন। প্রায় নয় হাজার কৃষক পাবনা জেলায় টমেটো উত্পাদনের সাথে জড়িত। জেলার ঈশ্বরদী, সুজানগর, আটঘরিয়া এবং সদর উপজেলায় ভাল টমেটো হয়। এ সব এলাকার লাখ খানেক শ্রমিক জমি থেকে টমেটো তুলছেন, বিক্রি করছেন। তাদের জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা হয়েছে। উত্পাদিত টমেটোর বেশিরভাগ কুমিল্লা, সিলেট, ঢাকা, রংপুর, চট্টগ্রামসহ সারাদেশে প্রতিদিন চলে যাচ্ছে। চাষিদের দাবি, টমেটো প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা থাকলে তারা বেশি লাভবান হতেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় ২ হাজার ২শ ৮ একর জমিতে টমেটো চাষ হয়েছে। গত বছর গড়ে বিঘা প্রতি ফলন ছিল ১৩০ মণ। কিন্তু এবার সারের দাম বৃদ্ধিজনিত সংকটে উত্পাদন বিঘা প্রতি ১১০ থেকে ১১৫ মণের বেশি হচ্ছে না বলে ধারণা।
পাবনা শহরের পূর্বদিকে ১২-১৩ কিলোমিটার দূরে সুজানগরের দিকে গেলেই দেখা যায় মাঠ জুড়ে টমেটো ক্ষেত। দুবলিয়ার এক চাষি বললেন, প্রতিদিন তার ২ একর জমিতে গড়ে ১৫ জন শ্রমিক কাজ করেন। সকাল আটটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত তারা টমেটো ওঠানোর কাজ করেন। দৈনিক তারা ২৫০ টাকা মজুরি পান। এক শ্রমিক বলেন, টমেটো চাষের আগে ধান কাটার মৌসুম শেষ হলে তাদের কাজ-কাম না থাকায় শুধু বসেই থাকতে হতো। এখন এই সময়টায় তারা কাজ পেয়েছেন। জমির মালিক শিরু তালুকদারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মহিলা শ্রমিকদের সাথে তার স্ত্রী ও মেয়েরা টমেটোর ঝুড়ি তৈরি করছেন। তার মত এলাকার চাষিরা স্থানীয়ভাবে টমেটো বিক্রি না করে সরাসরি ঢাকায় চালান দেন। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত তিনি তার জমির টমেটো ১ লাখ টাকার বেশি বিক্রি করেছেন। টেবুনিয়া, দাশুরিয়া এবং আটঘরিয়া হাটে গিয়ে দেখা গেল, ঢাকার বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী টমেটো নিতে এসেছেন। বুধবার টেবুনিয়া হাটে আসা ব্যবসায়ী কেরামত আলী বলেন, তিনি ২০০ মণ টমেটো কিনবেন।
টমেটোতে যে রাইপেন হরমন স্প্রে করা হয় তা ক্ষতিকর কিনা জানতে চাইলে পাবনা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বলেন, টমেটোতে এখন যে রাইপেন হরমন স্প্রে করা হয় তা কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত। এক একর জমিতে টমেটো চাষ করতে একজন কৃষকের ২৭ হাজার টাকা খরচ হয়। খরচ বাদ দিয়ে প্রতি একর জমি থেকে একজন কৃষক প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় করতে পারেন। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাবনায় টমেটো চাষিদের জীবনযাত্রা পাল্টে দিয়েছে। চলতি মৌসুমে উন্নত জাতের টমেটোর দুই কোটি টাকার বেশি বীজ বিক্রি হয়েছে। এবার টমেটোতে আড়াই থেকে প্রায় তিনশত কোটি টাকার কারবার হবে বলে তার ধারণা।