জাতীয় কবিতা উত্সব শুরু
প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:১৫
‘যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবি আজ কবিতার’ শ্লোগানকে ধারণ করে দেশি-বিদেশি কবিদের অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে জাতীয় কবিতা উত্সব-২০১৩। উত্সবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন কবি সৈয়দ শামসুল হক। সকালে জাতীয় সংগীত, একুশের গান, উত্সব সঙ্গীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা, উত্সব পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় কবিতা উত্সবের আনুষ্ঠানিকতা। এবারের কবিতা উত্সব উত্সর্গ করা হয়েছে জাতীয় কবিতা পরিষদের অন্যতম প্রাণপুরুষ কবি ও ছড়াকার ফয়েজ আহমদ এবং বাংলাদেশের একান্ত সুহূদ কবি ও ঔপন্যাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে।
গতকাল সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার সংলগ্ন হাকিম চত্বরে জাতীয় কবিতা পরিষদ আয়োজিত এই উত্সবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সভাপতি হাবীবুল্লাহ সিরাজী। শুরুতে উত্সবে আসা কবিরা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ও শিল্পী কামরুল হাসানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বায়ান্নের ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে উত্সব প্রাঙ্গণে এসে জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে সৈয়দ শামসুল হক বলেন, অপরাধ সনাক্ত করতে না পারলে সভ্যতা থেকে তামাদি হতে হয়। আমাদের এবারের কবিতা উত্সবের শ্লোগান ‘যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবি আজ কবিতার’। এর কারণ ৪২ বছর আগের যুদ্ধাপরাধীর বিচার শুরু হয়েছে। এই বিচার কাজ অব্যাহত থাকুক এবং রায় কার্যকর হোক। কবিতা সৃজনশীল শিল্প, এটা অনুভব করে আমরা যদি আমাদের স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করতে পারি তাহলেই আমাদের উত্সব সত্যিকারের তাত্পর্যময় হয়ে উঠবে।
সভাপতির ভাষণে কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, সময় সঙ্গে নিয়ে চলেছি আমরা। প্রকৃতির সঙ্গে বিজ্ঞানের অসামান্য এক মেলবন্ধনে তৈরি হচ্ছে কবিতার শরীর। স্বীকার করি, সৌরভ ও সম্প্রীতির মধ্যে ঢুকে পড়তে চায় কীট ও বারুদ। তবুওতো কবিকেই পূর্ণ করতে হয় ভগ্নরেখা, নগ্ন অভিসম্পাত। ‘যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবি আজ কবিতার’—এটি এক উচ্চারণই শুধু নয়, অন্তর্গত বিশ্বাসের এক অমোঘ মর্মকথা। আমাদের বিশ্বাসের সার নিহিত থাকে আমাদের যাপনের প্রতি কণায়। চেতনা ও চারিত্র্যে স্থাপিত হয় কবিতার নব্যরূপ, প্রবাহিত হয় জগত্ ও জীবনের আদর্শিক অগ্নি-স্রোতে।
সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য রাখেন কবি আসলাম সানী, আহ্বায়কের বক্তব্য রাখেন মুহাম্মদ সামাদ, যুগ্ম-আহ্বায়কের বক্তব্য রাখেন তারিক সুজাত, উত্সবের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন রবিউল হুসাইন, শোক প্রস্তাব পাঠ করেন কবি কাজী রোজী। উদ্বোধনী পর্বের পর শুরু হয় আমন্ত্রিত অতিথি কবিদের কবিতা পাঠের আসর। এই পর্বের সভাপতিত্ব করেন কবি রফিক আজাদ। এভাবে ৬টি পর্বে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় কবিতা পাঠের প্রথম দিন। দ্বিতীয় দিন আজ শনিবার থাকবে সকাল ১০টায় বোরহানউদ্দীন খান জাহাঙ্গীর এর সভাপতিত্বে ‘‘প্রতিবাদের নানা কালপর্ব:কবি ও কবিতা’’ বিষয়ক সেমিনার। দ্বিতীয় পর্বে থাকবে ‘অন্যভাষার কবিতায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ’ বিষয়ক সেমিনার। এই পর্বের সভাপতিত্ব করবেন ড. আনিসুজ্জামান, শুরু হবে সকাল ১১টায়। এরপর থাকবে ‘কবিতা পাঠ, ৫ম পর্ব, ৬ষ্ঠ পর্ব, ৭ম পর্ব, ৮ম পর্ব ও ৯ম পর্ব’, পুরস্কার বিতরণ ও কবিতার গান। রাত ৮টায় কবিতা গানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে জাতীয় কবিতা উত্সব।