বিচার না পেয়ে ধর্ষিতার আত্মাহুতি

রংপুরে ধর্ষণের বিচার না পেয়ে লজ্জায়-অপমানে নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যা করেছে স্কুল ছাত্রী আফরোজা খাতুন (১৪)। গত ২২ জানুয়ারি নিজের দেহে আগুন ধরিয়ে দেয় এই নির্যাতিতা-অপমানিতা কিশোরী। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে রংপুর কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১১ দিন পর গতকাল শুক্রবার ভোরে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। হাসপাতালের চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, আফরোজার গলা থেকে কোমর পর্যন্ত এমনভাবে পুড়ে গিয়েছিল যে, তাকে কোনভাবেই বাঁচানো সম্ভব হতো না। ধর্ষক লেবু মিয়ার বিচার দাবি করেছে মৃতের পরিবার। পীরগাছা উপজেলার পারুল ইউনিয়নের দেউতি আদর্শপাড়ার আকবর আলীর কন্যা দেউতি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী আফরোজা খাতুন গত ২০ জানুয়ারি সন্ধ্যায় একই এলাকার কবিরাজের বাড়ি থেকে ওষুধ নিয়ে বাড়ি ফিরছিল। পথে একই এলাকার সফিয়ালের বখাটে পুত্র লেবু মিয়া (২৪) আফরোজার মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে পাশের জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষকের পরিবার মামলা না করে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য ২১ জানুয়ারি রাতে তার বাড়িতে সালিশ ডাকেন। সালিশে ধর্ষক লেবু মিয়াকে ধর্ষিতার পিতার হাত ধরে মাফ চাওয়ার সিদ্ধান্ত দেয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে ধর্ষিতার পরিবার। ধর্ষণের বিচার না পেয়ে লজ্জায়-অপমানে ২২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নিজের ঘরে কেরোসিন ঢেলে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় আফরোজা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মেয়েটির পরিবার দরিদ্র হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিত্সার জন্য বাইরে নিয়ে যেতে পারেনি। এদিকে ২২ জানুয়ারি ধর্ষিতার ভাই নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে লেবু মিয়াকে আসামি করে পীরগাছা থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। গত ৩০ জানুয়ারি রংপুরের পুলিশ সুপার ৩ দিনের মধ্যে ধর্ষক লেবু মিয়াকে গ্রেফতারের জন্য পীরগাছা থানার ওসিকে নির্দেশ দিলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এ ব্যাপারে পীরগাছা থানার ওসি বজলুর রশিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ধর্ষক লেবু মিয়া গা ঢাকা দেয়ায় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না।