সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অগ্নিগর্ভের রূপ ধারণ করেছে ভেনিজুয়েলা। গত সোমবার বিরোধী নেতা গুয়াইদো সেনাবাহিনীর পাশে দাঁড়িয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ‘উত্খাত’ করার ঘোষণা দেয়ার পরপরই তার সমর্থকরা হাজারে হাজারে রাজপথে নেমে আসে। রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন শহরে সরকারবিরোধীদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলছে। গুলিতে এক নারী বিক্ষোভকারীর মৃত্যু ও অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছে বলে বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছে। তবে ব্যাপক গণ আন্দোলনের মধ্যেও পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মাদুরো।
সোমবার থেকে নতুন মাত্রার বিক্ষোভ শুরু হলেও এটি ব্যাপক গণ আন্দোলনের রূপ ধারণ করে বুধবার। এদিন উত্তাল জনতাকে সামাল দিতে টিয়ার গ্যাস ও গরম পানি ছোড়ে দেশটির সেনাবাহিনী। বিক্ষোভকারীরা পাল্টা হামলা চালিয়ে বিভিন্ন যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। ব্যাপক হারে ইটপাটকেল ও পাথর নিক্ষেপ করতে থাকে তারা। বিক্ষোভকারী নিহতের ঘটনায় দায়ীদের খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া দেশটির স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট গুয়াইদো। গতকাল বৃহস্পতিবার সরকারি চাকুরিজীবীদেরও ধর্মঘটে সামিল হবার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
নির্বাচনি কারচুপির অভিযোগ আর অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে এ বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভের সুযোগে ২৩ জানুয়ারি নিজেকে অন্তর্বতীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন গুয়াইদো। সোমবার মধ্যরাতে এক ভিডিও বার্তায় আকস্মিক অভ্যুত্থানের ঘোষণা দেন তিনি, যা তার সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
এদিকে, গুয়াইদোর এই অভ্যুত্থানে সমর্থন ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, আগামি দিনগুলোতে দেশটির পরিস্থিতি খুব সংকটজনক অবস্থার দিকে মোড় নেবে। তাই মাদুরোর প্রতি দায়িত্বশীল আচরনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বিবিসি জানায়, বুধবার সেনাবাহিনীর ব্যাপক গুলিবর্ষন ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবারও ব্যাপক বিক্ষোভ ও সমাবেশ হয়। বিক্ষোভকারীদের দেখলেই সেনাবাহিনী টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। এসময় গুয়াইদো নিজেও সমর্থকদের সঙ্গে রাজপথে ছিলেন। তিনি গতকাল জনতার উদ্দেশে বলেন, ‘সরকার যদি মনে করে আমরা ক্লান্ত হয়ে গেছি, তাহলে তারা ভুল করেছে। তারা কল্পনাও করতে পারছে না যে তাদের উপর কত বড় ঝড় আসছে।’ এরপর সর্থকদের উদ্দেশে বলেন, মাদুরোর পতন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের রাজপথে থাকতে হবে।
ভেনেজুয়েলার বিরোধীদল প্রায়ই মাদুরোবিরোধী বিশাল প্রতিবাদের আয়োজন করে, কিন্তু গভীর অর্থনৈতিক সঙ্কট ও মুদ্রাস্ফীতি থাকার পরও তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে না। প্রতিবাদকারীরা জানিয়েছেন, তাকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে এমন প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন তারা।
এদিকে, মাদুরো দেশ থেকে পালিয়ে কিউবাতে চলে যাওয়ার পরিকল্পনার করছেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। তবে পম্পেওর এমন দাবিকে রসিকতা বলে উল্লেখ করেছেন মাদুরো। গতকাল তিনিও একদল সেনা সদস্যকে নিয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলেন। তিনি বলেন, যতই ষড়যন্ত্র হোক, দেশের স্বার্থে তিনি ক্ষমতা ধরে রাখবেন।