খালেদা জিয়া সত্য কথা বলায় সরকারের আঁতে ঘা লেগেছে :মওদুদ

ওয়াশিংটন টাইমসে প্রকাশিত খালেদা জিয়ার নিবন্ধের বিষয়ে সংসদে সমালোচনার জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, বিরোধীদলীয় নেতার এই নিবন্ধ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়েছে। তিনি যা বলেছেন সত্য কথা বলেছেন। বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ১৬ কোটি মানুষের স্বার্থরক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ সব শুভাকাঙ্ক্ষী দেশের প তি খালেদা জিয়া আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু সংসদে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে। দুর্নীতি ও দুঃশাসন নিয়ে সত্য কথা বলায় সরকারি দলের আঁতে ঘা লেগেছে। গতকাল নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে মওদুদ একথা বলেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুক্তি এবং রুহুল কবির রিজভীর অবরুদ্ধ অবস্থা অবসানের দাবিতে এ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। নগরের দক্ষিণ শাখা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র আহবায়ক আলী রেজাউর রিপনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু, ড. আসাদুজ্জামান রিপন, আব্দুস সালাম, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, মনির হোসেন, মীর শরফত আলী শপু, শফিউল বারী বাবু উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে মিছিলটি বিজয়নগর, কাকরাইল মোড়, শান্তিনগর, মালিবাগ হয়ে মৌচাক এসে শেষ হয়। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে মওদুদ বলেন, শেখ হাসিনা বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে ওয়াশিংটন ও ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশে গিয়ে আমাদের সমালোচনা করেছেন, এমনকি অর্থ বন্ধ করে দেয়ার জন্য তদবির করেছেন। ফ্রান্সে গিয়ে সে দেশের এমপিদের বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একটি বিল আনার জন্য বলেছিলেন। আবার ফ্লোরিডায় গিয়ে বলেছিলেন বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। সমালোচনা বিএনপি সমর্থন করলেও সংসদের মতো একটি পবিত্র স্থানে এই ধরনের বক্তব্য আমরা আশা করি না। তিনি বলেন, সমালোচনা করেন তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু আমরা চাই সংসদে সত্য কথা বলা হোক। মওদুদ বলেন, আমাদের নেতা সরকারের দুর্নীতি ও দুঃশাসন নিয়ে বলেছেন। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কোনো কিছু গোপন থাকে না। সরকারের সর্বত্র দুর্নী। এই সরকারের দুর্নীতির বড় প্রমাণ হলো পদ্মা সেতু প্রকল্প। তিনি বলেন, বিশ্ববাসী সরকারের দুঃশাসন, দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিরোধী দলের ওপর নির্যাতনের বিষয় জানার পরও খালেদা জিয়া শুধু শুভাকাঙ্ক্ষী দেশগুলোকে এসব বিষয় স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বন্ধু রাষ্ট্রগুলো যাতে বাংলাদেশের গণতন্ত্র অব্যাহত থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখেন। মওদুদ আহমদ বলেন, স্বাধীনতার পর এই প্রথম মিথ্যা মামলায় একটি বৃহত্ রাজনৈতিক দলের মহাসচিব পর্যায়ের নেতাকে কারারুদ্ধ রাখা হয়েছে। আরেক নেতা রিজভী আহমেদ অবরুদ্ধ। তিনি বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত মহাসিচব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মুক্ত করে আনা হবে। এর পরে রিজভী আহমেদকেও মুক্ত করা হবে।