দক্ষিণখানে শিশু সন্তানকে হত্যা করে পিতার আত্মহত্যা

রাজধানীর দক্ষিণখান থানার আশকোনা থেকে গতকাল পুলিশ পিতা ও আট বছরের শিশুকন্যার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে। পিতা বজলুর রশিদ (৪২) ও মেয়ে বর্ণালী। পুলিশ ও এলাকাবাসীসূত্রে জানা যায়, ৬৯৫ আসকোনা তোফাজ্জল হোসেন তালুকদারের টিনশেড বাড়ির ভাড়াটিয়া বজলুর রশিদ তার স্ত্রী ও ২ কন্যা নিয়ে দীর্ঘ ১০ বছর যাবত্ বসবাস করে আসছেন। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় বজলুর রশিদের স্ত্রী রিনা রহমান ও তার বড় মেয়ে ৮ম শ্রেণির ছাত্রী বর্ণিয়াকে নিয়ে উত্তরায় একটি মার্কেটে যান। এ সময় বজলুর রশিদ ও তার ছোট মেয়ে বিমানবন্দর সিভিল এভিয়েশন স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী বর্ণালীকে বাসায় রেখে যান। বেলা ১২টায় বজলুর রশিদের স্ত্রী মার্কেট থেকে বাসায় ফিরে দেখেন ঘরের দরজা তালাবদ্ধ। এ সময় বাড়ির মালিক তোফাজ্জল হোসেন তালুকদারের কাছে দরজা তালাবদ্ধ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাড়ির মালিক কিছু জানেন না বলে জানান এবং বাড়ির মালিক তখন দরজার ফাঁক দিয়ে দেখতে পান বজলুর রশিদের ঝুলন্ত লাশ। এরপর আশপাশের ভাড়াটিয়া লোকজন কান্নার শব্দ পেয়ে ছুটে আসে। পরে দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে দেখেন ফ্লোরে ৮ বছরের শিশুকন্যার লাশ পড়ে আছে, আর আড়ার সঙ্গে বজলুর রশিদের লাশ ঝুলছে। এ সময় বাড়ির মালিক দক্ষিণখান থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল এসে বর্ণালীর লাশ উদ্ধার করে এবং বজলুর রশিদের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার না করে সিআইডিকে খবর দেয়। নিহতের স্ত্রী রিনা রহমান জানান, আমাদের সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকতো। বজলুর রশিদের কর্মস্থলে তেমন কোন কাজ না থাকায় প্রায় সময় বাসায় থাকতো এবং আমাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোন দ্বন্দ্ব ছিল না। এ কথা বলে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বজলুর রশিদ বিমানবন্দর এলাকায় সিএন্ডএফ এর ব্যবসা করত। তাদের কখনো অভাব-অনটন ছিল কিনা তা বুঝা যায়নি। অভাবে থাকলেও কাউকে বুঝতে দিত না। এছাড়া এলাকায় কারো সাথে তার কোন দ্বন্দ্ব ছিল না। দক্ষিণখান থানা ওসি লোকমান হেকিম জানান, ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা এ নিয়ে তদন্তের স্বার্থে কিছু বলা যাচ্ছে না। এছাড়া পিতা ও ছোট বোনের লাশ দেখে ৮ম শ্রেণির ছাত্রী বর্ণিয়া স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলছে। বরিশাল জেলার উজিরপুর থানার চাঙ্গুরীয়া গ্রামের মৃত হাজী আফসারউদ্দিন হাওলাদারের ছেলে বজলুর রশিদ। পাশের রুমের ভাড়াটিয়া নাসিমা আক্তার জানান, বজলুর রশিদ অধিকাংশ সময় হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। কারো সাথে তেমন কোন কথা বলতেন না। কাজ না থাকলে বাসায় সময় কাটাতেন। নাসিমা আক্তার আরো জানান, তার শিশু সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে নিজেও আত্মহত্যা করবে বলে তার স্ত্রীর সাথে বলতেন। এ নিয়ে তার স্ত্রী তাকে বেশ কয়েকবার গালিগালাজ করতেন।