নদী ভাঙন প্রসঙ্গ
প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৪৮
সৃষ্টি জগতের একটি গ্রহ হলো পৃথিবী। এই পৃথিবীর চার ভাগের তিন ভাগই জল আর একভাগ স্থল। আর এই স্থল নিয়েই মানুষের বসবাস এবং এই পৃথিবীর বুকে বিচরণ ও আনাগোনা। এই পৃথিবীর একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হচ্ছে এই বাংলাদেশ। এ দেশের একটি বড় সমস্যা হচ্ছে বন্যা, পাহাড়ি ঢল এবং নদী ভাঙন। নদী ভাঙন মানুষকে সর্বস্বান্ত করে ফেলেছে। তাদের হাজার হাজার হেক্টর আমন ও শত শত হেক্টর সবজি চাষের ক্ষতি হচ্ছে।
চন্দনবাইশা ডিগ্রি কলেজের সীমানা প্রাচীর যমুনার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া স্থানীয় নওখিলা পিএন উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের সড়কের একাংশ যমুনার স্রোতে ভেঙে যাওয়ায় চন্দনবাইশা-ধুনট সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে যমুনা নদীর ভাঙনে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে অন্তত পাঁচ শতাধিক পরিবার। কুড়িগ্রামের রাজিবপুরে ৩০টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। উপজেলার ১০ থেকে ১১টি এলাকায় ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। বাড়ছে নদী ভাঙন, ভেসে যাচ্ছে মাছ, তলিয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি। এদিকে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় ‘সাঁড়া’ ইউনিয়নের আরামবাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয় যে কোনো সময়ে পদ্মাগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। সেখানে পদ্মাপাড়ের মানুষেরা ভাঙন আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। বিগত ৪০ বছরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় ঈশ্বরদীর এক সময়ে প্রসিদ্ধ নৌবন্দর ‘সাঁড়া’ দেশের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখানকার মানুষেরা নির্ঘুম রাত কাটায়।
১৯৮৭ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড পাউবোর অর্থায়নে সাঁড়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে পাকশী থেকে কুমরপুর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ মাইল দীর্ঘ একটি কাঁচা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল, কিন্তু পদ্মার ভাঙনে সে বাঁধটি অনেক আগেই বিলীন হয়ে গেছে। শত বছর আগের তৈরি সেতু রক্ষাকারী কংক্রিটের বাঁধটি অনেক পুরনো। দেশের দুটি যোগাযোগ স্থাপন পাকশীর জোড়া সেতুর ওপর ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ৪০ বছরে গৃহহীন হয়েছে শত শত মানুষ, ক্ষতি হয়েছে কোটি কোটি টাকা। এদেরকে নিয়ে কারো মাথাব্যথা নেই। বন্যা ও নদী ভাঙনকবলিত এলাকায় মানুষেরা একটু যখন নিজেদের পরিবর্তনের চেষ্টা করে তখন পাহাড়ি ঢল ও অবিরাম বৃষ্টি তাদের এই আশাকে ভেঙে তছনছ করে দেয়। তাই নদী ভাঙনসহ ফসলের ক্ষয়ক্ষতি রোধে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন।
কুষ্টিয়া