ঋণের সুদ হার আরও হ্রাস করা প্রয়োজন

বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের জন্য প্রবৃদ্ধি অর্জন ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সমান গুরুত্ব দিয়ে একটি ভারসাম্যমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বলে উল্লেখ করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ (ডিসিসিআই)। গতকাল মুদ্রানীতির উপর এক বিশ্লেষণে চেম্বারের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘোষিত মূদ্রানীতি সফলভাবে বাস্তবায়ন জরুরী এবং ঋণের সুদের হার আরও হ্রাস করা প্রয়োজন। মুদ্রানীতিতে রাজস্ব নীতি ও আর্থিক নীতিমালার মধ্যে সমন্বয় সাধনের ইংগিত দেয়া হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থা তৈরী করতে সহায়ক হবে। ঢাকা চেম্বার মনে করে, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনয়ন, ব্যাংক হতে সরকারের ব্যয় নির্বাহে ঋণ গ্রহণের যে লক্ষ্যমাত্রা আছে তার চেয়ে বেশী ঋণ না নেয়া এবং যোগসাজশ করে মূল্য বৃদ্ধিতে সহায়তাকারী সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা গেলে নতুন মুদ্রানীতি সফল হবে। এ মুদ্রানীতির চ্যালেঞ্জগুলো হচ্ছে, গড় মূল্যস্ফীতিকে সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার জন্য সঠিক উদ্যোগ গ্রহণ করা ও এর সঠিক ব্যবস্থাপনা, দেশের পুঁজিবাজারের কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা ও গতিশীলতা আনয়নে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ, প্রকৃত উত্পাদনশীল খাতে ঋণ প্রবাহ নিশ্চিতকরণ, ভোক্তা ঋণকে নিয়ন্ত্রণে রাখা, অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বাড়ানো, রেমিটেন্সের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি বাড়ানো, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ব্যবস্থাপনার মান বাড়ানো এবং সর্বোপরি এসব লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন ও মনিটরিং হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং। অন্যদিকে এ মুদ্রানীতির উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক দিকগুলো হচ্ছে, বেসরকারি খাতে ঋণ যোগানের উর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি করে ১৮ দশমকি ৫ শতাংশ, ক্ষুুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাসহ সকল উত্পাদনশীল খাতে ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যমাত্রা, ব্যাপক মুদ্রার যোগান প্রবৃদ্ধির সীমা বৃদ্ধি করাসহ ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি হ্রাস করা মুদ্রানীতির ইতিবাচক দিক। তাছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের রেপো ও রিভার্স রেপোর সুদ হার দশমিক পাঁচ শতাংশ কমানো, অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি করে ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ করা, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সুদ হারের স্প্রেড হ্রাস করার পদক্ষেপ গ্রহণ, সম্পদ মূল্য বুদবুদকে নিরুত্সাহিতকরণ ইত্যাদিও ইতিবাচক। মুদ্রানীতিতে উল্লেখিত এগুলো বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি খাতে অর্থায়নে গতিশীলতা আসবে এবং শিল্প ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে বলে চেম্বারের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে।