আন্তর্জাতিক বাজারে সুনাম হারাচ্ছে চিংড়ি
প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:২৬
অপদ্রব্য জেলি ও পানি পুশ করা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিংড়ি গ্রহণ ও সংরক্ষণ করার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাদা সোনা খ্যাত চিংড়ি শিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে সুনাম হারাতে বসেছে। এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও অতি মুনাফালোভীর কারণে বিদেশের বাজারে বাংলাদেশের চিংড়ি আমদানির আগ্রহ কমে যাচ্ছে। ফলে প্রকৃত চিংড়ি রফতানিকারকরা আশঙ্কা করছেন, এ অবস্থা রোধ করা না গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে চিংড়ি রফতানিতে চরম বিপর্যয় নেমে আসবে। এতে চিংড়ি শিল্প বন্ধ হয়ে যাওয়াসহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এক সময় গলদা চিংড়িতে পেরেক ঢুকিয়ে ওজন বৃদ্ধি করার অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিশাপ মোচন করা গেলেও এখন শুরু হয়েছে জেলি নামক অপদ্রব্য পুশ করার রমরমা বাণিজ্য। খুলনা মহানগরীর নতুনবাজার চরবস্তি এলাকা ও রূপসা উপজেলার পূর্ব রূপসা এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিংড়ি সংরক্ষণসহ অপদ্রব্য পুশের মত অপকর্ম চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। আর এ অপকর্মকারীদের কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চিংড়ি শিল্প এখন ধংসের মুখে।
সূত্র জানায়, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে মত্স্য অধিদফতরের পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগ, র্যাব ও খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ বিপুল পরিমাণ পুশকৃত গলদা চিংড়ি জব্দ, বিনষ্ট এবং জরিমানা আদায় করে। সর্বশেষ গত ২৭ জানুয়ারি নগরীর নতুন বাজার এলাকার ‘মা মনি ফিস’ নামে এক প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে অপদ্রব্য পুশকৃত ৭০ কেজি গলদা চিংড়ি উদ্ধার করে তা বিনষ্টসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও ২০ জানুয়ারি শাহ পরাণ ফিস থেকে অপদ্রব্য পুশকৃত ৩৫ কেজি চিংড়ি উদ্ধার ও ৬০ হাজার টাকা জরিমানা এবং গত ৬ জানুয়ারি মাসে দৌলতপুর থানার আড়ংঘাটায় খবির শেখকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে মত্স্য মান নিয়ন্ত্রণ ও পরিদর্শন বিভাগ নগরীতে ৬টি অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ২ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করে। ১৬ ডিসেম্বর পূর্ব রূপসা এলাকায় পুশকৃত ২০ কেজি চিংড়ি উদ্ধার এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, একই দিনে জাহিদ ফিস ট্রেডার্সকে ১০ হাজার টাকা এবং কিশোর মালাকারকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা, ১৩ ডিসেম্বর নতুন বাজার এলাকার শাহজালাল ফিস থেকে পুশকৃত ৩০ কেজি চিংড়ি উদ্ধার ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা , একই দিন এনামুল এন্টারপ্রাইজ থেকে ৫০ কেজি পুশকৃত চিংড়ি উদ্ধার ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা এবং মেঘলা ফিস থেকে অপদ্রব্য পুশকৃত ২৫ কেজি চিংড়ি উদ্ধার ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এর আগে ২০১২ সালে খুলনার মত্স্য অধিদফতর ও মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগ ৫ হাজার কেজি পুশকৃত চিংড়ি উদ্ধার ও বিনষ্ট এবং ৪৪ লাখ টাকা জরিমানা আদায়সহ ১৪ জনকে জেল হাজতে প্রেরণ করে।
সূত্র মতে মত্স্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগ, র্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান সত্ত্বেও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে থেমে নেই গলদা চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ। একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী নগরীর নতুন বাজার চর ও পূর্ব রূপসা এলাকায় ২/৩ মাসের জন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে অবৈধ এ পুশ কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সুনাম হারাচ্ছে এ অঞ্চলের চিংড়ি শিল্প। নতুনবাজার ও পূর্ব রূপসা এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী এ অবৈধ অপদ্রব্য পুশ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার শত চেষ্টা সত্ত্বেও অপদ্রব্য পুশের অবৈধ কারবার বন্ধ করা যাচ্ছে না।
এ ব্যাপারে খুলনা জেলা মত্স্য পরিদর্শক ও মান নিয়ন্ত্রণ পরিদর্শক আবুল হাসান জানান, চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ প্রতিরোধে তাদের দফতরসহ বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। পুশ প্রতিরোধে ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষকে আরও এগিয়ে আসতে হবে। তাহলে সম্মিলিতভাবে গলদা চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।