রাজশাহীতে নেট হাউজে বীজআলু উত্পাদন
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৮:২৫
বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়। কিন্তু গড় ফলন হেক্টরপ্রতি প্রায় ১২ টন, যা অন্যান্য দেশের তুলনায় অত্যন্ত কম। অন্যান্য কারণগুলোর মধ্যে একটি কারণ হল ভাল বীজের অভাব।
বাংলাদেশে কৃষক পর্যায়ে টিস্যুকালচার আলুবীজের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। রাজশাহী অঞ্চলের কৃষকরা নিম্নমানের আলুবীজের ওপর নির্ভর না করে ঝুঁকছে টিস্যুকালচারের আলু বীজের ওপর। এই চাহিদা মাথায় রেখেই রাজশাহীতে কৃষক
পর্যায়ে গড়ে উঠেছে টিস্যুকালচার বীজ উত্পাদন খামার।
আর কৃষকরা বাঁশ ও নেট দিয়ে হাউজ বানিয়ে বীজ আলুর চাষ করছে। রাজশাহী অঞ্চলে নেট হাউজে প্ল্যান্টলেট বা আলুর অনুচারা লাগিয়ে আলুবীজ উত্পাদন করছে দেড় শতাধিক কৃষক। নেট হাউজে উত্পাদিত আলুর ব্রিডার বীজ বিক্রি হয় ৩শ’ টাকা থেকে ৫শ’ টাকা কেজি দরে।
রাজশাহীর পবা উপজেলার মল্লিকপুরের আবু হেনা মোস্তফা কামাল এবার নেট হাউজে ৩ হাজার প্ল্যান্টলেট, মোহনপুর উপজেলার খানপুরের নুর আলম আড়াই হাজার প্ল্যান্টলেট বা অনুচারা লাগিয়েছে। বাগমারা উপজেলার দক্ষিণ জামালপুর গ্রামের আলী আফজাল মৃধা নেট হাউজে দেড় হাজার প্ল্যান্টলেট ও টিস্যুকালচারের বীজআলুর চাষ করেছে। তারা বলেছে, আর কয়েকদিন আবহাওয়া ভাল থাকলে প্রত্যেকের নেট হাউজে আলুর ফলন ভাল হবে। দেরীতে হলেও এবার তাদের আলুর আবাদ ভাল হয়েছে।
বীজআলু উত্পাদক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান কাজী বলেন, গত ৫ বছরে নেট হাউজের মাধ্যমে টিস্যুকালচার আলুবীজ উত্পাদন করে সফল হয়েছেন অনেক কৃষক। তাদের সমিতির প্রায় ৫ শতাধিক কৃষক বীজআলু চাষ করে লাভবান হয়েছে।
রাজশাহী কৃষি গবেষণা পরিষদের সম্পাদক ড. মাহাবুবে আলম বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়। কৃষক পর্যায়ে এর গড় ফলন হয় হেক্টরপ্রতি প্রায় ১২ টন। এর একটি কারণ ভাল বীজের অভাব। রাজশাহী অঞ্চলে নেট হাউজে আলুবীজ উত্পাদন জন্ম দিয়েছে এক নীরব কৃষি বিপ্লবের।
বাংলাদেশে আলুবীজ উত্পাদনের এই সাফল্যে দারুণ আশাবাদী টিস্যুকালচার আলুবীজের গবেষক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মুনজুর হোসেন। তিনি ১৯৮৭ সাল থেকে টিস্যুকালচারের আলু নিয়ে গবেষণা করছেন। টিস্যুকালচার পদ্ধতি উদ্ভাবিত হওয়ায় উন্নতমানের বীজআলু তথা সামগ্রিক আলু উত্পাদন ক্ষেত্রে বৈপ্ল্লবিক পরিবর্তন এসেছে। টিস্যুকালচারের মাধ্যমে উত্পাদিত রোগমুক্ত বীজ ব্যবহার করে বাংলাদেশে আলুর ফলন ৩০ ভাগ বেড়েছে। তিনি আরো বলেন, কৃষক পর্যায়ে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারের শিক্ষা কীভাবে একটি এলাকার কৃষির চিত্র পাল্টে দিতে পারে তা এ সব চাষিদের নেট হাউজ দেখলে বুঝা যায়।
লেখক:সাংবাদিক, রাজশাহী