খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার অচলাবস্থা নিরসনের উদ্যোগ নেই খেলাধুলা বন্ধ এক বছর
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:২৫
নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণে খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থায় (কেডিএসএ) অচলাবস্থা এখনো কাটেনি। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অচলাবস্থা নিরসনের কোন উদ্যোগও নেই। ফলে গত এক বছর ধরে খুলনায় কেডিএসএ নিয়ন্ত্রিত সব ধরনের খেলাধুলা বন্ধ রয়েছে। মাঠে খেলা না থাকায় একদিকে যেমন খেলোয়াড়রা হতাশ হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে ঐতিহ্য হারাচ্ছে খুলনার ক্রীড়াঙ্গন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তখন ভোটার তালিকায় ভুয়া ভোটার অন্তর্ভুক্তির অভিযোগে আদালতে মামলা হওয়ায় নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ প্রায় এগারো মাস অতিবাহিত হলেও কোন ধরনের খেলার আয়োজন করেনি জেলা ক্রীড়া সংস্থা। জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন করে খেলার আয়োজন করতে হলে ভোটার তালিকা সংশোধন করতে হবে; তাতে ক্লাবগুলো মামলা করতে পারে। তবে অন্যরা বলছেন, নতুন করে টুর্নামেন্ট আয়োজন করলে ভোটার তালিকা সংশোধন করতে হবে। তাতে কিছু কর্মকর্তার তৈরি ভোটার বাদ পড়ে যাবে। এ কথা জেনেই একটি পক্ষ খেলাধুলা বন্ধ রেখেছে। খুলনায় প্রিমিয়ার ডিভিশন এবং প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগ প্রতিবছরই আয়োজন করা হতো। কিন্তু গত এক বছর ধরে খুলনায় কোন ক্রিকেট লীগ হচ্ছে না। একইভাবে বন্ধ রয়েছে বাস্কেটবল, ব্যাটমিন্টন, টেবিল টেনিস, ভলিবল ও কাবাডি লিগ। খেলাধুলা বন্ধ থাকার কারণে খেলোয়াড়রাও হতাশ হয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি খেলাধুলার আয়োজন না করাসহ বিভিন্ন কারণে কেডিএসএ’র ২২ নির্বাচিত সদস্যের মধ্যে ১৪ জন পদত্যাগ করেন। এতে সমস্যা আরো ঘনীভূত হয়। এখন কমিটি ভেঙ্গে এডহক কমিটি হবে, নাকি এই কমিটির অধীনে নির্বাচন হবে সেটি ঠিক করতেই সময় পার করছেন জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এ ব্যাপারে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কাজী শামীম আহসান বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করতে হবে। এছাড়া অন্য কোন উপায় নেই। অন্যদিকে সদ্য পদত্যাগ করা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি আজমল আহম্মেদ তপন বলেন, মোট ভোটারের অর্ধেকই ভুয়া। তাছাড়া বর্তমান পরিষদের অর্ধেকের বেশি সদস্য পদত্যাগ করেছেন। এই কমিটির অধীনে নির্বাচন হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে চলা অচলাবস্থা নিরসনের উদ্যোগ না নেয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছে খেলোয়াড় ও ক্রীড়ানুরাগীরা। তাদের বক্তব্য যেভাবেই হোক মাঠে খেলা ফিরিয়ে আনতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে চলা অচলাবস্থা নিরসনে তারা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, স্থানীয় সিটি মেয়র ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।