সত্যজিত্ রায় : সর্বশ্রেষ্ঠ মানব দলিলের নির্মাতা

রবীন্দ্রনাথের পর বিশ্বে বাংলাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। রবীন্দ্রনাথ অর্জন করেছিলেন নোবেল পুরস্কার আর সত্যজিত্ রায়ের চলচ্চিত্র জয় করেছিল বিশ্ব। তার পথের পাঁচালী চলচ্চিত্রটি বিশ্বে ‘সর্বশ্রেষ্ঠ মানব দলিল’ এর খেতাব অর্জন করে।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাঙালি চলচ্চিত্রকার সত্যজিত্ রায়ের ৯৮ তম জন্মদিন ছিল গতকাল বৃহস্পতিবার। বাংলাদেশ ও ভারতে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয় তাকে।

পথের পাঁচালী, অপুর সংসার ও অপরাজিত— এই তিনটি চলচ্চিত্র তাকে বিশ্বজোড়া খ্যাতি এনে দেয়। এরপর তার প্রতিটি চলচ্চিত্রই সারাবিশ্বের সিনেমাপ্রেমী মানুষের            কাছে সমাদর পেয়েছে। শুধু চলচ্চিত্র কেন লেখক হিসেবেও তিনি ছিলেন সমান জনপ্রিয়। তার সৃষ্ট চরিত্র ফেলুদা ও শঙ্কু এখনো সমানভাবে পাঠকের কাছে সমাদৃত। আলোকচিত্রী, চিত্রকর, শিশুসাহিত্যিক ও সঙ্গীতজ্ঞ হিসেবেও তিনি যথেষ্ট খ্যাতি পেয়েছেন।

১৯২১ সালের ২ মে তিনি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস ছিল বৃহত্তর ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জ জেলার মসুয়া গ্রামে। পিতা প্রখ্যাত লেখক, সম্পাদক ও আলোকচিত্রী সুকুমার রায় ছিলেন রয়াল ফটোগ্রাফিক সোসাইটি অব গ্রেট ব্রিটেন-এর ফেলো। তার মাতা সুপ্রভা রায় ছিলেন একজন সংগীতশিল্পী। পিতামহ উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরীও ছিলেন প্রখ্যাত লেখক, শিশুসাহিত্যিক, চিত্রকর, আলোকচিত্রী এবং শিশুতোষ পত্রিকা সন্দেশ (১৯১৩)-এর সম্পাদক। ১৯৯২ সালের ২৩ এপ্রিল কলকাতায় সত্যজিত্ রায়ের মৃত্যু হয়।

তিনি ভারত সরকারের কাছ থেকে ৪০টি পুরস্কার এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ৬০টি পুরস্কার লাভ করেন। এসবের মধ্যে রয়েছে দেশ-বিদেশের বহু বিশ্ববিদ্যালয়ের অনারারি ডক্টরেট ডিগ্রি, বিশ্বভারতীর ‘দেশিকোত্তম’, ‘দাদা সাহেব ফালকে’ পুরস্কার, ম্যাগসেসেই পুরস্কার, ফ্রান্সের ‘লিজিয়ন অব অনার’ (১৯৮৭), ‘ভারতরত্ন’ (১৯৯২), বিশেষ ‘অস্কার’ (১৯৯২) পুরস্কার ইত্যাদি।