‘আমি আরও কঠিন শাস্তি চেয়েছিলাম’
প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:৪৯
বাগেরহাটে ২০০২ সালে নাছিমা বেগম (৪২) নামে এক গৃহবধূকে এসিড ছুঁড়ে ঝলসে দেয়ার অভিযোগে আদালত তিন ব্যক্তিকে দশ বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। একই সাথে আদালত দণ্ডপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে কুড়ি হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করেন এবং ঐ অর্থ আদায় করে তা ক্ষতিগ্রস্ত নাছিমাকে প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। বাগেরহাট এসিড অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম. আতোয়ার রহমান বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন: বাগেরহাট সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের কোমরপুর গ্রামের ইদ্রিস আলী শেখের দুই ছেলে মোশারেফ শেখ ওরফে মুসা (৩৮) ও মো. নাছিরউদ্দিন শেখ ওরফে ছুটে (৩৫) এবং একই ইউনিয়নের মশিদপুর গ্রামের দীন মোহাম্মদের ছেলে মো. হাফিজুর রহমান হাফিজ (৩৮)। এদের মধ্যে হাফিজুর রহমান হাফিজ মামলা চলাকালীন সময়ে জামিনে থাকা অবস্থায় দেশ ছেড়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় চলে যান। অপর দুই আসামী রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, আসামি মোশাররফ শেখ ও তার বাবা ইদ্রিস আলী ব্যবসার জন্য দুই সন্তানের জননী নাছিমার কাছ থেকে দশ হাজার টাকা ধার নেন। নাছিমা একটি বেসরকারি সংগঠনের কাছ থেকে ঋণ করে তাদের ঐ টাকা দিয়েছিলেন। একপর্যায়ে ইদ্রিস আলী নাছিমাকে কুপ্রস্তাব দিলে নাছিমা তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং স্বামীকে জানান। নাছিমার স্বামী এসকেন্দার ফকির বিষয়টি গ্রামের গণ্যমান্যদের জানালে ইদ্রিস ও তার ছেলেরা নাছিমার উপর ক্ষিপ্ত হয়। এরই জের ধরে ২০০২ সালের ২১ আগস্ট রাতে ইদ্রিস আলীর দুই ছেলে ও তাদের সহযোগী হাফিজ নাছিমার শরীরে এসিড নিক্ষেপ করে। পরে ব্র্যাকের সহযোগিতায় তাকে ঢাকার এসিড সার্ভাইভার্স ফাউন্ডেশনে নিয়ে পর্যায়ক্রমে দুই বছর ধরে চিকিত্সা সেবা দেয়া হয়।
দীর্ঘ দশ বছর ধরে আইনী লড়াইয়ের পর মামলার এই রায়ে খুশি হতে পারেননি এসিডদগ্ধ নাছিমা। আদালত চত্বরে নাছিমা বলেন, ‘গত দশ বছরে আসামিরা আমাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করেছে, মারধর করেছে, ভয়-ভীতি, হুমকি এমনকি টাকার প্রলোভনও দেখিয়েছে। কিন্তু আমি শুধু তাদের আরও কঠোর শাস্তি চেয়েছিলাম।’