পাবনার পৌর মেয়রের দুর্নীতির অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক
প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:২৭
পাবনার পৌর মেয়র কামরুল হাসান মিন্টুর দুর্নীতির অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে নামে বেনামে অর্জিত সম্পত্তি তৈরি, পৌর ভূমি ব্যবহারে স্বেচ্ছাচারিতা, সংরক্ষিত ভূমির অপব্যবহার, দোকানের সেলামী দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, পাবনা বাস ও ট্রাক টার্মিনাল ইজারার দুর্নীতিসহ পৌর আইন ভঙ্গ করার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগটি গত ডিসেম্বর মাসে তদন্ত করতে অনুমোদন করেছে দুদক। এ ব্যাপারে রাজশাহী বিভাগীয় দুর্নীতি দমন কমিশন টিম অনুসন্ধান শুরু করেছে।
দুদকে জমা পড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, মেয়র কামরুল হাসান মিন্টু সরকারি সকল শর্ত ভঙ্গ করে পাবনা বাস টার্মিনাল সংলগ্ন ৫ বিঘা জমিতে অবৈধভাবে ১৭৫টি দোকান ঘর নির্মাণের জন্য তার ব্যবসায়িক পাটনার জনৈক আব্দুল গফুরকে দায়িত্ব দেয়। পরে আব্দুল গফুর এবং পৌর মেয়র মিন্টু সরকারি জমিতে নির্মিত এসব দোকানঘর প্রতিটি ৫ লাখ টাকায় পৌরসভার ভাড়াটিয়া শর্তে বিক্রি করেন। অথচ দোকানঘর বিক্রি বাবদ সাড়ে ৮ কোটি টাকার একটি টাকাও পাবনা পৌর তহবিলে জমা হয়নি। অথচ উক্ত ১৭৫টি দোকানঘরের মাসিক ভাড়া পৌর তহবিলে জমা দেখানো হয়েছে। এর বাইরে ওই জায়গায় মাটি ভরাট বাবদ ১৭৫ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেখিয়ে আত্মসাত্ করেন মিন্টু। এছাড়া পাবনা নারকেল বাজারে মেয়র মিন্টু বেআইনীভাবে ১৪০টি দোকান ঘর নির্মাণ করে প্রতিটি ৮ লাখ টাকা করে অন্তত ১১ কোটি টাকায় ওই দোকানঘরগুলো বিক্রি করেন। অথচ পৌর তহবিলে মাত্র এক লাখ ১২ হাজার টাকা জমা দেখানো হয়েছে।
অভিযোগে আরো বলা হয়, পাবনা মানসিক হাসপাতালের সামনে বাজারে তিনি পৌরসভার নিজস্ব জায়গায় ৩২টি দোকান নির্মাণ করে দেড় কোটি টাকায় বিক্রি করলেও পৌর তহবিলে মাত্র এক লাখ ১২ হাজার টাকা জমা দেখিয়েছেন। অপরদিকে পৌরসভার সড়ক নির্মাণের নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা লুট করেছেন পৌর মেয়র কামরুল হাসান মিন্টু। এছাড়াও পৌরসভার স্টেশনারি ও প্রিন্টিং খাতে বিপুল পরিমাণ টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। পৌরসভার রোলার ভাড়া দিয়েও পৌর তহবিলে টাকা না জমা দেয়া, বস্তি উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি বিষয়ে অভিযোগে উল্লেখ আছে।